ETV Bharat / state

সন্তান-সহ কীটনাশক খেলেন স্বামী পরিত্যক্তা মহিলা ! নেপথ্যে SIR বলে দাবি তৃণমূলের

এসএসকেএম হাসপাতালে চিকিৎসাধীন মহিলা এবং তাঁর সন্তান ৷ এসআইআর-এর এন্যুমারেশন ফর্ম না-পাওয়ায় আতঙ্কে ছিলেন, দাবি পরিবারের ৷

SIR PANIC
প্রতীকী ছবি ৷ (ফাইল ছবি)
author img

By ETV Bharat Bangla Team

Published : November 9, 2025 at 8:21 PM IST

4 Min Read
Choose ETV Bharat

ধনিয়াখালী, 9 নভেম্বর: পারিবারিক অশান্তির জেরে প্রায় 6 বছর আগে কোলে সন্তান নিয়ে স্বামীর ঘর ছেড়েছিলেন মহিলা ৷ কিন্তু, শনিবার সকালে সেই সন্তানকে নিয়েই কীটনাশক খেলেন তিনি ৷ বর্তমানে কলকাতার এসএসকেএম হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন দু’জনে ৷ তবে, এই ঘটনার নেপথ্যেও নাকি এসআইআর আতঙ্ক বলে অভিযোগ মহিলার বাপের বাড়ি এবং স্থানীয় তৃণমূল নেতৃত্বের ৷ ঘটনাটি ঘটেছে হুগলির ধনিয়াখালী সোমসপুর এলাকায় ৷

ঘটনার খবর পেয়ে এ দিন মহিলার বাড়িতে পৌঁছে যান ধনিয়াখালির তৃণমূল বিধায়ক অসীমা পাত্র এবং তৃণমূল নেতৃত্ব ৷ তাঁদের অভিযোগ, স্বামীর ঘর ছেড়ে চলে আসা এই মহিলা এসআইআর প্রক্রিয়া নিয়ে আতঙ্কে ভুগছিলেন ৷ সম্প্রতি বিএলও তাঁদের বাড়িতে এন্যুমারেশন ফর্ম দিয়ে যান ৷ সেখানে বাপের বাড়ির সব সদস্যের ফর্ম থাকলেও তাঁর ছিল না ৷ কারণ, বিয়ের পরেই তাঁর শ্বশুরবাড়ির ঠিকানায় ভোটার কার্ড স্থানান্তরিত হয়ে যায় ৷

ধনিয়াখালীতে মহিলার কীটনাশক খাওয়ার ঘটনায় এসআইআর-কে দায়ী করল তৃণমূল ৷ (ইটিভি ভারত)

তাই পরিবারের তরফে বলা হয়, শ্বশুরবাড়িতে গিয়ে সেই এন্যুমারেশন ফর্ম নিয়ে আসতে ৷ তারপরে পরিবারের লোকজনই বাকি কাজ করে দেবেন ৷ কিন্তু, শ্বশুরবাড়ি থেকে এসআইআর-এর ওই ফর্ম তাঁকে দেবে কি না, সেই নিয়েই মানসিক চাপে ভুগছিলেন বলে দাবি করেছেন বিধায়ক অসীমা পাত্র ৷

এই ঘটনা নিয়ে ওই মহিলার দাদা বলেন, "এন্যুমারেশন ফর্ম সবার এসেছে ৷ বোন ফর্ম পায়নি ৷ ওকে বলেছিলাম শ্বশুরবাড়িতে ফর্ম দেবে ৷ অনলাইনে ফর্মের ব্যবস্থা করতেও বলেছিলাম ৷ শ্বশুরবাড়িতে গণ্ডগোলের জন্য 4-5 বছর ধরে বাপের বাড়িতেই রয়েছে বোন ৷ ও ভেবেছিল শ্বশুরবাড়িতে গেলে হয়তো ফর্ম দেবে না ৷ সেই ভেবেই এই সিদ্ধান্ত নিয়েছে ৷"

এই ঘটনা নিয়ে হুগলি গ্রামীণ পুলিশের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার কল্যাণ চক্রবর্তী বলেন, "ধনিয়াখালী থানায় মা ও মেয়ের আত্মহত্যার চেষ্টার কোনও অভিযোগ দায়ের হয়নি ৷"

বিধায়ক অসীমা পাত্র বলেন, "বিজেপি রাজ্য একটা ভয়ের পরিবেশ তৈরি করেছে ৷ সুকান্ত মজুমদার, শুভেন্দু অধিকারীরা খালি বলে বেড়াচ্ছে, কাগজ না-থাকলে বাংলাদেশে পাঠিয়ে দেবে ৷ এর থেকে মানুষের মনে আতঙ্ক তৈরি হচ্ছে ৷ এই মেয়েটির শ্বশুরবাড়িতে এসআইআর-এর ফর্ম আছে ৷ সেখান থেকে তাঁকে আনতে বলা হয়েছিল ৷ কিন্তু, তাঁরা সেই ফর্ম দেবে কি না, সেই চিন্তায় আজ আত্মহত্যার চেষ্টা করল ৷ আমরা বলছি, চিন্তার কোনও কারণ নেই ৷ মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় এবং অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় আপনাদের সঙ্গে আছে ৷ একজন ভোটারেরও নাম বাদ যাবে না ৷"

যদিও পুরো বিষয়টিকে তৃণমূলের 'দেহ নিয়ে রাজনীতি' বলে অভিযোগ করেছেন হুগলি জেলা বিজেপির নেতা তথা রাজ্য কমিটির সদস্য স্বপন পাল ৷ তিনি বলেন, "এমন ঘটনা কাম্য নয় ৷ কিন্তু, এসআইআর নিয়ে তৃণমূল ভয়ের রাজনীতি করছে ৷ ওদের পুরনো স্বভাব মৃতদেহ নিয়ে রাজনীতি করা ৷ এখন পারিবারিক বিবাদে বা মানসিক অবসাদ থেকে বা অন্য কোনও কারণে লোকজন আত্মহত্যা করলেও তৃণমূল এসআইআর-কে টেনে আনছে ৷ কোনও ভোটারের নাম বাদ যাবে না ৷ যাঁরা প্রকৃত ভোটার তাঁদের সবার নাম থাকবে ৷ আমরা সবাইকে বলছি, অযথা ভয় পাবেন না ৷ তৃণমূল বুঝে গেছে 2026 সালে ওদের বিসর্জন হবে ৷ তাই এইভাবে মানুষকে ভয় দেখিয়ে ও দেহ নিয়ে রাজনীতি শুরু করেছে ৷"

আত্মহত্যা কোনও সমাধান নয় ৷ যদি আপনার মধ্যে কখনও আত্মহত্যার চিন্তা মাথাচাড়া দেয় বা আপনার কোনও বন্ধু বা পরিচিত এই সমস্যায় জর্জরিত হন, তাহলে ভেঙে পড়বেন না। জানবেন, এমন কেউ আছে যে আপনার যন্ত্রণা, আপনার হতাশা ভাগ করে নিতে সদা-প্রস্তুত। আপনার পাশে দাঁড়াতে তৎপর। সাহায্য পেতে দিনের যে কোনও সময়ে 044-24640050 এই নম্বরে কল করুন স্নেহা ফাউন্ডেশনে। টাটা ইন্সটিটিউট অফ সোশাল সায়েন্সের হেল্পলাইন নম্বরেও (9152987821) কল করতে পারেন। এখানে ফোন করতে হবে সোমবার থেকে শনিবার সকাল 8টা থেকে রাত 10টার মধ্যে।