'সহজ পাঠের গপ্পো'র সামিউল-নুর ফের পর্দায়, কোন গল্প বুনছেন মানস মুকুল ?
মানস বলেন, "যারা একটা সময় সিনেমার 'স' আর অভিনয়ের 'অ' জানত না তারা এখন সিনেমা নিয়ে আলোচনা করে, এটা দেখেও খুব ভালো লাগে।"

By ETV Bharat Entertainment Team
Published : July 11, 2025 at 10:18 AM IST
কলকাতা, 11 জুলাই: 'সহজ পাঠের গপ্পো' জুটি ফের একসঙ্গে ৷ পর্দায় ফিরছেন নূর ইসলাম (Nur Islam)-সামিউল আলম (Samiul Alam) ৷ নেপথ্যে সেই একই পরিচালক মানস মুকুল পাল ৷ এবার তিনি নিয়ে আসছেন 'চণ্ডীকথা'। 2016 সালে মুক্তিপ্রাপ্ত 'সহজ পাঠের গপ্পো' (Sahaj Paather Gappo) ভিজিয়েছিল দর্শকের চোখ ৷ বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায়ের 'তালনবমী'র আধারে সেই ছবি বানান পরিচালক মানস মুকুল। গ্রামের পটভূমিতে ছিল সহজ সরল গপ্পো। আর এবার 'চণ্ডীকথা'ও সেই গ্রামের পটভূমিতেই বানাবেন পরিচালক। ডিসেম্বর মাস থেকে শুরু হবে ছবির শুটিং।
নূর ও সামিউলকে কাস্ট করা নিয়ে পরিচালক মানস বলেন, "আমি বহুবার ওদের নিয়ে কাজ করতে চাই। ওদের বেড়ে ওঠাটা প্রত্যেকদিন দেখছি। একদম ছোট বয়সে ওদের খুঁজে এনেছিলাম। ওরা বারবার আমাকে বলত আমাদের নিয়ে আবার একটা সিনেমা করো। লেখো আমাদের জন্য। যে অভিনয় ওরা 'সহজ পাঠের গপ্পো'তে করেছে তার জন্য আমি এখনও পৃথিবীর বিভিন্ন প্রান্তের বাঙালিদের কাছ থেকে মেসেজ পাই।"
মানসের কথায়, "ওদের প্রশংসা পাই। মানুষ ওদের একসঙ্গে আবারও দেখতে চায়। তাই চেয়েছিলাম যা করব আরও ভালো করব। মানুষের যে নিঃস্বার্থ ভালোবাসা পেয়েছি তাতে দায়িত্ব থেকে যায় আরও ভালো ছবি দেওয়ার। এটা স্বাধীন ছবি। কোনও প্রযোজকের সঙ্গে এই ব্যাপারে আমি কথা বলিনি। আগের ছবিটাও বন্ধুবান্ধব মিলে করেছিলাম, এটাও তেমনই হবে।"
তিনি আরও বলেন, "সহজ পাঠের গল্প'র দশ বছর হতে চলেছে। কিন্তু সেই ভেবেই এই ছবির পরিকল্পনা নয়। এটা কাকতালীয়ভাবেই হয়ে গেল। এ বছর ডিসেম্বরের শেষে শুটিং শুরু করার ইচ্ছা আছে। রিলিজ তার পরে। সেটা 'সহজ পাঠের গপ্পো'র দশ বছরের মাথাতেই হবে।"
'চণ্ডীকথা' গল্প
'চণ্ডীকথা'র প্রেক্ষাপট 1950 সাল। জাতপাত, অস্পৃশ্যতার মতো ব্যাধি তখন সমাজের প্রতিটি স্তরে। সেই পরিস্থিতিতেই দুই বন্ধুর গল্প বলবেন পরিচালক। সমাজে পিছিয়ে থাকা শ্রেণীর দুই বন্ধু সেই সময়ে কীভাবে নিজেদের টিকিয়ে রাখে এই ছবি বলবে সেই গল্প। কাহিনি মুর্শিদাবাদের প্রত্যন্ত গ্রামে ঘুরপাক খায়।
সামিউল এখন কলেজের তৃতীয় বর্ষের ছাত্র। অন্যদিকে নুর সবে স্কুলের গণ্ডী পেরিয়ে কলেজে ভর্তি হয়েছে। ওদের আগের ছবির জুটিকে ফিরিয়ে আনতেই কি এই ছবিতে ওদের নেওয়া? মানস মুকুল বলেন, "ওরা দুজনেই আমার নিজেরই বাচ্চার মতো। ওরা আমার বাড়িতে আসে, থাকে। ওদেরকে অভিনয়ের খুঁটিনাটি শেখাই। ভালো ছবি দেখাই। যারা একটা সময় সিনেমার 'স' আর অভিনয়ের 'অ' জানত না তারা এখন সিনেমা নিয়ে আলোচনা করে, এটা দেখেও খুব ভালো লাগে। গল্পের প্রেক্ষাপট মুর্শিদাবাদের প্রত্যন্ত গ্রাম। সেখানেই ডোম সম্প্রদায়ের দুটি ছেলের চরিত্রে এই সামিউল এবং নুর। ওদের জীবনের যুদ্ধ, ওদের বড় হয়ে ওঠা, শোষিত হওয়া, বঞ্চিত হওয়া এবং বেঁচে থাকা নিয়েই এই ছবি।"

