কেন নেই BLA-2, প্রশ্ন তুলে শুনানি বন্ধ করালেন তৃণমূল বিধায়ক, উত্তেজনা মগরায়
সোমবার ঘটনাটি ঘটে মগরা বিডিও-তে৷ ঘণ্টাখানেক শুনানি বন্ধ ছিল৷ বিএলএ-2’দের শুনানিতে রাখা না-হলে আবার বিক্ষোভের হুঁশিয়ারি দিয়েছেন তৃণমূল বিধায়ক অসিত মজুমদার৷

Published : December 29, 2025 at 6:20 PM IST
মগরা (হুগলি), 29 ডিসেম্বর: ভোটার তালিকার স্পেশাল ইনটেনসিভ রিভিশন বা এসআইআর (SIR) পর্বের শুনানির কাজ শুরু হয়েছে গত শনিবার থেকে৷ সেই পর্বের তৃতীয় দিনেই ধুন্ধুমার পরিস্থিতি তৈরি হল হুগলির মগরা বিডিও অফিসে৷ শুনানিতে কেন বিএলএ-2’দের রাখা হচ্ছে না, এই প্রশ্ন তুলে কাজ বন্ধ করে দিলেন চুঁচুড়ার বিধায়ক অসিত মজুমদার৷
এই নিয়ে পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়ে ওঠে৷ এর জেরে ঘণ্টাখানেক বন্ধ হয়ে যায় শুনানি৷ বিএলএ-2’দের শুনানিতে থাকতে দেওয়া না-হলে আগামিকাল মঙ্গলবার ফের বিক্ষোভ করা হবে বলে জানিয়েদেন তৃণমূল কংগ্রেসের এই বিধায়ক৷ এই পরিস্থিতিতে মুখ্য নির্বাচনী আধিকারিকের দফতর থেকে হুগলির জেলাশাসকের কাছে বিষয়টি জানতে চাওয়া হয়৷
শুনানিতে নেই বিএলএ-2
হুগলির মগরা বিডিও অফিসে এসআইআর-এর শুনানি কেন্দ্র তৈরি করেছে নির্বাচন কমিশন৷ সেখানে 1200 ভোটারের শুনানি হওয়ার কথা৷ চুঁচুড়া, সপ্তগ্রাম ও বলাগড় বিধানসভার ভোটারদের শুনানি হচ্ছে এখানে৷ সোমবার বেলা 12টা নাগাদ সেখানে হাজির হন চুঁচুড়ার বিধায়ক অসিত মজুমদার৷ তিনি সেখানে গিয়ে প্রশ্ন তোলেন, বিএলএ-2’দের শুনানিতে কেন রাখা হয়নি?
তিনি বলেন, ‘‘আমাদের প্রশ্ন বিএলএ-2’রা কেন হেয়ারিং-এ থাকবে না? স্বচ্ছতা আনতে হলে বিএলএ-দের রাখতে হবে।’’ অসিত মজুমদারের বক্তব্য, এসআইআর-এর ফর্ম ফিল-আপ পর্বে বিএলএ-2’দের গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা ছিল৷ সেই কারণেও শুনানির সময়ও তাঁদের রাখা উচিত ছিল৷ কিন্তু সেটা করা হয়নি৷
তৃণমূলের এই বিধায়কের অভিযোগ, ‘‘বিএলএ না-থাকলে ভোটারদের নাম বাদ দিয়ে দেওয়া হবে। এটা চলবে না। সঠিক ভোটারের নাম বাদ দেওয়া যাবে না। তার জন্য আমাদের নেতা অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় এবং মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় যেভাবে নির্দেশ দেবেন, আমরা সেভাবে লড়ব।’’
জোর করে শুনানি বন্ধের অভিযোগ
নির্বাচন কমিশনের তরফে যাঁদের শুনানির দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে, তাঁদের দাবি যে বিএলএ-2’দের রাখার কোনও নির্দেশ আসেনি৷ সেই কারণেই বিএলএ-2’দের বাদ দিয়েই শুনানির কাজ চলছে৷ তখনই এই নির্দেশের কপি দেখতে চান অসিত মজুমদার৷ কিন্তু এই সংক্রান্ত কোনও লিখিত নির্দেশ নির্বাচন কমিশনের তরফে দেখানো হয়নি৷
এর পরই পরিস্থিতি আরও উত্তপ্ত হয়ে ওঠে৷ চুঁচুড়ার বিধায়ক শুনানি কেন্দ্রের গেট বন্ধ করে দেন৷ বন্ধ হয়ে যায় শুনানি৷ অসিত মজুমদার বলেন, ‘‘আমরা এই ধরনের শুনানি পদ্ধতির বিরুদ্ধে। যাঁকে তাঁকে যেকোনও অবস্থায় শুনানি করে দেওয়া হচ্ছে। যাঁরা সরকারি কর্মচারী দীর্ঘদিন সরকারি কাজ করেছেন, যাঁরা অবসর নিয়েছেন, পেনশন পান, তাঁদেরকে হিয়ারিং-এ ডাকা হচ্ছে। যাঁদের পাসপোর্ট আছে, যাঁদের 2002 এর ভোটার তালিকায় নাম রয়েছে, তাঁদেরও হেয়ারিং-এ ডাকা হচ্ছে। এটা চরম অব্যবস্থা, মানুষের দুর্ভোগের শেষ নেই। অনেক বয়স্ক মানুষ আছেন, তাঁরা লাইনে দীর্ঘক্ষণ দাঁড়িয়ে রয়েছেন।’’
ঘণ্টাখানেক পর তিনি শুনানি কেন্দ্রর গেট খুলে দেন৷ আবার কাজ শুরু হয়৷ যদিও তিনি হুঁশিয়ারি দেন যে বিএলএ-2’দের শুনানিতে না-রাখা হলে তিনি আগামিকাল মঙ্গলবার ফের আসবেন৷ এসে বিক্ষোভ দেখাবেন৷ তৃণমূলের এই বিধায়ক বলেন, ‘‘আগামিকাল যদি বিএলএকে শুনানিতে অংশ নিতে না-দেওয়া হয় তাহলে ফের বিক্ষোভ করা হবে।’’
কী বলছে কমিশন?
এই নিয়ে হুগলির জেলাশাসককে ফোন করা হয়৷ তিনি ফোন ধরেননি৷ তবে মগরার বিডিও রাজীব পোদ্দার এদিন দীর্ঘক্ষণ কথা বলেন অসিত মজুমদারের সঙ্গে৷ পরে বিডিও জানান, নির্বাচন কমিশনের নির্দেশ মতো কাজ হচ্ছে। এদিকে মুখ্য নির্বাচনী আধিকারিকের দফতর সূত্রে খবর, এই বিষয়টি হুগলির জেলাশাসকের কাছে জানতে চাওয়া হয়েছে৷ প্রয়োজনে পদক্ষেপ করা হবে৷
ভোটারদের ভোগান্তি
শুনানিতে আসা নাগেন্দ্র রাউত বলেন, ‘‘আমার মায়ের 95 বছর বয়স৷ তিনি অসুস্থ৷ তাঁর ভোটার কার্ড হারিয়ে গিয়েছিল৷ নাম ভুল আছে৷ সেটার জন্য শুনানিতে ডাকা হয়েছে। এসে দেখি এই অবস্থা৷ অনেকক্ষণ ধরে দাঁড়িয়ে রয়েছি।’’
শুনানিতে আসা আরেকজন সমীর মালাকার বলেন, ‘‘সকাল আটটার সময় ব্লক অফিসে এসেছি৷ এখনও কিছুই হয়নি। কেমন হেয়ারিং হবে? কবে হবে? তার কিছুই বুঝতে পারছি না। অনেক দূর থেকে আমরা এসেছি, আসার পর এই ফল পেলাম। বিধায়ক আসার পর থেকেই হিয়ারিং পুরো বন্ধ। 2002-এর তালিকায় আমার নাম নেই, পরে ভোটার হয়েছি। কিন্তু আমি ভোট দিয়েছি। কখন হেয়ারিং হবে কিছুই বুঝতে পারছি না।’’
বিজেপির বক্তব্য
বিজেপির দাবি, নির্বাচন কমিশনের নির্দেশ অনুযায়ী কাজ করছেন আধিকারিকরা। বিধায়ক বা তৃণমূলের কথা শুনবে কেন কমিশন? তৃণমূল প্রথম থেকেই এসআইআর-এর বিপক্ষে। তাই এসব করে গন্ডগোল পাকানোর চেষ্টা করেছে তারা। বিজেপি নেতা সুরেশ সাউ বলেন, ‘‘এর আগেও একাধিকবার তৃণমূল এসআইআর প্রক্রিয়া বানচাল করার চেষ্টা করেছে৷ এর আগে বিএলও-দের উস্কানি দিয়েছে৷ আজ বিধায়ক গিয়ে শুনানি বন্ধ করে দিলেন৷ কারণ, তৃণমূল চায় না বাংলায় সুষ্ঠুভাবে এসআইআর হোক৷’’

