'আমার মা সাহসী, স্পষ্টবক্তা' ! মমতা শঙ্করের পাশে ছেলে রাতুল
25 বছর পর সিনেমায় ফিরলেন অভিনেত্রী মমতা শঙ্করের ছেলে রাতুল শঙ্কর ঘোষ ৷ ইটিভি ভারতের প্রতিনিধি নবনীতা দত্তগুপ্তের সঙ্গে আড্ডায় উঠে এল নানা প্রসঙ্গ ৷

By ETV Bharat Entertainment Team
Published : April 9, 2025 at 9:49 AM IST
কলকাতা, 9 এপ্রিল: অভিনয় করার কথা কল্পনাতেও আনেননি কখনও। ঋতুপর্ণ ঘোষের কথাতেই 'উৎসব' ছবিতে অভিনয়। তখন মাস কমিউনিকেশন নিয়ে পড়াশুনা চলছে। ভিডিওগ্রাফি করছেন। এমন সময়েই হঠাৎই অভিনেতা হিসেবে আত্মপ্রকাশ অভিনেত্রী মমতা শঙ্করের ছেলে রাতুল শঙ্কর ঘোষের। প্রায় 25 বছর আগেকার কথা। ওটাই শুরু ওটাই শেষ।
এরপর পরিচালক সত্রাজিৎ সেন প্রস্তাব দিলেন তাঁর আসন্ন ছবি 'চেক ইন চেক আউট'-এ অভিনয় করার জন্য। পেলেন গিরিন্দ্র মোহন নামে এক ভিন্নধর্মী চরিত্র। এই চরিত্রটির জন্য অভিনেতা খুঁজতে বেশ বেগ পেতে হচ্ছিল সত্রাজিৎকে। এরপরে হঠাতই পরিচালকের মনে হয় রাতুল এই চরিত্রের জন্য মানানসই হতে পারেন। আর তখনই রাতুলের কাছে যায় সত্রাজিতের প্রস্তাব। রাতুল অভিনয় করতে চান না। তবু সত্রাজিতের আবদার সেদিন ফেলতে পারেননি বাদ্যযন্ত্র শিল্পী (পার্কশনিস্ট) রাতুল শঙ্কর ঘোষ। গল্প শুনে মুগ্ধ হয়ে গিয়েছিলেন। 18 এপ্রিল মুক্তির পথে এই ছবি। ইটিভি ভারতের সঙ্গে রাতুল আড্ডা দিলেন নিজের আসন্ন সিনেমা সহ আরও নানা বিষয় নিয়ে।
রাতুল বলেন, "আমি খুব হুজুগে। 'উৎসব'-এর সময়েও হুজুগে হ্যাঁ বলে দিয়েছিলাম ঋতু দা'কে। এবার সত্রাজিতের ক্ষেত্রেও একই হল। স্ক্রিপ্টটা শোনায় সত্রাজিৎ। এত সহজ সরল এবং মিষ্টি একটা গল্প যে না করতে পারলাম না। জিজ্ঞেস করেছিলাম আমার দ্বারা কি হবে? সত্রাজিৎ বলেছিল, অভিনয়টা সাঁতার শেখার মতো। একবার করলে কেউ ভোলে না। ওর প্রেরণাতেই কাজটা করলাম। কয়েকটা দিন আমরা ফ্যামিলির মতো হয়ে গেছিলাম। এই হোটেলটার মধ্যেই শুটিং। দারুণ সময় কেটেছে আমাদের।"
সামনেই বাংলার নববর্ষ। আর সেই সময়েই মুক্তি পাচ্ছে 'চেক ইন চেক আউট'। তাই এই বছরটায় একটু বেশিই আনন্দ ৷ শিল্পীর কাছে পয়লা বৈশাখ মানে গুরুজনদের প্রণাম আশীর্বাদ নেওয়া। বললেন, "এই সময়টা এলে আমি আমার দিদাকে, ঠাকুরদাকে খুব মিস করি। এখন আর সশরীরে তাঁরা নেই। কিন্তু আমি অনুভব করি তাঁরা আছেন। আমার মনে হয় প্রত্যেকটা নতুন বছরই পজিটিভিটি দিয়ে শুরু হোক। আমরা যেন অন্যের প্রাণ খুলে প্রশংসা করতে পারি। তা সে তার সামনে হোক বা আড়ালে। আর এর জন্য নিজেকে সবার আগে পজিটিভ হতে হবে।"
শিল্পী পরিবারেই জন্ম রাতুল শঙ্করের। মা মমতা শঙ্কর, দিদা অমলা শঙ্কর, দাদু উদয় শঙ্কর এবং রবি শঙ্কর, মামা আনন্দ শঙ্কর। এমন এক পরিবারে জন্ম এবং বেড়ে ওঠা। সেলেব সন্তানদের নানা রকমের কথা হজম করতে হয়। প্রশ্ন ওঠে তাঁদের কাজের মুন্সিয়ানা নিয়েও। এরকম ঘটনার কোনও সম্মুখীন হয়েছেন তিনি কখনও? জানতে চাইলে রাতুল সহাস্যে বলেন, "না সেভাবে আমার সঙ্গে এমন কিছু হয়নি। আসলে হয়ত কাকে নিয়ে ঠিক আমাকে বলবে মা নাকি দাদু, নাকি দিদা নাকি মামা নাকি অন্য কেউ সেটাই বুঝে উঠতে পারেননি। সবাই তো এক একজন গুণের পাহাড় তাই আমাকে আর এই নিয়ে কিছু বলার ঝক্কি নেয়নি। ছেড়ে দিয়েছে।"
এরপর শিল্পীর মা তথা নৃত্যশিল্পী-অভিনেত্রী মমতা শঙ্করের নানা সময়ে প্রতিবাদমূলক বক্তব্যের কথা তুললে তিনি বলেন, "অনেকে অনেক কিছু ভাবেন কিন্তু বলে উঠতে পারেন না। কিন্তু আমার মা সাহসী, স্পষ্টবক্তা। তাই সোজা কথা সোজা ভাষায় বলে দেন। আমি মাকে সমর্থন করি। আমার মা বলে নয়, তাঁর কথার ভিতরে যুক্তি থাকে। তাই সমর্থন করি।"

