মানুষের পর এবার জমিরও 'আধার' নম্বর ! জালিয়াতি রুখবে 12 সংখ্যা
প্রশাসনিক মহলের দাবি, যে কোনও প্লটের একটি ইউনিক নম্বর থাকলে জাল দলিল বানিয়ে জালিয়াতির ঘটনা এড়ানো যাবে । প্রশাসনিক কাজও অনেক সহজ হবে ।

Published : September 1, 2026 at 10:56 AM IST
কলকাতা, 1 সেপ্টেম্বর: মানুষের পর এবার নিজস্ব পরিচয় পেতে চলেছে জমিও । সাধারণ নাগরিকের আধার কার্ডের ধাঁচেই রাজ্যের প্রতিটি জমির প্লটের জন্য আসতে চলেছে 12 সংখ্যার নির্দিষ্ট 'ইউনিক আইডেন্টিফিকেশন নম্বর'। সরকারি নথিতে এই নতুন ব্যবস্থার নাম দেওয়া হয়েছে 'ইউনিফায়েড ল্যান্ড পার্সেল আইডেন্টিফিকেশন নম্বর' । তবে প্রশাসনিক অন্দরে তা ইতিমধ্যেই 'জমির আধার' নামে পরিচিতি পেয়েছে । মূলত জমি সংক্রান্ত জালিয়াতি, ভুয়ো দলিল তৈরি এবং সীমানা নিয়ে বিবাদ চিরতরে মেটাতেই রাজ্য প্রশাসনের এই অভিনব উদ্যোগ ।
রাজ্যের 42 হাজার মৌজায় কৃষি এবং অকৃষি জমি মিলিয়ে মোট প্লটের সংখ্যা 5 কোটি 90 লক্ষ থেকে 6 কোটি 3 লক্ষের মধ্যে । বিপুল সংখ্যক এই জমির প্রতিটি প্লটকে আলাদা পরিচয় দিতেই নির্দিষ্ট 12 সংখ্যার নম্বরটি ব্যবহার করা হবে । প্রশাসনের এক আধিকারিক জানান, শীঘ্রই এই 'আধার' প্রদান চালু হবে রাজ্যে । এর ফলে নির্দিষ্ট পরিচয় পাবে প্রতিটি প্লট । একই সঙ্গে জমি সংক্রান্ত জালিয়াতি, জাল দলিল তৈরি এবং জমির সীমানা সংক্রান্ত বিবাদও কমবে ।
প্রশাসন সূত্রের খবর, এই নম্বর চালু করার জন্য প্রতিটি মৌজার ম্যাপ জিও-ডিজিটাইজ করা বাধ্যতামূলক । তাই পুরনো মৌজা ম্যাপ ধরে প্রতিটি জমির বর্তমান অবস্থা সরেজমিনে যাচাই করা হবে । সেই তথ্যের ভিত্তিতে পুরনো মানচিত্র সংশোধন করে যাবতীয় ডেটা ডিজিটাইজ করে সরকারি পোর্টালে তোলা হবে । অক্ষাংশ এবং দ্রাঘিমাংশ নিখুঁতভাবে মেপে প্রতিটি প্লট চিহ্নিত করতে ইতিমধ্যেই অত্যাধুনিক প্রযুক্তির মেশিন কিনেছে রাজ্য সরকার । সেই প্রযুক্তি ব্যবহার করেই জমির নিজস্ব 12 সংখ্যার নম্বরটি ধার্য করা হবে ।
পাইলট প্রোজেক্ট হিসেবে হাওড়া জেলা থেকে এই কাজ শুরুও হয়ে গিয়েছে । এর আগে বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি দফতর মৌজা ম্যাপ তৈরি করলেও তাতে কিছু ত্রুটি ছিল । সেই কারণেই নতুন করে নিখুঁতভাবে ডিজিটাইজেশনের কাজে হাত দিয়েছে প্রশাসন ।
এই বিশাল কর্মযজ্ঞ শেষ হলে জমির মালিকদের হাতে একটি করে 'ইউনিক আইডেন্টিফিকেশন কার্ড' তুলে দেওয়ার পরিকল্পনা রয়েছে রাজ্যের । দেখতে অবিকল আধার কার্ডের মতো এই কার্ডে লেখা থাকবে প্লটের নির্দিষ্ট নম্বর । সরকারি পোর্টালে ওই 12 সংখ্যার নম্বরটি দিলেই এক ক্লিকে জমির যাবতীয় 'ঠিকুজি-কুষ্ঠি' স্ক্রিনে ফুটে উঠবে । জমির চরিত্র, মালিকের নাম, মৌজা, খতিয়ান বা দাগ নম্বর— সবটাই মুহূর্তে যাচাই করা যাবে । প্রশাসন জানাচ্ছে, আগামী দিনে নতুন জমি বা বাড়ির রেজিস্ট্রেশনের ক্ষেত্রেও দলিলে এই নম্বর উল্লেখ করা বাধ্যতামূলক হতে চলেছে ।
নতুন এই ব্যবস্থা চালু হলে একদিকে যেমন সাধারণ মানুষের হয়রানি কমবে, তেমনই গতি আসবে সরকারি কাজেও । প্রশাসনিক মহলের কথায়, যে কোনও প্লটের একটি ইউনিক নম্বর থাকলে জাল দলিল বানিয়ে জালিয়াতির ঘটনা এড়ানো যাবে । প্রশাসনিক কাজও অনেক সহজ হবে । সব ক্ষেত্রে মৌজা, দাগ বা খতিয়ানের মতো একাধিক তথ্য মনে রাখার দরকার পড়বে না । শুধু একটি নম্বর বললেই কোন মৌজার কোন জমির কথা বলা হচ্ছে, তা স্পষ্ট হয়ে যাবে । রাজ্যে শিল্পের ক্ষেত্রেও বিনিয়োগকারীদের জমি সংক্রান্ত জটিলতা নিমেষে কাটাতে এই নয়া ব্যবস্থা গেমচেঞ্জার হতে চলেছে বলে আশাবাদী প্রশাসনিক মহল ।

