অন্নপূর্ণা ভাণ্ডারের টাকা মিলছে না, মুখ্যমন্ত্রীর সভার সামনে মহিলাদের বিক্ষোভ
মহিলাদের অভিযোগ, পুরসভা ও পঞ্চায়েত বিভিন্ন সরকারি প্রকল্পে সাধারণ মানুষকে হেনস্থা করছে ৷ অনেকেই অন্নপূর্ণা ভাণ্ডারের টাকা পাননি।

Published : August 31, 2026 at 7:22 PM IST
মধ্যমগ্রাম, 31 অগস্ট: অন্নপূর্ণা ভাণ্ডার প্রকল্পের টাকা মিলছে না। এসআইআরে বাদ গিয়েছে বহু যোগ্য ভোটারের নাম। সাধারণ মানুষ তাঁদের সমস্যার কথা জানাতে পারছেন না ৷ অবশেষে নিজেদের অভিযোগের কথা মুখ্যমন্ত্রীর সভাকেই বেছে নিলেন একদল মহিলা। সোমবার বিকেলে উত্তর 24 পরগনার মধ্যমগ্রামে মুখ্যমন্ত্রীর শুভেন্দু অধিকারীর সভার সামনে দাঁড়িয়ে তাঁদের বিভিন্ন প্রশ্ন তুলে সোচ্চার হতে দেখা গেলে ৷ তাতে দেখা গিয়েছে এক বিজেপি নেত্রীকেও। যদিও তাঁর দাবি, তিনি বিক্ষোভ দেখাতে আসেননি। মুখ্যমন্ত্রীর কাছে অভিযোগ করতে এসেছিলেন ৷
এদিন মধ্যমগ্রামের এক অনুষ্ঠানে উত্তর 24 পরগনা মহিলা সমবায় সমিতির বার্ষিক সম্মেলন ছিল ৷ ওই সম্মেলনে উপস্থিত ছিলেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী ও খাদ্যমন্ত্রী অশোক কীর্তনীয়া-সহ অন্যান্য অতিথিরা। বিকেল তিনটে নাগাদ মুখ্যমন্ত্রী সভাস্থলে আসেন। আমন্ত্রণ পেয়ে বহু মানুষ ওই সভায় যোগ দিতে এসেছিলেন ৷ অভিযোগ, পুলিশ তাঁদের অনেককেই ভিতরে ঢুকতে দেয়নি। হাতে আমন্ত্রণপত্র নিয়ে তাঁরা সংবাদমাধ্যমের সামনে ক্ষোভ উগড়ে দেন ৷ ওই মহিলাদের অনেকের অভিযোগ, পুরসভা ও পঞ্চায়েত বিভিন্ন সরকারি প্রকল্পে সাধারণ মানুষকে হেনস্থা করছে ৷ অনেকেই অন্নপূর্ণা ভাণ্ডারের টাকা পাননি।
ভোটার তালিকাতেও অনেকেরই নাম বাদ গিয়েছে ৷ সরকারের বিভিন্ন প্রকল্পে সাধারণ মানুষ হেনস্থার শিকার হচ্ছেন। কিন্তু তাঁরা কোথায় গেলে সমাধান পাবেন সে ব্যাপারে কেউ কোনও উত্তর দিতে পারছেন না ৷ মুখ্যমন্ত্রীর সভা শুরু হতেই একদল মহিলা জড়ো হন ৷ অভিযোগ জানাতে তাঁরা সভাকক্ষে যাওয়ার চেষ্টা করেন ৷ কিন্তু পুলিশ তাঁদের বাধা দেয় ৷ কয়েকজন হাতে মুখ্যমন্ত্রীর সভায় আসার আমন্ত্রণপত্র নিয়ে পুলিশকে দেখান ৷ তারপরেও পুলিশ তাঁদের ভিতরে ঢুকতে দেয়নি বলে অভিযোগ ৷ এরপরই মহিলারা সভাকক্ষের সামনে বিক্ষোভ দেখাতে থাকেন ৷ তাঁরা মুখ্যমন্ত্রীকে অভিযোগ জানাতে চান বলে চিৎকার করতে থাকেন ৷
বিজেপির মধ্যমগ্রাম তিন নম্বর মন্ডলের মহিলা মোর্চার সভানেত্রী মঞ্জু সরকার বলেন, "ভোটার তালিকায় বহু যোগ্য ভোটারের নাম বাদ গিয়েছে ৷ অনেকেই অন্নপূর্ণা ভাণ্ডারের টাকা পাননি। অন্যান্য সরকারি প্রকল্পের সুবিধা সাধারণ মানুষ পাচ্ছেন না। জনপ্রতিনিধিরাও সাধারণ মানুষের সঙ্গে সদ্ব্যবহার করছেন না। সাধারণ মানুষ নানা পরিষেবা থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন। তাই মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর কাছে আমরা এই অভিযোগগুলো জানাতে এসেছিলাম।"
অন্যদিকে, মুখ্যমন্ত্রীর সভায় হাজির ছিলেন ঋতব্রত শিবিরের মধ্যমগ্রামের তৃণমূল বিধায়ক রথীন ঘোষ। অনুষ্ঠানের ছাপানো আমন্ত্রণপত্রে তাঁর নাম ছিল না। মুখ্যমন্ত্রীর মঞ্চে খাদ্যমন্ত্রী অশোক কীর্তনিয়া-সহ অন্যান্য অতিথিরা থাকলেও স্থানীয় বিধায়ক রথীন ঘোষের মঞ্চে ঠাঁই হয়নি। তাঁকে নীচে বসতে হয়।

