ETV Bharat / state

মাংসের দোকানে 'গোপাল পাঁঠা'র প্রতিষ্ঠিত কালী মন্দির, 80 বছরের রীতি বজায় রেখেছেন নাতি

প্রত্যেক অমাবস্যায় বিশেষ পুজো হয় 'গোপাল পাঁঠা'র মাংসের দোকানের কালী মন্দিরে ৷ হয় পাঁঠা বলি ৷ দেওয়া হয় চাল ও চিনির নৈবেদ্য ৷

Kali Puja
মাংসের দোকানে 'গোপাল পাঠা'র প্রতিষ্ঠিত কালী পুজো ৷ (নিজস্ব ছবি)
author img

By ETV Bharat Bangla Team

Published : October 18, 2025 at 6:28 PM IST

3 Min Read
Choose ETV Bharat

কলকাতা, 18 অক্টোবর: স্বাধীনতার প্রাক্কালে কলকাতা শহরে হওয়া অশান্তির ঘটনা, যা 'দ্য গ্রেট ক্যালাকাটা কিলিং' নামে কুখ্যাত ৷ সেই ঘটনার কথা বললেই একটি নাম অবশ্যই আসবে, আর সেটি হল গোপাল মুখোপাধ্যায় ৷ যিনি 'গোপাল পাঁঠা' নামে বেশি পরিচিত ৷ কলকাতা শহরে যাঁর সাত থেকে আটটি পাঁঠার মাংসের দোকান ছিল ৷ তিনি ছিলেন কালীর উপাসক ৷ তাই নিজের কর্মস্থল পাঁঠার মাংসের দোকানেই মন্দির তৈরি করে কালী মূর্তি স্থাপন করেছিলেন 'গোপাল পাঁঠা' ৷ প্রায় 80 বছর ধরে সেই পুজো হয়ে আসছে ৷ বর্তমানে সেই ব্যবসা এবং পুজো সামলাচ্ছেন তাঁর নাতি শান্তনু মুখোপাধ্যায় ৷

একসময় কলকাতার বউবাজার, নিউ মার্কেট মটন রেঞ্জ, কলেজ স্ট্রিটে মেডিক্যাল কলেজের উল্টো দিকে, বেলেঘাটায় দু’টি ও ভবানীপুর ডিএন মিত্র স্কোয়ারে 'গোপাল পাঁঠা'র মাংসের দোকান ছিল ৷ সময়ে সঙ্গে-সঙ্গে এই সব দোকানের মালিকানা হাতবদল হয়েছে ৷ শেষ ছিল কলেজ স্ট্রিট ও ভবানীপুরের দু’টি দোকান ৷ এই দুই দোকানেই কালী মন্দির তৈরি করেছিলেন তিনি ৷ প্রায় 14 বছর আগে সেই দোকানের মালিকানারও হাতবদল হয়েছে ৷

মাংসের দোকানে 'গোপাল পাঠা'র প্রতিষ্ঠিত কালী পুজো ৷ (ইটিভি ভারত)

বর্তমানে গোপাল মুখোপাধ্যায়ের দোকান হিসেবে রয়েছে কেবল ভবানীপুরে গাজা পার্ক সংলগ্ন দোকানটি ৷ সেটি এখন চালান তাঁর নাতি শান্তনু মুখোপাধ্যায় ৷ দোকানটির প্রকৃত নাম 'মা কালী মিট শপ' ৷ তবে, এই নামে লোকজন খুব একটা পরিচিত নয় দোকানের সঙ্গে ৷ বরং 'গোপাল পাঁঠা'র মাংসের দোকান নামে লোকজন একবারে চেনে ৷

সেই দোকানের ভিতরেই রয়েছে 'গোপাল পাঁঠা'র তৈরি কালী মন্দির ৷ পাঁচ পীঠস্থানের মাটি ও জল দিয়ে মন্দির স্থাপন করেছিলেন ৷ গোপাল পাঁঠা এখানে শ্যামা কালী প্রতিষ্ঠা করেছিলেন ৷ আজও সেখানে শ্যামা কালীর পুজো হয় ৷ এমনকি, আশি বছর আগে যে নিয়ম মেনে পুজো শুরু হয়েছিল, তা এখনও পালন করছেন শান্তনু মুখোপাধ্যায় ৷

Kali Puja
মা কালী মিট শপে গোপাল মুখোপাধ্যায় ওরফে গোপাল পাঠার ছবি ৷ (নিজস্ব ছবি)

তিনি বলেন, "আমার দাদুর সময় থেকে মা কালীকে নিত্যদিন পুজো করা হয় ৷ চাল, কলা, মিষ্টি, বাতাসা দিয়ে পুজো দেওয়া হয় দু’বেলা ৷ আর অমাবস্যায় বিশেষ পুজো হয় ৷ সেই সময় পুরোহিত আসেন ৷ আর বিশেষ অমাবস্যা যেমন, কৌশিকী অমাবস্যা কিংবা ফলহারিনী অমাবস্যায় পাঁঠা বলি দেওয়া হয় ৷ কালী পুজোর সময়ও পাঁঠা বলি হয় এখানে ৷ প্রতি অমাবস্যায় মা’কে চাল ও চিনির নৈবেদ্য নিবেদন করা হয় ৷"

Kali Puja
কালী মূর্তির সামনে বলির হাঁড়ি কাঠ ৷ (নিজস্ব ছবি)

আগে বলির মাংস সবার মধ্যে বিলি করে দেওয়া হতো ৷ তবে, বর্তমানে বাজারদর ও পাঁঠার মাংসের যা দাম, তা বিচার করে যেমন খুশি করে বিলিবিতরণ হয় না ৷ তিনি বলেন, "আগে বলির পর প্রসাদ হিসেবে মাংস সবার মধ্যে বিলিয়ে দেওয়া হতো ৷ এখন তা করা হয় না ৷ কেউ মাংস কিনতে এলে, গ্রাহকদের কেনা মাংসের সঙ্গে বলির মাংস অল্প পরিমাণে প্রসাদ হিসেবে দেওয়া হয় ৷ যেমন ধরুন, কেউ এক কেজি মাংস কিনল, তাঁকে প্রসাদের মাংস আড়াশো গ্রাম দিয়ে দেওয়া হল ৷ পুরোটাই বর্তমান বাজারের জন্য ৷ কারণ, পাঠার মাংসের দাম এখন 900 টাকা কেজি ৷"

Kali Puja
'গোপাল পাঠা'র মাংসের দোকানে কালী মন্দির ৷ (নিজস্ব ছবি)

ভবানীপুরে গোপাল পাঁঠার দোকানের দেবী মূর্তি প্রতিবছর কালী পুজোর আগের দিন ভাসান দেওয়া হয় ৷ তারপর কালী পুজোর দিন নতুন মূর্তি আনা হয় ৷ সেই মূর্তি সারা বছর পুজো করা হয় ৷