রাজ্যে HPV টিকাকরণের সূচনা, আয়ুষ্মান প্রকল্পের আওতায় 6 কোটি
রাজ্যজুড়ে 14 বছর বয়সি কিশোরীদের এইচপিভি ভ্যাকসিন প্রদান কর্মসূচির সূচনা হল শনিবার ৷ আয়ুষ্মান ভারত প্রকল্পের আওতায় 6কোটির মানুষ চিকিৎসার সুবিধা পাবে ৷

Published : May 30, 2026 at 2:22 PM IST
কলকাতা, 30 মে: রাজ্যে বিনামূল্যে HPV (হিউম্যান প্যাপিলোমা ভাইরাস) ভ্যাকসিন প্রদান কর্মসূচির সূচনা হল শনিবার সকালে । গত 28 ফেব্রুয়ারি প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি রাজস্থানের আজমেঢ়ে 14 বছর বয়সি কিশোরীদের এই টিকাকরণের মাধ্যমে দেশব্যাপী প্রকল্পের সূচনা করেন ৷ রাজ্যে ক্ষমতায় এসে এদিন মহিলাদের সার্ভিক্যাল ক্যানসার প্রতিরোধী এই টিকাকরণের উদ্বোধন করল বিজেপি সরকার ৷
এদিন সকালে কলকাতা থেকে ভার্চুয়ালি এই কর্মসূচির উদ্বোধন করেন রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী ৷ একই সঙ্গে দুর্গাপুর মহকুমা হাসপাতালেও ভার্চুয়াল মাধ্যমে কর্মসূচির উদ্বোধন হয় ৷ স্বাস্থ্য দফতর সূত্রে খবর, 14 বছর ও তার বেশি বয়সি মেয়েদের এই এইচপিভি ভ্যাকসিন দেওয়া হবে ৷
মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু বলেন, "মেডিক্যাল কলেজ-সহ 235টি স্বাস্থ্যকেন্দ্র, মহকুমা হাসপাতাল, গ্রামীণ হাসপাতাল এবং ব্লক হাসপাতালে এই টিকাকরণ কর্মসূচি হবে ৷ 14 বছর বয়সি মেয়েরা এই টিকা পাবে ৷ গত 28 ফেব্রুয়ারি প্রধানমন্ত্রী দেশজুড়ে এই টিকাকরণের সূচনা করেছেন ৷ মহিলাদের যত ধরনের ক্যানসার হয়, তার মধ্যে এটি দ্বিতীয় বিপজ্জনক ৷"
তিনি জানান, কেন্দ্রীয় সরকার রাজ্যের জন্য 7 লক্ষ 72 হাজার 650 ডোজ টিকা দিয়েছেন ৷ আগামী দিনে 880টি কেন্দ্রে এই প্রতিষেধক কর্মসূচি চলবে ৷ এদিন এসএসকেএম হাসপাতালে 100টি নতুন শয্যার উদ্বোধন করেন মুখ্যমন্ত্রী ৷
বেসরকারি হাসপাতালে সংরক্ষণ
রাজ্যের হাসপাতালগুলিতে রোগীদের ভর্তি নিয়ে যে জটিলতা তৈরি হয়, সেই বিষয়ে মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু বলেন, "কলকাতার একটি হাসপাতালেও যাতে একটি রোগী রেফার না-হয়, তার জন্য একটা সমন্বয় করেছি ৷ যে সব বেসরকারি হাসপাতাল রাজ্যের কাছ থেকে এক টাকার বিনিময়ে জমি নিয়েছে, তাদের 15 শতাংশ শয্যা, সাধারণ অর্থনৈতিক দিক দিয়ে দুর্বল মানুষদের জন্য বরাদ্দ রাখতে হবে ৷ সরকারি হাসপাতালে অতিরিক্ত চাপ হলে সেখান থেকে রোগীদের বেসরকারি হাসপাতালে পাঠানো হবে ৷ তখন তাদের ভর্তি নিতে হবে ৷ বিনামূল্যে পরিষেবা দিতে হবে ৷"

মুখ্যমন্ত্রী জানান, যে সমস্ত বেসরকারি হাসপাতাল রাজ্য সরকারের কাছ থেকে অতীতে মাত্র এক টাকা মূল্যে জমি পেয়েছিল, তাদের প্রতি কড়া বার্তা দিয়েছেন তিনি ৷ মুখ্যমন্ত্রীর সুস্পষ্ট নির্দেশ, ওই বেসরকারি হাসপাতালগুলিকে সাধারণ অর্থনৈতিক দিক দিয়ে দুর্বল মানুষের চিকিৎসার জন্য তাঁদের মোট শয্যার 15 শতাংশ সংরক্ষিত রাখতে হবে ৷ সরকারি হাসপাতালে শয্যার অভাব হলে বা রোগীর চাপ বাড়লে, সেখান থেকে রেফার করা রোগীদের ওই সংরক্ষিত শয্যাগুলিতে সম্পূর্ণ বিনামূল্যে চিকিৎসা পরিষেবা দিতে হবে ৷ হাসপাতালে রেফার সংক্রান্ত হয়রানি এবং দালাল চক্রের দৌরাত্ম্য রুখতে একটি 24 ঘণ্টার কন্ট্রোল রুম চালু করা হয়েছে, যেখান থেকে গোটা পরিস্থিতির সরাসরি লাইভ মনিটরিং করা হবে ৷
জাতীয় স্বাস্থ্য মিশন
তিনি আরও জানান, এবছর পশ্চিমবঙ্গে ন্যাশনাল হেলথ মিশন কার্যকর হবে ৷ এর জন্য কেন্দ্রীয় সরকার 2 হাজার 103 কোটি টাকা বরাদ্দ করেছে এবং 527 কোটি টাকা ইতিমধ্যে পশ্চিমবঙ্গ সরকার পেয়েছে ৷ আয়ুষ্মান ভারত প্রকল্পে 976 কোটি টাকা বরাদ্দ পেয়েছে রাজ্য ৷ 1 কোটি 36 লক্ষ পরিবারের, প্রায় 6 কোটিরও বেশি মানুষকে আয়ুষ্মান ভারতের আওতায় আনা হচ্ছে ৷ তারা সারা দেশে যে কোনও স্বাস্থ্যকেন্দ্রে আয়ুষ্মান কার্ড ব্যবহার করে 5 লক্ষ টাকা পর্যন্ত চিকিৎসা পরিষেবার সুযোগ পাবে ৷ পরিযায়ী শ্রমিক এবং বিভিন্ন কারণে যাঁরা রাজ্যের বাইরে থাকেন, তাঁরা এই স্বাস্থ্য বীমার সুযোগ পাবেন ৷
এই প্রসঙ্গে মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু বলেন, "হাসপাতালগুলির নাম আয়ুষ্মান মন্দির নাম হবে ৷ এই আয়ুষ্মান মন্দিরের সবাই চিকিৎসা পাবেন এবং যদি মাসে ওষুধ কিনতে এক হাজার টাকা খরচ হয়, তাহলে মাত্র 100 টাকা খরচ করে সেই ওষুধ কিনতে পারবেন তাঁরা । এইজন্য সারা পশ্চিমবঙ্গে 463টি প্রধানমন্ত্রী জন ঔষুধি কেন্দ্র তৈরি হতে চলেছে ৷ দুরারোগ্য ব্যাধির জন্য 50-80 শতাংশ ভর্তুকিতে অমৃত প্রকল্প চালু হবে রাজ্যে ৷
তিনি আরও বলেন, "স্বাস্থ্যকেন্দ্রে আরও চিকিৎসক স্বাস্থ্যকর্মী নার্স নিয়োগ করা হবে ৷ স্বচ্ছতা বজায় রেখে হান্ড্রেড পয়েন্ট রোস্টারের নিয়ম মেনেই এই নিয়োগ দেওয়া হবে ৷ এর ফলে রেফারের সংখ্যা অনেক কমে যাবে ৷ রাজ্যের কোনও জেলা যাতে মেডিক্যাল কলেজের সুযোগ থেকে বঞ্চিত না-থাকে, সেই বিষয়টিও সরকারের চিন্তাভাবনার মধ্যে রয়েছে এবং সেই মতো পদক্ষেপ করা হচ্ছে ৷"
এছাড়াও তিনি আর জ্বানান, স্বাস্থ্য ভবনের 24 ঘণ্টার একটি কন্ট্রোল রুম তৈরি করা হচ্ছে ৷ যেখানে আপাতত ডিস্ট্রিক্ট হসপিটাল মেডিকেল কলেজ যুক্ত করা হবে যেখানে লাইভ মনিটারিং হবে ৷ হাসপাতালে দালাল চক্র রয়েছে কি না, হাসপাতালে চিকিৎসকরা রয়েছেন কি না, রোগীরা বেডে রয়েছেন না অন্য জায়গায় রয়েছেন, হাসপাতালে কুকুর-বিড়াল ঘুরে বেড়াচ্ছে কি না অথবা হাসপাতাল নোংরা কি না এবং সবরকম স্বচ্ছতা বজায় রাখা হচ্ছে কি না, এটা সরাসরি মনিটরিং করা হবে ৷ এইজন্য পেশাদারী লোককে নিয়োগ করা হচ্ছে ৷
জেলার মহকুমা ও জেলা হাসপাতাল ছাড়াও গ্রামীণ হাসপাতালে এই ভ্যাকসিন দেওয়া হবে ৷ পশ্চিম বর্ধমান জেলায় টার্গেট রয়েছে 32 হাজার ৷ উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে উপস্থিত জেলাশাসক ও বিধায়ক জানান, সাধারণ মানুষের স্বাস্থ্য সুরক্ষায় রাজ্য সরকার ধারাবাহিকভাবে নানা প্রকল্প গ্রহণ করছে। তাঁদের বক্তব্য, “সরকার সবসময় মানুষের পাশে রয়েছে । এই ভ্যাকসিন কর্মসূচি ভবিষ্যৎ প্রজন্মের মেয়েদের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। ক্যানসারের মতো মারণ রোগের বিরুদ্ধে সুরক্ষা গড়ে তুলতে এই ভ্যাকসিন বিশেষ ভূমিকা পালন করবে।”

