শীতে বেড়িয়ে আসুন কালিম্পঙের কাছেই ছবির মতো সুন্দর মাইরুং গাঁও
মাইরুং গাঁও, কালিম্পঙের অনতিদূরে একটি ছোট পাহাড়ি গ্রাম। প্রাকৃতিক সৌন্দর্য ও শান্তিপূর্ণ পরিবেশ-ঘেরা নেওরা ভ্যালি ন্যাশনাল পার্কের মধ্যে অবস্থিত অফবিট ভ্রমণের দারুণ গন্তব্য ।

Published : October 23, 2025 at 4:11 PM IST
|Updated : October 23, 2025 at 4:54 PM IST
কালিম্পং, 23 অক্টোবর: শীতের পাহাড়ে অফবিট ডেস্টিনেশন ঘুরতে যাবেন ভাবছেন ? রাস্তা ধসে আটকে যাওয়ার ভয় নেই । চলে আসুন কালিম্পংয়ের অফবিট ডেস্টিনেশন ছবির মতো সুন্দর গ্রাম মাইরুং গাঁও । তবে এখানে গেলে মন আর ফিরতে চাইবে না ইট-কাট-পাথরের শহরে ৷
সিকিমের প্যাঙ্গোলাখা ওয়াইল্ড লাইফ স্যাংচুয়ারির (বন্যপ্রাণী অভয়ারণ্য) থেকে ভুটানের সামসে জেলার ঘন পাইনের বন পর্যন্ত বিস্তৃত কালিম্পং জেলার 88 বর্গকিলোমিটার এলাকাজুড়ে নেওড়াভ্যালি জাতীয় উদ্যান ৷ রেড পান্ডা থেকে ব্ল্যাক প্যান্থারের এই অবাধ বিচারণভূমি 1986 সালে জাতীয় উদ্যানের শিরোপা পায়। নেওড়াভ্যালির একগুচ্ছ প্রচলিত ট্যুরিস্ট স্পট রয়েছে। কিন্তু লোকচক্ষুর আড়ালে রয়ে যাওয়া এক অপ্রচলিত গন্তব্য হল মাইরুং গাঁও। নামের মতোই মায়াবী এই গ্রাম মাইরুং।

এখানকার প্রাগৈতিহাসিক পাইন গাছের ছায়ায় জমে থাকা আলো আঁধারির কুয়াশার মতোই সুপ্রাচীন এই ছোট জনবসতির ইতিহাসও রহস্যে মোড়া। জনপদের বেশ কিছু ঘরবাড়ি, চার্চ, বৌদ্ধ মঠ একশো বছরের ও বেশি পুরোনো। নির্জন পাহাড়ি সৌন্দর্য্য উপভোগকারী, পক্ষী বিশারদ থেকে পাহাড়ে হেঁটে বেড়ানোয় উৎসাহী পর্যটকদের জন্য এই গ্রাম আদর্শ। পাহাড়ি এই গ্রামের সৌন্দর্য উপভোগ করতে অনায়াসে দিনদু'য়েক কাটিয়ে যেতে পারেন মাইরুং গাঁও-য়ে। বিছানায় শুয়ে সামনের বিস্তৃত ডুকা ভ্যালির ওপারে বরফাচ্ছাদিত নাথুলা শৃঙ্গ ও অল্পবিস্তর কাঞ্চনজঙ্ঘার উঁকিঝুঁকি উপরি পাওনা।

অলস ছুটি উপভোগ করতে চাইলে সারাদিন চায়ের কাপ হাতে ব্যালকনিতে বসেই কাটিয়ে দেওয়া যায়। যারা একটু হাঁটাহাঁটি পছন্দ করেন, তাঁদের জন্য পাহাড়ি পাকদন্ডীর অভাব নেই । মাইরুং-এর দু'টি প্রচলিত ট্রেক রুট ডুকা ফলস ও রিকিসুম ভিউ পয়েন্ট ছাড়াও আশপাশের যে কোনও পাহাড়ি পায়ে চলা রাস্তায় ঘণ্টাখানেক হারিয়ে যাওয়ার স্বাদ নিতেই পারেন ।

অবস্থানগত ভাবে মাইরুং কালিম্পং ও লাভার মধ্যবর্তী হওয়ায় এখান থেকে সাইট সিয়িং-এর লিস্ট শেষ হবে না। লাভা, লোলেগাঁও, কোলাখাম, রিশপ, বার্মেক, রামধূরা, ইছেগাঁও, সেলারি গাঁও, বিদ্যাং, পেডং, ঋষিখোলা, আরিতার, জুলুক ছাড়াও পুরো কালিম্পং শহর সাইট সিয়িং লিস্ট অথবা পরবর্তী গন্তব্যে রাখা যায়।

নিউ জলপাইগুড়ি থেকে মাইরুং গাঁও-এর দূরত্ব 91 কিলোমিটার ৷ সময় লাগে চার ঘণ্টার কাছাকাছি । কালিম্পং টাউন থেকে এই জায়গার দূরত্ব 21 কিলোমিটার ও আলগাড়া বাজার থেকে 6 কিলোমিটার দূরত্বে ছবির মতো সুন্দর এই গ্রাম মাইরুং । এনজেপি থেকে রিজার্ভ গাড়ি কিংবা শেয়ার গাড়ি দু'টোরই অপশন রয়েছে । এনজেপি কিংবা বাগডোগরা বিমানবন্দর থেকে সোজা আগে চলে যেতে হবে কালিম্পং টাউন। তার জন্য মাথাপিছু খরচ হবে 700 টাকা। তারপর কালিম্পং টাউন থেকে শেয়ার ট্যাক্সি আবার রিজার্ভ গাড়িও নিতে পারেন। তার জন্য খরচ হবে আনুমানিক 400 থেকে 500 টাকা।

থাকার জায়গায় অভাব নেই মাইরুং গাঁও-য়ে । রয়েছে প্রচুর সুন্দর হোম-স্টে । প্রত্যেকটির লোকেশন অসাধারণ । তবে আগে বুকিং করলে বাড়তি ডিসকাউন্ট মেলে । একরাতে থাকা খাওয়া দিয়ে এই সব হোম-স্টে গুলিতে খরচ মাথাপিছু 1600 থেকে 1800 টাকা। ব্রেকফাস্ট, লাঞ্চ, ডিনার থাকবে। পাতে থাকবে চিকেন, পাহাড়ি আচার । কেউ চাইলে আবার টার্কির মাংসও খেতে পারেন। তবে তার জন্য খরচ সামান্য বেড়ে যাবে। সুতরাং এবার শীতে আপনার ডেস্টিনেশন হতেই পারে কালিম্পঙের অনতিদূরে এই ছোট পাহাড়ি গ্রাম।

