ক্লাসের জন্য নেই নির্দিষ্ট সময়, খেলার মাঝেই পড়া; কোটার পড়ুয়াদের মানসিক শান্তি দিচ্ছে 'ম্যাজিক মেশিন'
Magic Machine : খেলাধুলো, মজা, তার মধ্যেই পড়ুয়াদের নির্দিষ্ট লক্ষ্য়ে পৌঁছতে সাহায্য করছে ম্যাজিক মেশিন ৷ কীভাবে ? জানতে পড়ুন...

Published : January 10, 2026 at 11:51 AM IST
হায়দরাবাদ : কোটার নাম নিশ্চয় শুনেছেন ৷ যেখানে প্রতিবছর লাখোলাখো পড়ুয়া যায় শুধুমাত্র মেডিক্যাল ও ইঞ্জিয়ারিং কোচিংয়ের জন্য ৷ কিন্তু সবার যে স্বপ্নপূরণ হয় এমনটা নয় ৷ NEET 2025 এর প্রস্ততি নিতে কোটায় বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে ভর্তি হয়েছিলেন প্রায় 12 লাখ 36 হাজার পড়ুয়া ৷ কিন্তু সর্বভারতীয় ক্ষেত্রে সরকারি ও বেসরকারি প্রতিষ্ঠান মিলিয়ে আসন সংখ্যা ছিল মাত্র 1 লাখ 15 হাজার 900টি ৷ সুতরাং যাঁরা প্রস্তুতি নিয়েছিলেন তাঁদের মধ্যে থেকে মাত্র 1 শতাংশ পড়ুয়া মেডিক্যাল বা ইঞ্জিয়ারিংয়ে সুযোগ পেয়েছিলেন ৷ কিন্তু বাকিরা যে পড়াশোনায় তেমন মেধাবী ছিলেন না এমনটা কিন্তু নয় ৷ কিন্তু তারপরও মেলেনি সুযোগ ৷
একদিকে ভর্তির সুযোগ না মেলা অন্যদিকে পড়শোনার অতিরিক্ত চাপ না নিতে পেরে আত্মহত্যারও পথ বেছে নিয়েছেন অনেক পড়ুয়া ৷ এইসব সমস্যা থেকে মুক্তি দিতে একটি কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (AI) নির্ভর মনিটর চালু করেছে সেখানকার মোশন এডুকেশন কোচিং সেন্টার ৷ যা পড়ুয়াদের পড়াশোনার গতিপ্রকৃতি জানাতে সাহায্য করবে ৷ পাশাপাশি প্রয়োজনীয় গাইডেন্সও দেবে ৷ ওই সিস্টেমটির নাম দেওয়া হয়েছে মিরাক্য়াল মেশিন (Miracle Machine) ৷
এই মেশিনটিই প্রতিটি পড়ুয়ার পড়াশোনার অগ্রগতি নজর করতে পারবে ৷ এবং হোমওয়ার্ক দেওয়া প্রশ্নপত্র তৈরি করতেও সিদ্ধহস্ত ৷ এর ফলে পড়ুয়ারা নিজেদের ক্ষমতা ও চাহিদা অনুযায়ী হোমওয়ার্ক নেওয়া ও মকটেস্ট দেওয়ার মতো বিষয়গুলি আয়ত্বে রাখতে পারবে ৷

What is the Miracle Machine, And How Was It Created?
এই সংস্থার অ্য়াকাডেমিক ম্যানেজার পরম সিং সিসোদিয়া জানিয়েছেন, এই মেশিনটির পেটেন্ট নেওয়া আছে মোশন এডুকেশন কোচিং সেন্টারের ৷ কোটা ও অন্য শহরে অবস্থিত তাদের 90টি কোচিং সেন্টারে এই মেশিনটি বসানো হয়েছে ৷ মোট 150 টি মেশিন বসানো হয়েছে ৷ যা ইউনিডেস্ক (Unidesk) সফ্টওয়ারের মাধ্যমে পরিচালিত হয় ৷
এই সফ্টওয়ারটি পড়ুয়া, শিক্ষক-শিক্ষিকা, কোচিং সেন্টার ম্যানেজমেন্ট এবং পড়ুয়াদের বাবা-মায়ের মধ্যে কানেক্ট করা রয়েছে ৷ প্রতিটি পড়ুয়ার একটি নির্দিষ্ট করে আই-ডি নম্বর রয়েছে ৷ এছাড়াও প্রতিটি পড়ুয়ার পড়াশোনা, হোমওয়ার্ক এবং প্রয়োজনীয় যাবতীয় তথ্য ইনপুট করা রয়েছে ৷ সেখান থেকেই ডেটা ট্র্য়াক করবে ওই মেশিন ৷
এরপর একটি পরীক্ষা দিতে হবে প্রতিটি পড়ুয়াকে ৷ এবং পরীক্ষা দেওয়ার সঙ্গে সঙ্গে ওই সিস্টেমটি কাজ করতে শুরু করবে ৷ কোন প্রশ্ন উত্তর দিতে কতক্ষণ সময় লেগেছে, কোনটি সঠিক, কোনটি ভুল,কতগুলি প্রশ্ন উত্তর দেয়নি যাবতীয় সব তথ্য তুলে ধরবে ওই সিস্টেমটি ৷ শুধুমাত্র যে MCQ প্রশ্নের উত্তর ট্র্য়াক করবে এমনটা নয়, সাবটপিকের প্রশ্নও ট্র্যাক করতে পারবে ৷

How It Works?
অফলাইন পরীক্ষার ক্ষেত্রে সবথেকে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হল প্রত্যেকের প্রশ্নপত্র একই হয় ৷ অনেকক্ষেত্রে প্রশ্নের সিকোয়েন্স বদল করা হয় ৷ কিন্তু মিরাক্যাল মেশিনে পুরো বিষয়টিই ভিন্ন ৷ কোন পড়ুয়ার কোন বিষয়টি দূর্বল, কোন অংশটি আরও গভীরে পড়াশোনা দরকার এবং কোন বিষয়ের উপর দক্ষতা বেশি তা অ্য়ানালিসিস করে প্রশ্নপত্র তৈরি করবে ৷ যার ফলে প্রত্য়েক পড়ুয়ার প্রশ্ন হবে ভিন্ন ৷ শুধু প্রশ্ন নয়, পড়ুয়াদের হোমওয়ার্ক দেওয়ার ক্ষেত্রেও এই বিষয়টি অ্য়ানালিসিস করে ওই মেশিন ৷
হোমওয়ার্ক সিস্টেম কীভাবে কাজ করে?
পুরো বিষয়টি বুঝিয়েছে অ্যাকাডেমিক ম্যানেজার ৷ তিনি জানিয়েছেন, এই সিস্টেমের একটি অ্য়াপ ডেভেলপ করা হয়েছে ৷ যার নাম গুরু অ্যাপ (Guru App) ৷ এর মাধ্যমে শিক্ষক শিক্ষিকারা পড়ুয়াদের হোমওয়ার্ক পাঠাতে পারবেন ৷ পড়ুয়ারা সেটা দেখে নিজেদের হোমওয়ার্ক সলভ করবে ৷ এবং ফের অ্য়াপের মাধ্যমে হোমওয়ার্ক সাবমিট করবে ৷ উত্তর সাবমিট করার ক্ষেত্রে MCQ ফরম্যাটে সাবমিট করতে পারবে পড়ুয়ারা ৷
পড়ুয়াদের কতটা সুবিধা হয়েছে?
এই বিষয়ে গুঞ্জন মিনা নামে এক পড়ুয়া জানিয়েছে, তাদের নির্দিষ্ট সময়ে সব কাজ করতে হচ্ছে না ৷ নিজের ফাঁকা সময়ে হোমওয়ার্ক টাস্ক নিতে পারছে এবং সলভ করে তা ফের অ্যাপের মাধ্যমে সাবমিট করতে পারছে ৷ শুধুমাত্র রোল নম্বর দিয়ে ওই মেশিনে সাবমিট করতে হবে এবং তারপর OTP দিলেই কাজ করতে শুরু করবে ম্যাজিক মেশিন ৷
আশিস রঞ্জন নামে এক পড়ুয়া জানিয়েছে, সে নির্দিষ্ট সময় অন্তর অন্তর প্রশ্ন সলভ করে ৷ এবং প্রথম ধাপের তুলনায় পরবর্তী ধাপগুলিতে কঠিন থেকে কঠিনতর প্রশ্ন সলভ করতে হয় ৷
কোটা শহরে একটি শব্দই ঘোরাফেরা করে ৷ তা হল প্রতিযোগিতা ৷ কোন ইনস্টিটিউট ভালো, কোথা থেকে বেশি পড়ুয়া সুযোগ পেল, কে শ্রেষ্ঠ হল, হোমওয়ার্ক, স্কুল, কোচিং এই সবের মাঝে ম্য়াজিক মেশিন পড়ুয়াদের কাছে অতিরিক্ত অক্সিজেন সঞ্চার করেছে ৷ কোনও তাড়াহুড়ো নেই ৷ নেই পড়াশোনার চাপ ৷ খেলাধুলো, মজা, তার মধ্যেই পড়ুয়াদের নির্দিষ্ট লক্ষ্য়ে পৌঁছতে সাহায্য করছে ম্যাজিক মেশিন ৷

