সামনে শত্রু ও হাতিয়ার, বাংলার জনতাকে কর্মে প্রস্তুত হতে হবে: রাজ্যপাল
ত্রিবেণীতে গঙ্গা-যমুনা-সরস্বতীর সঙ্গমে কুম্ভমেলা শুরু হয়েছে ৷ যা আজই শেষ হবে ৷ বৃহস্পতিবার মেলায় উপস্থিত ছিলেন রাজ্যপাল ৷

Published : February 13, 2026 at 3:56 PM IST
বাঁশবেড়িয়া, 12 ফেব্রুয়ারি: গীতার শ্লোক উচ্চারণ করে রাজ্যপাল মহাভারতের জয়দ্রথ বধের কথা স্মরণ করিয়ে দিলেন জেলাবাসীকে। রাজ্যে নির্বাচনের আগে ইঙ্গিতপূর্ণ মন্তব্য রাজ্যপালের। বঙ্গীয় ত্রিবেণী কুম্ভ মেলার মঞ্চ থেকে জয়দ্রথ বধ প্রসঙ্গে টেনে জনতার ভোটের ক্ষমতা কথা মনে করিয়ে দেন তিনি। যদিও নাম না-করেই রাজ্যের শত্রু নিয়ে তির্যক মন্তব্য করেন তিনি ৷
মানুষকে রাজ্যপাল স্মরণ করিয়ে দিয়ে রাজ্যপাল সিভি আনন্দ বোস বলেন, "শ্রীকৃষ্ণ যেমন অর্জুনকে তাঁর কর্ম অর্থাৎ জয়দ্রথ বধ করার কথা স্মরণ করিয়ে দিয়েছিলেন। তেমনি মানুষের হাতে রয়েছে হাতিয়ার অর্থাৎ নির্বাচন। বাংলা কর্ম করার জন্য তৈরি। হাতিয়ার আমাদের কাছে আছে, তা হল জনগণের শক্তি ৷ শত্রু আমাদের সামনে যা রাজ্যের সমস্যা ।" নির্বাচনের আগে কোনও দলের নাম না-করে একাধিক সমস্যার কথা বলেন সিভি আনন্দ বোস।
হুগলির ত্রিবেণীতে অনুষ্ঠিত পঞ্চম বর্ষের কুম্ভমেলায় আসেন রাজ্যপাল সিভি আনন্দ বোস। পবিত্র এই তীর্থক্ষেত্রে এসে তিনি কুম্ভমেলার আধ্যাত্মিক আবহে অংশগ্রহণ করেন এবং মঞ্চে বক্তব্য রাখেন ৷ বিভিন্ন আধ্যাত্মিক গ্রন্থ ও দর্শনের উল্লেখ করেন। তাঁর ভাষণে বিশেষভাবে উঠে আসে শ্রীমদ্ভগবদ্গীতার শ্লোক । তিনি মানবজীবনে ধর্মীয় চেতনা, নৈতিকতা ও আত্মিক উন্নয়নের গুরুত্ব তুলে ধরেন। রাজ্যপাল ত্রিবেণীর মহা তীর্থক্ষেত্রও এদিন পরিদর্শন করেন এবং কুম্ভমেলায় আগত সাধু-সন্ন্যাসীদের সঙ্গে সাক্ষাৎ করে তাঁদের আশীর্বাদ গ্রহণ করেন।

এই মহতী আয়োজনের জন্য উদ্যোক্তাদের প্রশংসা করে তিনি বলেন, "ভারত এমন এক দেশ যেখানে সংস্কৃতির বৈচিত্র্যের মধ্যেই ঐক্যের বন্ধন সুদৃঢ়। সর্বধর্মের মিলনক্ষেত্র এই ভারতবর্ষে কুম্ভমেলা ধর্মীয় বৈচিত্র্য ও আধ্যাত্মিক ঐতিহ্যের এক অনন্য উদাহরণ।" মহারাষ্ট্রে বাংলা ভাষায় কথা বলার জন্য এক যুবকের মৃত্যুর ঘটনায় তাঁকে প্রশ্ন করা হলে রাজ্যপাল জানান, বিষয়টি সম্পূর্ণরূপে তদন্তসাপেক্ষ। তদন্ত সম্পন্ন না-হওয়া পর্যন্ত এ বিষয়ে নির্দিষ্ট মন্তব্য করা সমীচীন নয় ৷

বাংলাদেশ নির্বাচন প্রসঙ্গে তিনি বলেন, "সে দেশের সরকার বা রাজনৈতিক পরিস্থিতি নিয়ে মন্তব্য করার এক্তিয়ার তাঁর নেই। এ বিষয়ে একমাত্র ভারত সরকারই আনুষ্ঠানিকভাবে মত প্রকাশ করতে পারে।" বাংলার আসন্ন নির্বাচন নিয়ে প্রশ্নের উত্তরে রাজ্যপাল স্পষ্ট করেন, "নির্বাচন সংক্রান্ত সমস্ত সিদ্ধান্ত নির্বাচন কমিশনের অধীন। কমিশন যে সিদ্ধান্ত নেবে, সেটাই কার্যকর হবে। এসআইআর (SIR) প্রসঙ্গেও তিনি জানান, পশ্চিমবঙ্গে এই প্রক্রিয়াটি সম্পূর্ণরূপে নির্বাচন কমিশনের তত্ত্বাবধানে পরিচালিত হয়। জাতীয় সঙ্গীতের আগে 'বন্দে মাতরম' গাওয়া প্রসঙ্গে রাজ্যপাল বলেন, "কেন্দ্রীয় সরকার যে নির্দেশিকা জারি করবে, সেই নির্দেশিকা অনুসারেই ভবিষ্যতে তা পালন করা হবে ৷"

