রঙের উৎসবে রবীন্দ্র সরোবরে ক্লাব সদস্যদের প্রবেশের অনুমতি কেন, দূষণ নিয়ে সরব পরিবেশপ্রেমীরা
এই নিয়ে পরিবেশপ্রেমীরা চিঠি লিখেছে কেএমডিএ-কে৷ তবে সেই চিঠির জবাব মেলেনি৷

Published : March 3, 2026 at 4:42 PM IST
কলকাতা, 3 মার্চ: রবীন্দ্র সরোবরে ছট পুজো আটকানো নিয়ে চলে বিস্তর লড়াই। দীর্ঘ লড়াইয়ে মিলেছে ফল। হয়েছে বিকল্প পরিকাঠামো। তবে রঙের খেলায় সেই দূষণ ঠেকানো নিয়ে কেন উদাসীন কর্তৃপক্ষ? এই প্রশ্ন তুলছেন পরিবেশপ্রেমী ও সরোবর রক্ষার লড়াইয়ে যুক্ত মানুষজন। তাঁরা সরোবরের রক্ষণাবেক্ষণের দায়িত্বে থাকা কলকাতা মেট্রোপলিটন ডেভলপমেন্ট অথরিটিকে মনে করাচ্ছেন পরিবেশ আদালতের নিষেধাজ্ঞার কথা।
অভিযোগ, সাধারণের প্রবেশ নিষেধ করলেও সরোবরে থাকা ক্লাবগুলির সদস্যদের প্রবেশ অনুমতি দেওয়া হচ্ছে দোল-হোলির দিন। এর কারণ জানতে কেএমডিএ-কে চিঠি লিখেছেন পরিবেশকর্মীরা৷ সেই চিঠির কোনও জবাব কেএমডিএ দেয়নি বলেই দাবি পরিবেশকর্মীদের।

দক্ষিণের অন্যতম ফুসফুস রবীন্দ্র সরোবর। ছট পালনে জলের গুণমান খারাপ হয়ে যায়৷ তাই ছট পুজো বন্ধ করতে প্রতিবাদে সরব হন পরিবেশকর্মীরা৷ সেই কারণে রবীন্দ্র সরোবরে ছট পুজো বন্ধ থাকে৷ দোল-হোলিও সাধারণ মানুষকে সরোবরের ভিতরে প্রবেশ করতে দেওয়া হয় না৷
কিন্তু কেএমডিএ-র তরফে নির্দেশিকা জারি করে বলা হয়েছে, দোল ও হোলি উপলক্ষ্যে 2 মার্চ দুপুর 2টো থেকে 4 মার্চ সন্ধ্যা 7টা পর্যন্ত বন্ধ থাকবে সরোবর। কিন্তু সরোবরের মধ্যে যে ক্লাবগুলি আছে, সেখানে সদস্যরা প্রবেশ করতে পারবেন৷ সেই নিয়েই ক্ষুব্ধ পরিবেশকর্মীরা৷ ইতিমধ্যেই পরিবেশ বিজ্ঞানী সৌমেন্দ্রমোহন ঘোষ-সহ প্রাতঃভ্রমণকারীরা কেএমডিএ-কে চিঠি দিয়ে এই ক্ষোভের কথা জানিয়েছে।
সৌমেন্দ্রমোহন ঘোষের কথায়, সাধারণের প্রবেশ নিষেধ করার মূল লক্ষ্য হল দোলের দিনে যে রং খেলা হয়, তা থেকে সরোবরের জল দূষণ হয়ে থাকে। একেই দীর্ঘদিন পলি তোলা না-হওয়ায় সরোবরের বাস্তুতন্ত্র বিপন্ন হতে বসেছে। তার মধ্যে ক্লাবগুলিকে প্রবেশের অনুমতি দেওয়া মানেই সেখানে রং খেলা-সহ নানারকম ইভেন্ট হবে। আর সেই জল গিয়ে মিশবে এই সরোবরের জলে। মূল উদ্দেশ্য ব্যর্থ হবে। সরোবরের বাফার জোনে ক্লাবগুলি অবস্থিত, তাই সেগুলিকে অবশ্যই এই সময়কালে বন্ধ রাখার জন্য নির্দেশ জারি করা উচিত ছিল।
তিনি আরও জানান, পরিবেশ আদালতের রায়ে স্পষ্ট বলা আছে দূষণের হাত থেকে রক্ষা করতে গেলে কী কী পদক্ষেপ করা প্রয়োজন। আইন সবার জন্য সমান হওয়া প্রয়োজন। কর্তৃপক্ষের সঙ্গে সঙ্গে সংশ্লিষ্ট ক্লাবগুলির ও মনে রাখা দরকার এই সরোবর জীববৈচিত্র্যপূর্ণ ও অত্যন্ত সংবেদনশীল তাই কলকাতাকে রক্ষা করতে এই সরোবরের পরিবেশকে সুস্থ রাখা সকলের দায়িত্ব।
যদিও কেএমডিএ কর্তৃপক্ষকে এই প্রসঙ্গে জিজ্ঞাসা করা হলে তারা কোন মন্তব্য করেনি।

