কলেজ স্ট্রিটে হকার উচ্ছেদ হবে ! কী বলছেন বইপাড়ার ব্যবসায়ীরা
কলকাতা পুরনিগম কলেজ স্ট্রিটে কি হকার উচ্ছেদের নোটিশ দিয়েছে? কী বলছেন কর্পোরেশনের কর্তারা?

Published : June 3, 2026 at 9:16 PM IST
কলকাতা, 3 জুন: গোটা বিশ্বের বই প্রেমীদের কাছে ভালোবাসার জায়গা কলেজ স্ট্রিট বই পাড়া। বই প্রেমীদের অন্তরের সেই কলেজ স্ট্রিট বই পাড়াতেই এবার হবে উচ্ছেদ অভিযান! এই ঘটনাই সামাজিক মাধ্যমে বিদ্যুৎ গতিতে ছড়াতে শুরু করেছে। তবে বাস্তব বলছে অন্য কথা। কলকাতা কর্পোরেশনের উচ্চতর নেতৃত্ব সাফ জানিয়েছে, তারা এই মর্মে কোনও নোটিশ ইস্যু করেনি। তাহলে? বই পাড়ার স্থানীয়দের দাবি, কিছু রাস্তায় দোকান বসে৷ তাদের কর্পোরেশন থেকে মৌখিক ভাবে সতর্ক করে গিয়েছে।
বই প্রেমীদের আবেগ কলেজ স্ট্রিট বই পাড়া। সেখানে উচ্ছেদের নোটিশ নিয়ে রয়েছে গুজব। যা রটে, তার কিছুটা ঘটে। এদিন বই পাড়ায় একাধিক স্টলের কর্মীদের সঙ্গে কথা বলে জানা গিয়েছে, কোনও নোটিশ কলকাতা কর্পোরেশনের তরফে কাউকে দেওয়া হয়নি। অর্থাৎ বই পাড়া থাকছে বই পাড়াতেই।

আরও জানা গিয়েছে, সম্প্রতি দিন কয়েক আগে কলকাতা কর্পোরেশনের তরফে মৌখিকভাবে কিছু দোকানদারকে সতর্ক করা হয়েছে। কাদের সতর্ক করা হয়েছে? যাঁরা হকারির নামে বেপরোয়া ভাবে বছরভর ধরে পিচ রাস্তা জুড়ে বিরাট বিরাট দোকান পেতে ব্যবসা চালাচ্ছে, তাদের সেখানে পিচ রাস্তা ছেড়ে দিতে বলা হয়েছে। যে স্টলগুলি ফুটপাথের ধারে আছে, এতদিন তাঁরা স্টলের সামনে ফুটপাথের ধারে থর থর বই রেখে দিতেন। পথচারীদের হাঁটা চলার ব্যাপক সমস্যা তৈরি হতো, তাঁদের সেই অতিরিক্ত বই সরিয়ে দিতে বলা হয়েছে।

এছাড়া গলির দোকানগুলি সামনে রাস্তা দখল করে অনেকটা জায়গা নিয়ে ব্যবসা চালিয়ে যাচ্ছে। তাদের সেই জায়গা ফাঁকা করতে বলা হয়েছে। আর গোটাটাই রাজ্যের হকার বিধি অনুযায়ী বলা হয়েছে। তাতে স্পষ্ট করা আছে, কোনও ভাবেই ব্ল্যাক টপ বা পিচ রাস্তা দখল করে হকারি করা যাবে না।

এক বই বিক্রেতা শৈলেন ঘোষ বলেন, ‘‘আমাদের আগে এই ভাবে বসতে হতো। বাম জমানায় স্টল পেয়েছি। এখানে 300-র বেশি স্টল কলকাতা কর্পোরেশনের লাইসেন্স প্রাপ্ত। পরে তারা তাদের স্টলের সামনে ফুটপাথের বিরাট অংশ বই, খাতা রেখে দখল করে রেখেছে। আবার এই স্টলগুলোর সামনে রাস্তায় বিরাট বিরাট দোকান করেছে অনেকেই। ফলে কেউ গাড়ি নিয়ে যেতে আসতে পারেন না। কেউ গাড়ি নিয়ে বই কিনতে আসতে পারেন না।’’

কলকাতা কর্পোরেশন তরফে জানানো হয়েছে, তারা কোনও হকার উচ্ছেদের নোটিশ সেখানে কাউকে দেয়নি। বিভিন্ন দোকানদার বলেন, ‘‘এখানে কাউকে নোটিশ দেওয়া হয়নি। যাঁদের দোকান আছে। কিন্তু রাস্তা দখল করে মাল রাখতে বারণ করেছে।’’

উচ্ছেদের কথা রটতে অনেকেই আতঙ্কিত হয় পড়েন। তবে অনেকেই আবার বলছেন, এঁরা হকার নন। রাস্তার বিরাট অংশ জুড়ে যে দোকান রয়েছে, তাঁদের একাধিক কর্মী। কেউ কিছু কিনতে এলে গাড়ি দাঁড়াতে দেন না। এই বেলগাম মনোভাবের লাগাম টানা দরকার। আবার কিছু মানুষের কথায়, পুনর্বাসন দেওয়া হকার নীতিতে আছে। সেটা এই মানুষগুলিকে ব্যবস্থা করে তারপর সরানোর কথা ভাবুক পুর-প্রশাসন।

