সিপিএমের সমালোচনা, বিধানসভা নির্বাচনে 230 আসনে প্রতিদ্বন্দ্বিতায় এসইউসিআই
সোমবার লেনিন সরণিতে দলের রাজ্য অফিসে রাজ্য সম্পাদক চণ্ডীদাস ভট্টাচার্য্য-সহ রাজ্য নেতৃত্ব প্রার্থীদের নামের তালিকা ঘোষণা করেন।

Published : March 16, 2026 at 9:08 PM IST
কলকাতা, 16 মার্চ: ছাব্বিশের বিধানসভা নির্বাচনে এসইউসিআই(সি) এককভাবে রাজ্যের 230টি কেন্দ্রে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছে। সোমবার লেনিন সরণিতে দলের রাজ্য অফিসে রাজ্য সম্পাদক চণ্ডীদাস ভট্টাচার্য্য-সহ রাজ্য নেতৃত্ব প্রার্থীদের নামের তালিকা ঘোষণা করেন।
কিন্তু, ভোট রাজনীতিতে জয়ের ব্যাপারে তাঁরা ততটা আকাঙ্ক্ষিত নয়। বরং, গণআন্দনের অংশ হিসেবে নির্বাচন দেখছেন তাঁরা। গত বিধানসভা নির্বাচনে অর্থাৎ একুশের বিধানসভা নির্বাচনে 184 আসনে এসইউসিআই দিয়েছিল। যদিও অন্যান্য বামপন্থী রাজনৈতিক দলগুলোর মতো সিকি ছিঁড়তে পারেনি। তবে, দেশ ও রাজ্যের বর্তমান রাজনৈতিক পরিস্থিতিতে সিপিআই(এম) সহ বামপন্থী দলগুলির ভূমিকা নিয়ে কটাক্ষ করেছেন এসইউসিআই(সি) রাজ্য সম্পাদক চণ্ডীদাস ভট্টাচার্য্য।
এসইউসিআই(সি) রাজ্য সম্পাদক বলেন, "কেন্দ্র ও রাজ্যের শাসক দলগুলির বিরুদ্ধে যখন শক্তিশালী বামপন্থী আন্দোলন গড়ে তোলার প্রয়োজন ছিল তখন সিপিআই(এম) সহ বামপন্থী পরিচয় দানকারী দলগুলির ভূমিকা খুবই দুঃখজনক। কয়েকটি আসনের জন্য যে কংগ্রেস সরকারের বিরুদ্ধে সুদীর্ঘ লড়াই করে বামপন্থী আন্দোলনের মর্যাদা ও গৌরব, সেই কংগ্রেসের সঙ্গে সারা ভারতে ঐক্য এবং এরাজ্যে ঐক্য করার চেষ্টা সহ সাম্প্রদায়িক শক্তির সঙ্গে ঐক্য গড়ে তুলেছে। বহু বাম মনোভাবাপন্ন মানুষ এতে মর্মাহত।"
চণ্ডীদাস ভট্টাচার্য্য বলেন, "আমাদের দল কেন্দ্র ও রাজ্য সরকারগুলির জনবিরোধী নীতির বিরুদ্ধে গণ আন্দোলন এবং শ্রেণি সংগ্রাম গড়ে তোলার উদ্দেশ্যে মার্ক্সবাদী চিন্তানায়ক শিবদাস ঘোষের শিক্ষার ভিত্তিতে জনগণের নিজস্ব রাজনৈতিক শক্তি গণ কমিটিগুলি গড়ে তোলার কাজে সর্বশক্তি নিয়ে নিয়োজিত রয়েছে। মার্কসবাদ-লেনিনবাদ- শিবদাস ঘোষের চিন্তাধারার বৈপ্লবিক রাজনৈতিক লাইনের ভিত্তিতে এই লড়াইয়ের মধ্য দিয়ে আমরা বহু দাবি আদায় করেছি। বহু অন্যায় প্রতিরোধে সক্ষম হয়েছি।"
এবারের নির্বাচনের এসইউসিআইসি লক্ষ্যের বিষয়ে চণ্ডীদাস ভট্টাচার্য্য বলেন,"এবারের নির্বাচনের বিশেষত্ব হল, 60 লক্ষেরও বেশি ‘বিচারাধীন’ ভোটারের ফয়সালা না করেই কমিশন নির্বাচন ঘোষণা করেছে। অনেক প্রস্তাবিত প্রার্থীও এই তালিকায় থাকায় তাঁরা প্রতিদ্বন্দ্বিতা করতে পারছেন না। আগামী সপ্তাহ তিনেকের মধ্যে এই ফয়সালা না হলে লক্ষ লক্ষ মানুষ ভোটাধিকার থেকে বঞ্চিত হবেন। আমরা এর তীব্র বিরোধিতা করছি এবং নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে বিচার সমাপ্ত করার দাবি করছি। এছাড়া যাঁদের নাম 'ডিলিটেড' হয়েছে তাঁরা 6 নম্বর ফর্ম জমা দিলে যাতে তাঁদের নাম তালিকায় অন্তর্ভুক্ত হয় তা সুনিশ্চিত করার দাবিও করছি।"
তাঁর অভিযোগ, অনুপ্রবেশের ধুয়ো তুলে জনগণের কাছে নাগরিকত্বের প্রমাণ চাইছে, যা কমিশনের অধিকারের মধ্যে পড়ে না। ঘন ঘন নির্দেশিকা বদল, 'লজিক্যাল ডিসক্রিপেন্সি'র নামে অসংখ্য বৈধ নাগরিককে, বিশেষ করে সংখ্যালঘু, মহিলা, আদিবাসী ও গরিব মানুষদের নোটিশ ধরিয়েছে। পাশাপাশি বিজেপি রোহিঙ্গা, বাংলাদেশি অনুপ্রবেশকারি বলে দাগিয়ে দিয়ে, নাগরিকত্ব কেড়ে নেওয়ার হুমকি দিয়ে সাম্প্রদায়িক ঘৃণা ও হিংসার বাতাবরণ সৃষ্টি করছে। অন্যদিকে বিএলও-সহ দেড় শতাধিক মানুষের হৃদরোগে আক্রান্ত হয়ে মৃত্যু এবং আত্মহত্যার মতো বহু ঘটনা ঘটেছে। রাজ্যে রাজ্যে বিজেপির মুখ্যমন্ত্রীরা সরাসরি দেশের ধর্মীয় সংখ্যালঘুদের হয়রানি, নির্যাতন এমনকি হত্যা করার জন্য উগ্র ধর্মান্ধ দলীয় বাহিনীকে যেভাবে উস্কানি দিচ্ছেন তা নজিরবিহীন, যার সঙ্গে ধর্মের কোনও সম্পর্ক থাকতে পারে না।
চণ্ডীদাস ভট্টাচার্য্য বলেন, "শাসক তৃণমূল কংগ্রেস হিন্দু ভোট ব্যাঙ্ক রক্ষার স্বার্থে একদিকে জগন্নাথ মন্দির, দুর্গা ও মহাকাল মন্দির প্রতিষ্ঠার করছে৷ অন্যদিকে, মুসলিম ভোটের জন্য বিজেপির উগ্র সাম্প্রদায়িকতায় আতঙ্কিত মুসলমান জনগণের কাছে ত্রাতার ভূমিকায় অবতীর্ণ হয়েছে। মুখ্যমন্ত্রী একটি ‘সম্প্রদায়’ ঐক্যবদ্ধ হলে কী ঘটতে পারে সেই ভয় দেখিয়েছেন, প্রধানমন্ত্রী তার পাল্টা ‘বেছে বেছে হিসাব নেওয়ার’ হুমকি দিয়েছেন। মুখ্যমন্ত্রী ও প্রধানমন্ত্রীর পদমর্যাদার দুই ব্যক্তি এইভাবে সন্ত্রাসের পরিবেশ সৃষ্টি করছেন – যা নজিরবিহীন।
তিনি বলেন, "গত এক-দেড় বছরের আরজি করের নির্যাতিতার ন্যায়বিচার-সহ স্বাস্থ্য ক্ষেত্রে দুর্নীতি বিরোধী আন্দোলন, সারা রাজ্যে নারী নির্যাতনের বিরুদ্ধে আন্দোলন, আশা কর্মীদের ঐতিহাসিক লাগাতার কর্ম বিরতি আন্দোলন, সর্বনাশা জাতীয় শিক্ষানীতি 2020 বাতিল করার দেশব্যাপী আন্দোলন, স্মার্ট মিটার বিরোধী বিদ্যুৎ আন্দোলন, দেশব্যাপী কৃষক আন্দোলন ইত্যাদি অসংখ্য আন্দোলন আমাদের দল সারাদেশে, রাজ্যে এবং আঞ্চলিক স্তরে গড়ে তুলছে। এই আন্দোলনের অঙ্গ হিসেবেই আমরা নির্বাচনে অংশগ্রহণ করি। গণ-আন্দোলনের শক্তি হিসেবে আমাদের দলকে সমর্থন করে জনজীবনের জ্বলন্ত সমস্যাগুলি সমাধানে সংগ্রামকে শক্তিশালী করার আবেদন জানাচ্ছি।"

