ETV Bharat / state

Tea Industry Concern: আবহাওয়ার খামখেয়ালিপনায় উত্তরে বিপন্ন চা-শিল্প, পোকার আক্রমণে নাজেহাল চা-বাগান কর্তৃপক্ষ

author img

By

Published : Aug 2, 2022, 1:10 PM IST

উত্তরবঙ্গে কখনও 40 ডিগ্রি সেলসিয়াস তাপমাত্রা দেখা যায়নি ৷ এদিকে জুন-জুলাই, দু'মাসেই প্রবল বৃষ্টি চা চাষকে প্রভাবিত করেছে ৷ আর্দ্র আবহাওয়ায় চা পাতায় পোকা ধরেছে ৷ অন্যদিকে প্রবল রোদ্দুরে চা পাতা ঝলসে যাচ্ছে ৷ এছাড়া আরও বেশ কিছু কারণে চা-শিল্প নিয়ে দুশ্চিন্তায় চা-বাগান কর্তৃপক্ষরা (Tea Industry Concern) ৷

Tea Garden faces loss over worm attack
ভরা মরশুমে চাবাগানে পোকার হানা

শিলিগুড়ি, 2 অগস্ট: আবহাওয়ার খামখেয়ালিপনায় বিপুল ক্ষতির মুখে উত্তরের চা-শিল্প । কখনও অতিবৃষ্টি, আবার কখনও তীব্র দাবদাহ । গোদের উপর বিষফোঁড়া । তাপমাত্রার ওঠানামা ও বাতাসে আর্দ্রতা কমে যাওয়ায় পোকামাকড়ের আক্রমণ গত দশ বছরের তুলনায় তিনগুন বেড়ে গিয়েছে । এতে ফের দুশ্চিন্তায় চা-বাগান কর্তৃপক্ষ (Tea Industry faces major problem as natural disaster affects Tea gardens in Uttarbanga) ।

সামনে পুজো । করোনা-পরবর্তী সময়ে শ্রমিকের মজুরি বেড়েছে । তাই তাঁদের পুজোর বোনাসও দিতে হবে । এদিকে, সব মিলিয়ে উত্তরবঙ্গে চায়ের উৎপাদন প্রায় 40 শতাংশ কমে গিয়েছে । আর যেটুকু উৎপাদন হয়েছে, তার গুণগতমান ঠিক রাখার চেষ্টা করলেও মিলছে না সঠিক দাম ৷ এই অবস্থায় সরকারি হস্তক্ষেপ ছাড়া আরও কোনও রাস্তা দেখছেন না চা-বাগান কর্তৃপক্ষ ।

উত্তরবঙ্গের অর্থনীতির অন্যতম মেরুদণ্ড হল উত্তরের চা-শিল্প । এখানকার চা শুধু দেশেই নয়, পাড়ি দিয়েছে বিদেশেও । এতে গোটা দেশে তো বটেই, বিদেশেও প্রশংসা কুড়িয়েছে রাজ্যের চা । উত্তরবঙ্গে ছোট-বড় মিলিয়ে 276টি চা বাগান রয়েছে । কিন্তু গত দু'মাসে তাপমাত্রা কখনও 40 ডিগ্রিতে উঠেছে, তো কখনও মেঘ, আবার অতিবৃষ্টি । টানা বৃষ্টিতে বাগানে জল জমে চা গাছ নষ্ট হয়ে গিয়েছে । এই বৃষ্টি ও মেঘলা আবহাওয়ার কারণে সিঁদুরকুলো, লালবিছে বা রুপোর মতো পোকামাকড়েরও উপদ্রবও বেড়েছে ।

উত্তরবঙ্গে একাধিক সমস্যায় জেরবার চা শিল্প

আরও পড়ুন: 5 বছর পর গঠিত টি অ্যাডভাইজারি কাউন্সিলে নেই চা বাগানের প্রতিনিধি

অন্যদিকে, আইনি জটিলতায় পোকা দমনে কীটনাশক প্রয়োগ করতে পারছেন না চা-বাগান কর্তৃপক্ষ । ফলে তরাই ও ডুয়ার্স এলাকায় অধিকাংশ চা-বাগানে পাতা নষ্ট হয়ে গিয়েছে । দুই এলাকায় বছরের এই সময় যে পরিমাণ চা উৎপাদন হয়, তার অনেকটাই কমে গিয়েছে এবছর । জানা গিয়েছে, ডুয়ার্সে উৎপাদন কমেছে প্রায় 21-22 শতাংশ । তরাইয়ে 19-20 শতাংশ । এতে মাথায় হাত চা-বাগান মালিকদের ।

একটি চা বাগানের ম্যানেজার জ্ঞানপ্রকাশ দীক্ষিত বলেন, "আবহাওয়ার খামখেয়ালিপনা আর পোকার উপদ্রপে আমরা নাজেহাল । উৎপাদন কমে যাওয়ায় বাগানের আয় অনকেটাই কমেছে । কিন্তু খরচ তো একই রয়েছে, তার উপর সামনের পুজোয় শ্রমিকদের বোনাস দিতে গিয়ে সমস্যায় পড়তে হবে ।"

টি অ্যাসোসিয়েশন অফ ইন্ডিয়ার উত্তরবঙ্গ তরাই ও ডুয়ার্স শাখার সম্পাদক সুমিত ঘোষ বলেন, "প্রবল বৃষ্টিতে প্রচুর চা-বাগান ভূমিক্ষয়ে নদীগর্ভে চলে যাচ্ছে ।" তিনি জানান তাপমাত্রা পরিবর্তনের ফলে যখন পাতা ঝলসে যাচ্ছে, তখন আবার মেঘলা আবহাওয়ায় অধিকাংশ চা-পাতায় পোকা লেগে গিয়েছে । স্বাভাবিকভাবে উৎপাদন কমে যাওয়ায় চা শিল্পের উপর এর একটা বড় প্রভাব পড়ছে ।

আরও পড়ুন: কেন্দ্রের বাজেটে ব্রাত্য চা শিল্প, হতাশ চা শিল্পপতিরা

শিলিগুড়ি, 2 অগস্ট: আবহাওয়ার খামখেয়ালিপনায় বিপুল ক্ষতির মুখে উত্তরের চা-শিল্প । কখনও অতিবৃষ্টি, আবার কখনও তীব্র দাবদাহ । গোদের উপর বিষফোঁড়া । তাপমাত্রার ওঠানামা ও বাতাসে আর্দ্রতা কমে যাওয়ায় পোকামাকড়ের আক্রমণ গত দশ বছরের তুলনায় তিনগুন বেড়ে গিয়েছে । এতে ফের দুশ্চিন্তায় চা-বাগান কর্তৃপক্ষ (Tea Industry faces major problem as natural disaster affects Tea gardens in Uttarbanga) ।

সামনে পুজো । করোনা-পরবর্তী সময়ে শ্রমিকের মজুরি বেড়েছে । তাই তাঁদের পুজোর বোনাসও দিতে হবে । এদিকে, সব মিলিয়ে উত্তরবঙ্গে চায়ের উৎপাদন প্রায় 40 শতাংশ কমে গিয়েছে । আর যেটুকু উৎপাদন হয়েছে, তার গুণগতমান ঠিক রাখার চেষ্টা করলেও মিলছে না সঠিক দাম ৷ এই অবস্থায় সরকারি হস্তক্ষেপ ছাড়া আরও কোনও রাস্তা দেখছেন না চা-বাগান কর্তৃপক্ষ ।

উত্তরবঙ্গের অর্থনীতির অন্যতম মেরুদণ্ড হল উত্তরের চা-শিল্প । এখানকার চা শুধু দেশেই নয়, পাড়ি দিয়েছে বিদেশেও । এতে গোটা দেশে তো বটেই, বিদেশেও প্রশংসা কুড়িয়েছে রাজ্যের চা । উত্তরবঙ্গে ছোট-বড় মিলিয়ে 276টি চা বাগান রয়েছে । কিন্তু গত দু'মাসে তাপমাত্রা কখনও 40 ডিগ্রিতে উঠেছে, তো কখনও মেঘ, আবার অতিবৃষ্টি । টানা বৃষ্টিতে বাগানে জল জমে চা গাছ নষ্ট হয়ে গিয়েছে । এই বৃষ্টি ও মেঘলা আবহাওয়ার কারণে সিঁদুরকুলো, লালবিছে বা রুপোর মতো পোকামাকড়েরও উপদ্রবও বেড়েছে ।

উত্তরবঙ্গে একাধিক সমস্যায় জেরবার চা শিল্প

আরও পড়ুন: 5 বছর পর গঠিত টি অ্যাডভাইজারি কাউন্সিলে নেই চা বাগানের প্রতিনিধি

অন্যদিকে, আইনি জটিলতায় পোকা দমনে কীটনাশক প্রয়োগ করতে পারছেন না চা-বাগান কর্তৃপক্ষ । ফলে তরাই ও ডুয়ার্স এলাকায় অধিকাংশ চা-বাগানে পাতা নষ্ট হয়ে গিয়েছে । দুই এলাকায় বছরের এই সময় যে পরিমাণ চা উৎপাদন হয়, তার অনেকটাই কমে গিয়েছে এবছর । জানা গিয়েছে, ডুয়ার্সে উৎপাদন কমেছে প্রায় 21-22 শতাংশ । তরাইয়ে 19-20 শতাংশ । এতে মাথায় হাত চা-বাগান মালিকদের ।

একটি চা বাগানের ম্যানেজার জ্ঞানপ্রকাশ দীক্ষিত বলেন, "আবহাওয়ার খামখেয়ালিপনা আর পোকার উপদ্রপে আমরা নাজেহাল । উৎপাদন কমে যাওয়ায় বাগানের আয় অনকেটাই কমেছে । কিন্তু খরচ তো একই রয়েছে, তার উপর সামনের পুজোয় শ্রমিকদের বোনাস দিতে গিয়ে সমস্যায় পড়তে হবে ।"

টি অ্যাসোসিয়েশন অফ ইন্ডিয়ার উত্তরবঙ্গ তরাই ও ডুয়ার্স শাখার সম্পাদক সুমিত ঘোষ বলেন, "প্রবল বৃষ্টিতে প্রচুর চা-বাগান ভূমিক্ষয়ে নদীগর্ভে চলে যাচ্ছে ।" তিনি জানান তাপমাত্রা পরিবর্তনের ফলে যখন পাতা ঝলসে যাচ্ছে, তখন আবার মেঘলা আবহাওয়ায় অধিকাংশ চা-পাতায় পোকা লেগে গিয়েছে । স্বাভাবিকভাবে উৎপাদন কমে যাওয়ায় চা শিল্পের উপর এর একটা বড় প্রভাব পড়ছে ।

আরও পড়ুন: কেন্দ্রের বাজেটে ব্রাত্য চা শিল্প, হতাশ চা শিল্পপতিরা

ETV Bharat Logo

Copyright © 2024 Ushodaya Enterprises Pvt. Ltd., All Rights Reserved.