সুপ্রিম-নির্দেশে চাকরির মেয়াদ 9 মাস বৃদ্ধির পর কী বলছেন চাকরিহারা ‘যোগ্য’ শিক্ষকরা
সোমবার সুপ্রিম কোর্ট নির্দেশ দিয়েছে, ‘যোগ্য’ শিক্ষকদের চাকরির মেয়াদ আগামী 31 মে পর্যন্ত থাকবে ৷ এর মধ্যে নতুন নিয়োগ প্রক্রিয়া শেষ করতে হবে রাজ্যকে ৷

Published : August 31, 2026 at 4:21 PM IST
কলকাতা, 31 অগস্ট: সুপ্রিম কোর্টের পূর্ববর্তী নির্দেশ অনুযায়ী, আজ সোমবারই ছিল চাকরির শেষদিন ৷ তার পর কী হবে ? এই অনিশ্চিয়তাতেই দিন কাটছিল চাকরিহারা ‘যোগ্য’ শিক্ষক-শিক্ষিকাদের ৷ কিন্তু শীর্ষ আদালতের নির্দেশে চাকরির ‘শেষদিনে’ অনিশ্চিয়তার মেঘ কাটল৷ তবে তার মেয়াদ আর 9 মাস ৷
সুপ্রিম কোর্টের নির্দেশ সামনে আসার পর চাকরিহারা ‘যোগ্য’ শিক্ষক-শিক্ষিকারা কিছুটা হলেও স্বস্তিতে ৷ তবে তাঁদের প্রশ্ন, কেন বারবার যোগ্যতার প্রমাণ দিতে হবে ? বর্তমান বিজেপি সরকার কি তাঁদের জন্য কোনও ব্যবস্থা করবে ?
2016 সালে এসএসসি 26 হাজার শিক্ষক-অশিক্ষক কর্মচারী নিয়োগ করে ৷ সেই নিয়োগে দুর্নীতির অভিযোগ ওঠে ৷ মামলা দায়ের হয় ৷ সেই মামলায় 2025 সালের 3 এপ্রিল রায় দেয় সুপ্রিম কোর্ট ৷ পুরো প্যানেলই বাতিল করে দেয় আদালত ৷ তবে এদের মধ্যে যাঁদের অযোগ্য হিসেবে চিহ্নিত করা যায়নি, তাঁদের পরবর্তী নিয়োগ প্রক্রিয়া শেষ না হওয়া পর্যন্ত চাকরিতে বহাল রাখার নির্দেশ দেয় সুপ্রিম কোর্ট ৷
আদালত প্রথমে 2025-এর 31 ডিসেম্বর পর্যন্ত সময়সীমা বেঁধে দেয় ৷ পরে সেই সময়সীমা বৃদ্ধি করে 2026-এর 31 অগস্ট পর্যন্ত ৷ এদিন আবার সেই সময়সীমা বৃদ্ধি করল আদালত ৷ সুপ্রিম কোর্ট জানিয়েছে, 2027 সালের 31 মে-র মধ্যে স্কুলে নিয়োগ প্রক্রিয়া শেষ করবে এসএসসি ৷ যতদিন না নিয়োগ প্রক্রিয়া শেষ হচ্ছে, ততদিন ‘যোগ্য’দের চাকরি বহাল থাকবে ৷ একই সঙ্গে রাজ্যকে আদালত জানিয়েছে, সময়সীমা বৃদ্ধি নিয়ে এটাই শেষ নির্দেশ ৷
সুপ্রিম কোর্টের এই নির্দেশ সামনে আসার পর ‘যোগ্য’ শিক্ষক সংগঠনের চিন্ময় মণ্ডল বলেন, ‘‘সকাল থেকেই আমাদের মধ্যে একটা উৎকণ্ঠা ছিল । কারণ, আজকেই হয়তো আমরা বেতনহীন হয়ে পড়তাম । সেখানে একটা স্বস্তি মিলেছে ।’’ কিন্তু এই সময়সীমা শেষের পর কী হবে ? সেটাও উঠে এসেছে চিন্ময় মণ্ডলের কথায় ৷ তিনি বলেন, ‘‘তবে এই চাকরির মেয়াদ বৃদ্ধি করাই শুধুমাত্র শেষ কথা নয় । আমাদের দাবি থাকবে নবম থেকে দ্বাদশ পর্যন্ত নিয়োগ প্রক্রিয়ায় যে কাজ এখন চলছে । সেটা দ্রুততার সঙ্গে শেষ করতে হবে । পাশাপাশি শিক্ষাকর্মীদের বিষয়টিও দ্রুততার সঙ্গে দেখতে হবে । তার সঙ্গে দেখতে হবে যাঁরা নতুন পরীক্ষায় সফল হতে পারেনি, তাঁদের জন্য সরকার কী ভাবছে ?’’
চাকরিহারা ‘যোগ্য’ শিক্ষক সত্যব্রত জানা বলেন, ‘‘বিরোধী দলনেতা থাকাকালীন বর্তমান মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী আমাদের কথা শুনেছিলেন । তিনি আমাদের বিষয় নিয়ে অবগত । উনি নিজে একটা সময় বলেছিলেন 2025 সালের নিয়োগ পরীক্ষার প্রশ্নপত্র বিক্রি করা হচ্ছে । তাহলে এতকিছুর পরেও দুর্নীতিযুক্ত 2025-এর পরীক্ষা থেকে তিনি আবার শিক্ষক নিয়োগ করবেন ?’’
উল্লেখ্য, সত্যব্রত জানা 2016 সালে চাকরি পেয়েছিলেন ৷ সুপ্রিম কোর্টের নির্দেশে তাঁর চাকরি যায় ৷ তিনি 2025 সালের এসএসসি-র নিয়োগ পরীক্ষায় আবার অংশ নেন ৷ তবে নম্বরের কাট অফের প্রতিযোগিতায় আর পেরে উঠতে পারেননি । ফলে নতুন করে তাঁর আর নিয়োগের সম্ভাবনা নেই বললেই চলে ৷ তাই তাঁর চাকরির মেয়াদ ছিল 31 অগস্ট পর্যন্ত । সুপ্রিম কোর্টের নির্দেশে তা আপাতত বেড়ে আগামী 31 মে পর্যন্ত হল ৷

