প্রধান-উপপ্রধানের সঙ্গে 14 জনের সদস্যপদ বাতিল ! পরিষেবা নিয়ে প্রশ্ন
খারিজ হওয়া 14 সদস্যের মধ্যে তৃণমূলের 7 জন, বিজেপির 6 ও কংগ্রেসের একজন । এই 14টি বুথে মানুষ কীভাবে পরিষেবা পাবে, তা প্রশ্নের মুখে ।
Published : September 2, 2026 at 9:32 AM IST
মালদা, 2 সেপ্টেম্বর: মাত্র কয়েকদিনের ব্যবধানে নাটকীয় পট পরিবর্তন ৷ বেনজির সিদ্ধান্ত মহকুমা প্রশাসনের । 27 আসন বিশিষ্ট পঞ্চায়েতে একসঙ্গে 14 জনের সদস্যপদ খারিজ । রাজ্যে পালাবদলের পর প্রধানের বিরুদ্ধে অনাস্থা এনে নতুন প্রধান নির্বাচিত হলেও হল না শেষরক্ষা । প্রধান সহ উপ-প্রধানের সদস্যপদ খারিজ হওয়ার ফলে পঞ্চায়েত পরিষেবা কীভাবে মিলবে, তা নিয়েও উঠছে প্রশ্ন । এমনই ঘটনা মালদার চাঁচল 2 ব্লকের ক্ষেমপুর গ্রাম পঞ্চায়েতে ।
2023 সালে পঞ্চায়েত নির্বাচনে তৃণমূল 16টি আসনে জেতে ৷ বিজেপির ঝুলিতে যায় 8টি আসন ৷ অন্যদিকে, কংগ্রেসের 2 ও RSP একজন সদস্য জিতেছিলেন । তৃণমূলের সংখ্যাগরিষ্ঠতা থাকলেও গোষ্ঠীদ্বন্দ্বের কারণে পরিস্থিতি বদলে যায় ৷ কয়েকজন তৃণমূল সদস্য বিজেপির সঙ্গে হাত মিলিয়ে পঞ্চায়েত দখল করেন। প্রধান হন তৃণমূলের শম্পারানি সিনহা ও উপপ্রধান বিজেপির বাসুদেব ভুঁইয়া । সরকারের পট পরিবর্তন হতে তৃণমূল, বিজেপি ও কংগ্রেসের সংখ্যাগরিষ্ঠ অংশ প্রধানের বিরুদ্ধে অনাস্থা প্রস্তাব আনে ।
অন্যদিকে, সেই সময় তৎকালীন প্রধান শম্পারানি সিনহা 14 জনের সদস্য পদ খারিজের দাবিতে মহকুমা শাসকের কাছে অভিযোগ দায়ের করেন । চলতি বছর গত 19 অগস্ট শম্পারানিকে সরিয়ে প্রধান হন তৃণমূলেরই ছবি মণ্ডল । অন্যদিকে, বিজেপির বাসুদেব ভুঁইয়া উপপ্রধান পদে বহাল থাকেন । তবে, 12 দিনের মধ্যেই ওই 14 জনের সদস্য পদ খারিজ হওয়ার ফলে প্রধান এবং উপপ্রধান উভয়ই পদ হারান ।
জানা গিয়েছে, খারিজ হওয়া 14 জন সদস্যের মধ্যে তৃণমূলের 7 জন, বিজেপির 6 ও কংগ্রেসের একজন রয়েছেন । এখন সেই 14টি বুথে মানুষ কীভাবে পরিষেবা পাবে, সেটা নিয়ে প্রশ্ন তৈরি হয়েছে । অন্যদিকে, বাকি 13 জনকে নিয়ে কীভাবে প্রধান-উপপ্রধান গঠন হবে, তা নিয়ে তৈরি হয়েছে জটিলতা ।
এই বিষয়ে অভিযোগকারী তথা তৃণমূল পঞ্চায়েত সদস্য আব্দুল হক বলেন, "পঞ্চায়েতের তিনটি সাধারণ সভায় ওই সদস্যরা অনুপস্থিত ছিলেন । সেই কারণেই পঞ্চায়েত আইন অনুযায়ী অভিযোগ জানিয়েছিলাম । প্রশাসনের শুনানি শেষে রায় দেওয়া হয়েছে । সত্যের জয় হয়েছে ।" তৃণমূলের প্রাক্তন পঞ্চায়েত প্রধান শম্পারানির স্বামী প্রদূত সিনহাও একই কথা বলেছেন ৷
আইনজীবী হারুন আলি বলেন, "পঞ্চায়েত আইনে কোনও সদস্য নির্দিষ্ট সংখ্যক পঞ্চায়েত সভায় যথাযথ কারণ ছাড়া অনুপস্থিত থাকলে, আইন অনুযায়ী তাঁর সদস্যপদ খারিজ করার বিধান রয়েছে । প্রশাসন তাই করেছে ।"
মালদা উত্তরের বিজেপির সাধারণ সম্পাদক অভিষেক সিংহানিয়ার বক্তব্য, "দলের স্পষ্ট নির্দেশ রয়েছে, পঞ্চায়েতের ভাঙাগড়ার খেলায় আমরা থাকব না । সদস্যপদ খারিজের বিষয়টি প্রশাসনিক সিদ্ধান্ত । এ বিষয়ে দলের কোনও ভূমিকা নেই । প্রশাসন আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নিয়েছে ।"
চাঁচল মহকুমা প্রশাসনের এক একাধিকারিক জানান, পঞ্চায়েত আইন অনুযায়ী পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে । সূত্রের খবর, আপাতত প্রশাসন এই পঞ্চায়েত পরিচালনা করবে । এখন দেখার বিষয় পঞ্চায়েত দফতর থেকে এই পঞ্চায়েতের জন্য বিশেষ কোনও সিদ্ধান্ত গ্রহণ করা হয় কিনা । যদিও এলাকার সাধারণ মানুষ পঞ্চায়েত পরিষেবা পাওয়া নিয়ে যথেষ্ট উদ্বিগ্ন ।