উস্কানিমূলক মন্তব্য-প্ররোচনা, জঙ্গি স্লিপার সেলের গতিবিধির উপর কড়া নজর গোয়েন্দাদের
জঙ্গি কার্যকলাপ ও জঙ্গি সংগঠনের স্লিপার সেলের রিক্রুটমেন্ট রুখতে রাজ্য পুলিশ এবং কলকাতা পুলিশের স্পেশাল টাস্ক ফোর্স অনেক ক্ষেত্রেই সমন্বয় সাধন করে কাজ করে ।

Published : December 31, 2025 at 4:44 PM IST
কলকাতা, 31 ডিসেম্বর: চলতি বছরে জাতীয় তদন্তকারী সংস্থা (NIA) জইশ-ই-মহম্মদ (JeM)–এর একটি সন্ত্রাসবাদী ষড়যন্ত্র মামলায় দেশের আটটি রাজ্যে একযোগে তল্লাশি অভিযান চালিয়েছে । এই তল্লাশি চলে অসম, মহারাষ্ট্র, উত্তরপ্রদেশ, বিহার, পশ্চিমবঙ্গ, জম্মু ও কাশ্মীর, রাজস্থান এবং গুজরাতে । অভিযানে JeM–এর সঙ্গে যুক্ত প্রচারমূলক সামগ্রী উদ্ধার হয়, পাশাপাশি JeM–অনুপ্রাণিত জামাত সংগঠনের মাধ্যমে যুবসমাজকে উগ্রপন্থায় প্রভাবিত ও নিয়োগের চেষ্টা সংক্রান্ত তথ্য সামনে আসে । এই ধরনের উগ্রপন্থী চিন্তাধারা ছড়ানো ও যুব নিয়োগের প্রচেষ্টার বিরুদ্ধে রাজ্য পুলিশের প্রতিক্রিয়া ও তাদের প্রস্তুতি ঠিক কী ?
এই বিষয়ে নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক রাজ্য পুলিশের এসটিএফের এক আধিকারিক বলেন, "আমরা প্রতিনিয়ত আমাদের কাজ করে চলি । এর মধ্যে বিশেষ ভাবে কিছু বলার নেই । অনেক ক্ষেত্রেই সাফল্য মিলেছে । কোনও বিশেষ ইনপুট পেলে তার উপর আমরা কাজ করে থাকি । সেই সব অপারেশন চালিয়ে একাধিক ব্যক্তিকে একাধিক নিষিদ্ধ জঙ্গি সংগঠনের সদস্য অভিযোগে গ্রেফতারও করা হয়েছে ৷"

রাজ্য পুলিশ সূত্রের খবর, একাধিক নিষিদ্ধ জঙ্গি সংগঠনের স্লিপার সেল মূলত রাজ্যের বাইরে কিংবা দেশের বাইরে থেকে পরিচালিত হয় অর্থাৎ তাদের মাথারা প্রত্যেকেই প্রভাবশালী এবং মূলত বাইরের । তবে তাদের হয়ে যারা কাজ করে কিংবা স্লিপার সেলের সংগঠনকে মজবুত করার জন্য যারা রিক্রুটমেন্ট চালায়, তারা মূলত রাজ্যের ভিতর থেকেই এই কাজ চালিয়ে যায় । বর্তমানে একাধিক নিষিদ্ধ জঙ্গি সংগঠনের স্লিপার সেলকে আরও মজবুত করার জন্য জইশ-ই-মহম্মদ এবং অন্যান্য নিষিদ্ধ জঙ্গি সংগঠনের স্লিপার সেলের প্রতিনিধিদের একাধিক গোপন বৈঠকের কথা কানে এসেছে তদন্তকারীদের । তবে এই বিষয়ে রাজ্য পুলিশের তরফে কী কী পদক্ষেপ গ্রহণ করা হয়েছে সেই বিষয় কোনও তথ্য মেলেনি ।
তবে এই বিষয়ে ভবানী ভবন সূত্রের খবর, মূলত রাজ্যে জঙ্গি কার্যকলাপ এবং তার ওপর নিয়ন্ত্রণের জন্য রাজ্য পুলিশের স্পেশাল টাস্ক ফোর্স গঠন করা হয়েছে । জঙ্গি দমনে বা তাদের গতিবিধির উপর নিয়ন্ত্রণ রাখতে তারাই সিদ্ধহস্ত । বিশেষ কোনও ইনপুট পেলে জাতীয় তদন্তকারী সংস্থা নিজেদের মতো কাজ করে এবং এসটিএফ তাদের মতো সেই ইনপুট মোতাবেক কাজ করে । মূলত রাজ্য পুলিশের স্পেশাল টাস্ক ফোর্সের তদন্তকারীরা বিভিন্ন ঘটনার উপর নিজেদের পর্যবেক্ষণ চালান । পাশাপাশি সোশাল মিডিয়া বা সামাজিক মাধ্যমের উপর বিশেষভাবে নজর রাখেন । কারণ বর্তমানে যে কোনও উস্কানিমূলক মন্তব্য এই সামাজিক মাধ্যমের দ্বারাই ছড়ানো হয় ।
সামাজিক মাধ্যমকে হাতিয়ার করে কারা উস্কানিমূলক মন্তব্য ছড়িয়ে রাজ্যে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির অবনতি করার চেষ্টা করছে, সেদিকে নজর রাখা হয় ৷ প্রয়োজনে তাদেরকে ডেকে জিজ্ঞাসাবাদ করা হয় । বিগত কয়েক বছরের মধ্যে বেশ কয়েকজনকে জঙ্গি সন্দেহে গ্রেফতার করা হয়েছে এবং তাদেরকে নিজেদের হেফাজতে নিয়ে এখনও নিজেদের মতো জেরা চালাচ্ছেন তদন্তকারীরা । তবে এই বিষয়গুলি যেহেতু অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ এবং অভ্যন্তরীণ নিরাপত্তার ক্ষেত্রে তা বড় ভূমিকা পালন করে, ফলে তাদের জিজ্ঞাসাবাদ করে যে সকল তথ্য পাওয়া যায়, তা তারা সামনে আনতে চান না ।
পশ্চিমবঙ্গের মুর্শিদাবাদের ধুলিয়ান, সামশেরগঞ্জ এলাকায় বিভিন্ন রকমের উস্কানিমূলক মন্তব্যের ফলে সেখানে আইনি জটিলতা সৃষ্টি হয় এবং আইনশৃঙ্খলা বিগড়ে যায় । সেই সকল ঘটনার নেপথ্যে কাদের হাত কিংবা কাদের উস্কানিমূলক মন্তব্য বা প্ররোচনা রয়েছে, তা খুঁজে বের করার চেষ্টা করছেন তদন্তকারীরা ।
এই বিষয়ে নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক কলকাতা পুলিশের এসটিএফের এক আধিকারিক বলেন, "জঙ্গি দমন কিংবা জঙ্গি সংগঠনের স্লিপার সেলের রিক্রুটমেন্ট কিংবা যোগদানের বিষয়টি রুখতে আমরা রাজ্য পুলিশ এবং কলকাতা পুলিশের স্পেশাল টাস্ক ফোর্স অনেক ক্ষেত্রেই সমন্বয় সাধন করে কাজ করি । এই বিষয়ে একাধিক ঘটনার নজিরও আছে ।"

