উত্তমকে ‘শাস্তি’ দিলেও শাহজাহান-শিবুকে কেন ‘ছাড়’ দিল তৃণমূল?

author img

By ETV Bharat Bangla Desk

Published : Feb 10, 2024, 8:22 PM IST

Updated : Feb 10, 2024, 10:30 PM IST

Trinamool Congress

Trinamool Congress: উত্তম সরদারকে সাসপেন্ড করেছে তৃণমূল কংগ্রেস ৷ ছ’বছরের জন্য তাঁকে সাসপেন্ড করা হয় ৷ কিন্তু শেখ শাহজাহান, শিবপ্রসাদ ওরফে শিবু হাজরার বিরুদ্ধে কেন ব্যবস্থা নেওয়া হল না, সেই প্রশ্নও উঠছে ৷ বিরোধীরা অবশ্য বলছে যে উত্তমের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা আসলে লোকদেখানো ৷

সন্দেশখালি, 10 ফেব্রুয়ারি: শেখ শাহজাহান, শিবপ্রসাদ ওরফে শিবু হাজরা এবং উত্তম সর্দার - গত কয়েকদিনে উত্তর 24 পরগনার সন্দেশখালিতে স্থানীয়দের বিক্ষোভ বারবার উঠে এসেছে এই তিনজন তৃণমূল কংগ্রেস নেতার নাম ৷ এই তিনজনের বিরুদ্ধে একাধিক অভিযোগ তুলেছেন গ্রামের মহিলারা ৷ তার পরও শনিবার শাসক দলের তরফে ছ’বছরের সাসপেন্ড করা হয়েছে শুধুমাত্র উত্তম সর্দারকে ৷ স্বাভাবিকভাবেই তাই প্রশ্ন উঠছে, এক যাত্রায় পৃথক ফল কেন ? উত্তমকে শাস্তি দেওয়া হলেও কেন ছাড় দেওয়া হল শেখ শাহজাহান ও শিবু হাজরাকে ?

উল্লেখ্য, গত বুধবার থেকে সন্দেশখালিতে স্থানীয় বাসিন্দারা বিক্ষোভ দেখাচ্ছেন ৷ সেই বিক্ষোভে নেতৃত্ব দিচ্ছেন এলাকার মহিলারা ৷ শনিবার প্রশাসনের তরফে 144 ধারা জারি হওয়ায় বিক্ষোভ দেখা যায়নি ৷ তবে গত তিনদিন বিক্ষোভের জেরে ভয়ঙ্কর পরিস্থিতি তৈরি হয়েছিল সন্দেশখালিতে ৷ তিন জনের বিরুদ্ধেই হাজারো অভিযোগ গ্রামবাসীদের । তাঁদের অভিযোগ, দিনের পর দিন শাহজাহান, শিবু, উত্তম ও তাঁর সহযোগীরা গ্রামবাসীদের শোষণ ও জুলুমবাজি করে নিজেদের সম্পত্তির বহর বাড়িয়েছেন ৷ গ্রামবাসীদের সঙ্গে অভব্য আচরণ, গ্রামবাসীদের বঞ্চিত করে উন্নয়নের টাকা হাতিয়ে নেওয়ার অভিযোগ এই তিনজনের বিরুদ্ধে ৷

গত তিনদিন এলাকার আদিবাসী মহিলারা তাই তাঁদের গ্রেফতার চেয়ে পথে নেমে সরব হন ৷ কিন্তু পুলিশ এখনও তাদের গ্রেফতার করতে পারেনি ৷ তারই মধ্যে শাহজাহান ঘনিষ্ঠ তৃণমূল নেতা উত্তম সর্দারকে ছ'বছরের জন্য সাসপেন্ড করল শাসক শিবির । উত্তম সর্দারের কাঁধে সন্দেশখালি অঞ্চলে তৃণমূলের সভাপতির দায়িত্ব ছিল ৷ পাশাপাশি তিনি জেলা পরিষদের সদস্যও বটে । ছ'বছরের জন্য দল সাসপেন্ড করায় শনিবার থেকে তিনি আর সন্দেশখালি অঞ্চলে তৃণমূলের সভাপতি পদে থাকতে পারবেন না ।

অনেকে বলছেন, গ্রামবাসীদের ক্ষোভ প্রশমনে উত্তমের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হল ৷ কিন্তু তাহলে শাহজাহান ও শিবুকে ছাড় দেওয়া হল কেন ? শেখ শাহজাহান এবং তাঁর ঘনিষ্ঠ নেতা শিবু হাজরার বিরুদ্ধেও তো একাধিক অভিযোগ রয়েছে । শাহজাহানের মতো শিবুও তৃণমূলের গুরুত্বপূর্ণ পদে রয়েছেন । সন্দেশখালি 2 নম্বর ব্লকের তৃণমূল সভাপতির পাশাপাশি জেলা পরিষদের সদস্যও শিবু হাজরা ।

ওয়াকিবহাল মহলের মতে, তৃণমূল নেতা উত্তম সর্দারের বিরুদ্ধে দল কড়া পদক্ষেপ নিতে পারলেও বাকি দু'জন শেখ শাহজাহান এবং শিবু হাজরার বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিতে গিয়ে দু'বার ভাবতে হচ্ছে শাসক শিবিরকে ! সামনেই লোকসভা নির্বাচন । তাই, শাহজাহান এবং শিবুর বিরুদ্ধে কড়া কোনও পদক্ষেপ নিলে তার নেতিবাচক প্রভাব পড়তে পারে ভোটে । তাছাড়া ভোট পরিচালনার ক্ষেত্রেও সন্দেশখালির দাপুটে এই দুই তৃণমূল নেতাকে কাজে লাগতে পারে ঘাসফুল শিবির । সেই কারণে তাঁদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার আগে এই বিষয়টিও ভাবতে হচ্ছে তৃণমূল নেতৃত্বকে ।

তবে, বিরোধীরা একে লোকদেখানো বলেই মনে করছে । এই নিয়ে সিপিএমের উত্তর 24 পরগনা জেলা সম্পাদকমণ্ডলীর সদস্য আহমেদ আলি খান বলেন, "শাহজাহান ও শিবু হাজরাকে বাঁচাতেই বলির পাঁঠা করা হয়েছে উত্তম সর্দারের । গোটাটাই নাটক ছাড়া আর কিছুই নয় । সাসপেন্ড কেন ! সাহস থাকলে দলের ওই তিন নেতাকে গ্রেফতার করে দেখাক তৃণমূল । তাহলেই বুঝব ওদের দম আছে ।"

এই বিষয়ে বিজেপির বসিরহাট সাংগঠনিক জেলার ইনচার্জ শংকর চট্টোপাধ্যায় বলেন, "গ্রামবাসীদের ক্ষোভের মূলে তো শাহজাহান, শিবু, উত্তম । তিনজনই রয়েছে । তাহলে শুধু উত্তম কেন ? তার মানে গোটাটাই লোকদেখানো । আমাদের ধারণা সন্দেশখালি বিক্ষোভ কাণ্ডের ইস্যু ঘোড়াতেই 'সাসপেন্ড' ইস্যু সামনে আনা হয়েছে । যাতে মানুষের মধ্যে সহানুভূতি তৈরি করা যায় । এভাবে সন্দেশখালির মানুষকে বোকা বানানো যাবে না ।"

যদিও এই নিয়ে সন্দেশখালির তৃণমূল বিধায়ক সুকুমার মাহাতোর প্রতিক্রিয়া নেওয়ার জন্য ফোন করা হলেও তিনি ফোন ধরেননি । ফলে, বিধায়কের কোনও প্রতিক্রিয়া মেলেনি এই বিষয়ে ।

আরও পড়ুন:

  1. সন্দেশখালিকে শান্ত করতে অনির্দিষ্টকালের জন্য 144 ধারা জারি প্রশাসনের, বন্ধ হচ্ছে ইন্টারনেট পরিষেবাও
  2. বন্দুক হাতে প্রকাশ্যে সন্দেশখালিতে দাপাদাপি দুষ্কৃতীর, পুলিশের ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন
  3. 144 ধারা জারি থাকায় সন্দেশখালিতে বিজেপির প্রতিনিধি দলকে বাধা পুলিশের
Last Updated :Feb 10, 2024, 10:30 PM IST
ETV Bharat Logo

Copyright © 2024 Ushodaya Enterprises Pvt. Ltd., All Rights Reserved.