ভোটার তালিকায় কারচুপি, 5 জনকে সাসপেন্ড করল নির্বাচন কমিশন
তথ্য যাচাই করতে কাজেই লাগানো হয়নি বিএলও-দের । জেরা করতেই কারচুপির কথা স্বীকার অভিযুক্তদের । কী শাস্তি হতে সরকারি কাজে কারচুপিতে ?

Published : August 5, 2025 at 11:08 PM IST
কলকাতা, 5 অগস্ট: ভুয়ো তথ্য দিয়ে ভোটার তালিকায় কারচুপি । ইলেক্টোরাল রেজিস্ট্রেশন অফিসার (ERO), অ্যাসিস্ট্যান্ট ইলেক্টোরাল রেজিস্ট্রেশন অফিসার (AERO) ও ডেটা এন্ট্রি অপারেটর (DEO)-সহ মোট পাঁচজনকে সাসপেন্ড করল নির্বাচন কমিশন । জেরায় পাঁচজনই কারচুপির বিষয়টি স্বীকার করেছেন ।
এই পাঁচজনের বিরুদ্ধে এফআইআর করা হবে এবং বিভাগীয় তদন্ত হবে বলেই জানানো হয়েছে কমিশনের পক্ষ থেকে । রাজ্যের মুখ্য সচিবকে চিঠি দিয়ে বিষয়টি জানিয়েছে নির্বাচন কমিশন ।
বিভিন্ন জেলায় অনলাইনে একের পর এক ভুয়ো বা অস্তিত্বহীন লোকজনের নাম ভোটার তালিকায় নথিভুক্ত করা হয়েছে বলে জানা গিয়েছে । শুধু তাই নয়, তাদের বিষয়ে দেওয়া হয়েছে ভুয়ো তথ্যও । যে জেলাগুলিতে এই গরমিল দেখা গিয়েছে সেইসব জেলার ইআরও-দের তলব করেছিল মুখ্য নির্বাচনী আধিকারিকের দফতর । সেখানে প্রশ্নের মুখে তাঁরা স্বীকার করে নেন যে ডেটা এন্ট্রি অপারেটর এজেন্সির স্তরে এই কারচুপি হয়েছে । আর তারপরেই বিষয়টিতে কড়া নজরদারি চালায় কমিশন ।
সূত্রের খবর, কারচুপির বিষয়টি স্বীকার করে তাঁরা জানান যে অস্তিত্বহীন ভোটারদের নাম রেজিস্টার্ড হয়েছে এবং সেইসব ভোটারদের তথ্য যাচাইয়ের জন্য বুথ লেভেল অফিসারদের কাজে লাগানো হয়নি । অর্থাৎ, সরাসরি মূল সার্ভারে তাদের নাম অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে । যেখানে অস্পষ্ট ও অবৈধ নথি দেখানো হয়েছে । স্বাভাবিকভাবেই এই ধরনের অবৈধ কাজে সংশ্লিষ্ট ডাটা এন্ট্রি অপারেটর ও সংশ্লিষ্ট এজেন্সি অন্যতম অভিযুক্ত বলে মনে করছে কমিশন ।
জেলার ইআরওদের মুখ্য নির্বাচনী আধিকারিকের দফতরে তলব করার পাশাপাশি সেই জেলার জেলাশাসক বা জেলা নির্বাচনী আধিকারিকদের কাছে গত পাঁচ বছরে কোন কোন এজেন্সি কাজ করেছে তার তালিকা চাওয়া হয়েছে । যে সমস্ত জেলার ইআরও-রা অভিযুক্ত সেই জেলাগুলির সংশ্লিষ্ট ডিইও-দের থেকে রিপোর্ট তলব করেছে মুখ্য নির্বাচনী আধিকারিকের দফতর ।
যাঁদের সাসপেন্ড করা হয়েছে তারা হলেন, বারুইপুর পূর্ব বিধানসভার ERO দেবোত্তম দত্ত চৌধুরী । AERO বারুইপুর পূর্ব বিধানসভা তথাগত মণ্ডল । ময়না বিধানসভার ERO বিপ্লব সরকার ও AERO সুদীপ্ত দাস এবং ডেটা এন্ট্রি অপারেটর সুরজিৎ হালদার ।
মুখ্যসচিবকে কড়া চিঠি কমিশনের :
মুখ্যসচিব মনোজ পন্তকে লেখা এক চিঠিতে ইসি জানিয়েছে যে, বরখাস্ত হওয়া আধিকারিকরা ভোটার তালিকা তৈরির প্রক্রিয়ায় নির্বাচনী অনিয়মে জড়িত থাকার জন্য দোষী ।চিঠিতে আরও বলা হয়েছে যে, জনপ্রতিনিধিত্ব আইন অনুসারে, ভোটার তালিকা তৈরি, সংশোধন এবং সংশোধনের সঙ্গে সম্পর্কিত আধিকারিকরা যতদিন নিযুক্ত থাকবেন; ততদিনের জন্য কমিশনে ডেপুটেশনে রয়েছেন বলে গণ্য হবেন ।
নির্বাচন কমিশন আরও জানিয়েছে যে, "ভোটার তালিকা তৈরি, সংশোধন, সংশোধন বা সংশোধনের সঙ্গে সম্পর্কিত বা সেই তালিকায় বা তালিকা থেকে কোনও নাম অন্তর্ভুক্ত বা বাদ দেওয়ার সঙ্গে সম্পর্কিত কোনও অনিয়মকারী আধিকারিকদের বিরুদ্ধে কী ধরণের শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেওয়া হবে । সরকারি কর্তব্য লঙ্ঘনের ক্ষেত্রে এই ধরনের কোনও পদক্ষেপ বা ব্যর্থতার জন্য, একজন আধিকারিক তিন মাসের বেশি থেকে বরং দুই বছর পর্যন্ত কারাদণ্ড এবং জরিমানায় দণ্ডনীয় হবেন ।"

