ETV Bharat / state

দাম্পত্য কলহের জেরে স্বামীকে খুন ! মালদায় গ্রেফতার অভিযুক্ত মহিলা

ছয় বছর আগে ভালোবেসে বিয়ে করেছিলেন বিশ্বজিৎ ও পম্পা ৷ সম্প্রতি দু'জনের মধ্যে বিবাদ শুরু হয় ৷ শনিবার বিবাদ চরমে পৌঁছয় ৷

Representational Image
প্রতীকী ছবি (ইটিভি ভারত)
author img

By ETV Bharat Bangla Team

Published : November 30, 2025 at 7:53 PM IST

3 Min Read
Choose ETV Bharat

মালদা, 30 নভেম্বর: দাম্পত্য কলহের জেরে স্বামীকে খুন করলেন মহিলা ! খুনের অভিযোগে গ্রেফতার করা হয়েছে স্ত্রীকে ৷ খুনে ব্যবহৃত অস্ত্রও বাজেয়াপ্ত করেছে পুলিশ ৷ শনিবার রাতের ঘটনায় তীব্র চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে বামনগোলা ব্লকের পাকুয়াহাট গ্রাম পঞ্চায়েতের উত্তর সালালপুর এলাকায় ৷ ভালোবেসে বিয়ে করেছিলেন তাঁরা ৷ বিয়ের পর ভালোবাসার মানুষটিকে কেন খুন করলেন স্ত্রী ? প্রশ্ন গ্রামবাসীদের ৷ সেই প্রশ্নের উত্তর খুঁজছে পুলিশও ৷

পুলিশ সূত্রে খবর, নিহত যুবকের নাম বিশ্বজিৎ সরকার (31) ৷ বাড়ি উত্তর সালালপুর গ্রামে ৷ গাজোলে 12 নম্বর জাতীয় সড়কের টোল ট্যাক্স গেটে কাজ করতেন বিশ্বজিৎ ৷ পরিবারের দাবি, দীর্ঘদিন প্রেমের সম্পর্কে থাকার পর 6 বছর আগে পাশের দক্ষিণ সালালপুর গ্রামের যুবতী পম্পা রায়কে বিয়ে করেন বিশ্বজিৎ ৷ দুই পরিবারের সম্মতিতেই বিয়ে হয় ৷ চার বছরের একটি মেয়েও রয়েছে তাঁদের ৷

জেলার এক পুলিশ কর্তা বলেন, “এই ঘটনায় নিহতের স্ত্রী পম্পা রায় সরকারকে গ্রেফতার করা হয়েছে ৷ খুনে ব্যবহৃত অস্ত্রটিও বাজেয়াপ্ত করা হয়েছে ৷ নির্দিষ্ট ধারায় মামলা রুজু করে আজই ধৃতকে আদালতে পেশ করা হচ্ছে ৷ নিহত যুবকের দেহ ময়নাতদন্তের জন্য পাঠানো হয়েছে ৷ রিপোর্ট এলে মৃত্যুর সঠিক কারণ জানা যাবে ৷ গোটা ঘটনা নিয়ে তদন্ত শুরু করেছে বামনগোলা থানার পুলিশ ৷”

বিশ্বজিতের রোজগারে 3 জনের সংসার ঠিক মতোই চলে যেত ৷ পরিবারের অভিযোগ, কিছুদিন ধরে দু'জনের মধ্যে বিবাদ শুরু হয় ৷ যদিও কী কারণে তাঁদের এই বিবাদ, জানতে পারেননি কেউ ৷ এই আবহে শনিবার রাতে কাজ থেকে ফেরার পর বিশ্বজিৎকে ঘরে ঢুকতে বাধা দেন পম্পা ৷ এই নিয়ে দু’জনের মধ্যে ফের বচসা শুরু হয় ৷ বচসা চলাকালীন স্বামী জোর করে ঘরে ঢুকতে গেলে ধারালো ছুরি দিয়ে তাঁর বামদিকে বুকের কাছে বিঁধিয়ে দেন মহিলা ৷

বিশ্বজিতের চিৎকারে পরিবারের লোকজন ছুটে আসেন ৷ তাঁকে উদ্ধার করে তড়িঘড়ি স্থানীয় বামনগোলা গ্রামীণ হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয় ৷ শারীরিক পরিস্থিতি আশঙ্কাজনক হওয়ায় তাঁকে মালদা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে স্থানান্তরিত করা হয় ৷ সেখানে এদিন গভীর রাতে মৃত্যু হয় বিশ্বজিতের ৷ খবর পেয়ে বাড়ি থেকে পম্পাকে গ্রেফতার করে বামনগোলা থানার পুলিশ ৷ খুনে ব্যবহৃত ধারালো ছুরি বাজেয়াপ্ত করা হয় ৷

বিশ্বজিতের ভাই প্রসেনজিৎ বলেন, “আমি বাইরে কাজ করি ৷ মাসের মধ্যে 15 দিন বাড়ির বাইরে থাকি ৷ ওঁদের মধ্যে কী নিয়ে গোলমাল চলছিল, জানি না ৷ গতকালও আমি বাইরে ছিলাম ৷ ঘটনার খবর পেয়ে তড়িঘড়ি বাড়ি যাই ৷ শুনি দাদা কাজ থেকে ফিরে ঘরে ঢুকতে চাইছিলেন ৷ বউদি বাধা দেন ৷ জোর করে ঘরে ঢুকতে গেলে ঘরের শো কেস থেকে ধারালো ছুরি বের করে দাদার বুকে আঘাত করে বউদি ৷"

প্রসেনজিৎ আরও বলেন, "অনেকে বলছে ওদের মধ্যে কারও নাকি অবৈধ সম্পর্ক ছিল ৷ কিন্তু তেমন কিছু কোনওদিন বুঝতে পারিনি ৷ বাড়ির কেউই জানতে পারেনি ৷ এতদিন ওদের মধ্যে কখনও হাতাহাতিও হয়নি ৷ মাঝেমধ্যে দাদা মদ্যপান করত ৷ কিন্তু তা নিয়েও এতদিন কোনও ঝামেলার কথা শুনিনি ৷ স্বামী-স্ত্রীর মধ্যে ঝামেলা হয়েই থাকে ৷ কিন্তু তার জন্য কি স্বামীকে খুন করতে হবে? আমরা বউদির শাস্তি দাবি করছি ৷"

পড়ুন: স্বামী-স্ত্রীর ঝগড়া, টানা-হ্যাঁচড়ায় প্রাণ গেল তিন মাসের শিশুর