হলুদ ট্যাক্সি বদলে গেল EV-তে, নয়া উদ্যোগ যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয়ের
ডিভিসি-র আর্থিক সহায়তায় এই গবেষণা চালাচ্ছে যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয়৷ বৃহস্পতিবার সেই গাড়িটি প্রকাশ্যে আসে৷

Published : May 29, 2026 at 7:30 PM IST
কলকাতা, 29 মে: একসময় কলকাতার রাস্তায় দাপিয়ে বেড়ানো হলুদ অ্যাম্বাসাডর ট্যাক্সি এবার নতুন রূপে ফিরতে চলেছে। পুরনো ডিজেলচালিত ট্যাক্সিকে বৈদ্যুতিক গাড়িতে বদলে ফেলার একটি সফল প্রাথমিক খসড়া তৈরি করেছে যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয়। বৃহস্পতিবার সেই গাড়ির আনুষ্ঠানিক উন্মোচন করা হয়।
বর্তমানে বৈদ্যুতিক গাড়ির ব্যবহার বাড়লেও নতুন ইভি কিনতে গেলে পুরনো পেট্রল বা ডিজেলচালিত গাড়িগুলিকে বাতিল করতে হয়। এতে অনেকেরই আর্থিক ক্ষতি হয়। সেই সমস্যা দূর করতেই পুরনো গাড়িকে বৈদ্যুতিক গাড়িতে রূপান্তরের প্রযুক্তি নিয়ে গবেষণা শুরু করেছে যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয়।
দামোদর ভ্যালি কর্পোরেশনের (ডিভিসি) আর্থিক সহায়তায় 2025 সালের জানুয়ারি মাসে শুরু হয়েছে এই গবেষণা প্রকল্প। প্রকল্পের নেতৃত্বে রয়েছেন যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয়ের পাওয়ার ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের অধ্যাপক অমিতাভ গুপ্ত। তাঁর সঙ্গে রয়েছেন ড. ভীমসেন টুডু ও ড. নির্মলেন্দু বিশ্বাস। গবেষকদের লক্ষ্য ছিল এমন একটি প্রযুক্তি তৈরি করা, যার মাধ্যমে পুরনো গাড়ির মূল কাঠামো ও ট্রান্সমিশন ব্যবস্থা বজায় রেখেই ইঞ্জিনের জায়গায় বৈদ্যুতিক মোটর বসানো যাবে। এতে নতুন ইভি তৈরির তুলনায় খরচ অনেক কম হবে।
প্রথম পর্যায়ে একটি অ্যাম্বাসাডর 1.5 ডি জেড হলুদ ট্যাক্সিকে বৈদ্যুতিক গাড়িতে রূপান্তরিত করা হয়েছে। ইতিমধ্যেই সেই গাড়ির পরীক্ষামূলকভাবে চালানো হয়েছে এবং ফলাফল আশাব্যঞ্জক বলে দাবি গবেষকদের। বিশ্ববিদ্যালয়ের দাবি, গাড়িটি মাত্র তিন সেকেন্ডে ঘণ্টায় 60 কিলোমিটার গতিতে পৌঁছতে পারে। একবার চার্জ দিলে শহরের রাস্তায় প্রায় 200 কিলোমিটার পর্যন্ত চলতে পারবে বলেও জানানো হয়েছে। গাড়িটিতে আধুনিক সেন্সর প্রযুক্তি ও শীতাতপ নিয়ন্ত্রণের ব্যবস্থাও রয়েছে। পাশাপাশি ব্যাটারি এমনভাবে তৈরি করা হয়েছে, যাতে প্রয়োজন হলে সহজেই বদল করা যায়। কলকাতার জলজমার সমস্যার কথাও মাথায় রেখে ব্যাটারির নকশা করা হয়েছে।
বৃহস্পতিবার ডিভিসি-র চেয়ারম্যান সুরেশ কুমার এই বৈদ্যুতিক হলুদ ট্যাক্সির প্রোটোটাইপের উন্মোচন করেন। অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক চিরঞ্জীব ভট্টাচার্য এবং অন্যান্য অতিথিরা। যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য চিরঞ্জীব ভট্টাচার্য বলেন, "যাদবপুর ইউনিভার্সিটি সবসময় ইনোভেশনে বিশ্বাসী। এখানেও আমরা দামোদর ভ্যালি কর্পোরেশনের সঙ্গে এই যৌথ উদ্যোগে একটা রিসার্চ করা হয়েছে। এই পুরনো হলুদ ট্যাক্সিগুলো ইভি-তে রূপান্তর করা হচ্ছে।’’
তিনি আরও বলেন, ‘‘এটা একটা কস্ট এফেক্টিভ সলিউশন। কারণ, ওই হলুদ ট্যাক্সি আস্তে আস্তে বসে যাচ্ছে। বেশিরভাগ ক্ষেত্রে ওগুলোর ফিটনেস সার্টিফিকেট নেই। সেগুলোকে যদি আমরা ইভিতে রূপান্তর করতে পারি। তাহলে অনেকটাই তাদের পক্ষে যারা মানে মালিক তাদের পক্ষে সেটা অনেক সুবিধা এবং সাশ্রয় হবে।"
বিশ্ববিদ্যালয় সূত্রে খবর, এখন গাড়িটিকে বিভিন্ন পরীক্ষার মধ্য দিয়ে নিয়ে যাওয়া হবে। প্রয়োজনীয় অনুমোদন পাওয়ার পর বাণিজ্যিকভাবে এই প্রযুক্তি ব্যবহার করে পুরনো গাড়িকে বৈদ্যুতিক গাড়িতে রূপান্তরের কাজ শুরু হতে পারে বলে আশা করা হচ্ছে। বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষের মতে, এই প্রযুক্তি সফল হলে দেশের লক্ষ লক্ষ পুরনো গাড়িকে কম খরচে বৈদ্যুতিক গাড়িতে রূপান্তর করা সম্ভব হবে। এতে যেমন দূষণ কমবে, তেমনই নতুন গাড়ি কেনার চাপও অনেকটা কমবে।

