ETV Bharat / state

রাজ্যে অভিন্ন দেওয়ানি বিধির খসড়া খতিয়ে দেখতে রঞ্জনা দেশাইয়ের নেতৃত্বে কমিটি, মন্ত্রিসভায় একগুচ্ছ সিদ্ধান্ত

অভিন্ন দেওয়ানি বিধির পাশাপাশি দু'টি গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত নিয়েছে মন্ত্রিসভা ৷ শ্বেতপত্র প্রকাশ ও বিনিয়োগ টানার লক্ষ্যে এই দু'টি আলাদা কমিটি তৈরি করা হয়েছে ৷

Minister Agnimitra Paul
নগরোন্নয়ন ও পুর বিষয়ক মন্ত্রী অগ্নিমিত্রা পাল (ইটিভি ভারত)
author img

By ETV Bharat Bangla Team

Published : July 2, 2026 at 9:59 PM IST

4 Min Read
Choose ETV Bharat

কলকাতা, 2 জুলাই: রাজ্যে ইউনিফর্ম সিভিল কোড (UCC) বা অভিন্ন দেওয়ানি বিধি কার্যকর করার লক্ষ্যে আরও একধাপ এগিয়ে গেল রাজ্য সরকার। বৃহস্পতিবার রাজ্য মন্ত্রিসভার বৈঠকে 'দ্য ইউনিফর্ম সিভিল কোড, ওয়েস্ট বেঙ্গল 2026'-এর খসড়া বিলটি খতিয়ে দেখার জন্য একটি বিশেষ উচ্চপর্যায়ের কমিটি গঠনের প্রস্তাবে সিলমোহর দেওয়া হয়েছে ৷ সুপ্রিম কোর্টের অবসরপ্রাপ্ত বিচারপতি রঞ্জনা প্রকাশ দেশাই এই কমিটির নেতৃত্ব দেবেন।

গত 29 জুন বিধানসভায় মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী জানিয়েছিলেন, কমিটির সুপারিশ মেলার পরেই সরকার বিধানসভায় ইউসিসি বিল পেশ করবে ৷ আগামী অগস্ট মাসেই এই আইন কার্যকর করার লক্ষ্যমাত্রা নেওয়া হয়েছে ৷ সেই উদ্দেশ্যেই এদিন দ্রুততার সঙ্গে কমিটি গঠন করে দিল মন্ত্রিসভা। আগামী চার সপ্তাহের মধ্যে এই কমিটিকে তাদের বিস্তারিত রিপোর্ট সরকারের কাছে জমা দিতে হবে ৷ রাজ্যে বিবাহ, বিবাহবিচ্ছেদ, খোরপোষ, উত্তরাধিকার, দত্তক এবং লিভ-ইন সম্পর্কের মতো ব্যক্তিগত ও পারিবারিক আইনি বিষয়গুলি বিস্তারিতভাবে পর্যালোচনা করে একটি অভিন্ন আইনি কাঠামো তৈরির সুপারিশ করবে এই কমিটি।

অভিন্ন দেওয়ানি বিধির পাশাপাশি এদিন আরও দু'টি গুরুত্বপূর্ণ কমিটি গঠনের সিদ্ধান্ত নিয়েছে মন্ত্রিসভা ৷ শ্বেতপত্র প্রকাশ এবং রাজ্যে বিনিয়োগ টানার লক্ষ্যে এই দু'টি আলাদা কমিটি তৈরি করা হয়েছে ৷ এদিন মন্ত্রিসভার বৈঠকের পর নগরোন্নয়ন ও পুর বিষয়ক মন্ত্রী অগ্নিমিত্রা পাল বলেন, "রাজ্যের অর্থমন্ত্রী স্বপন দাশগুপ্তের নেতৃত্বে শ্বেতপত্র সংক্রান্ত পাঁচ সদস্যের কমিটিটি কাজ করবে। আর রাজ্যে বিনিয়োগ সংক্রান্ত কমিটির চেয়ারম্যান হবেন শিল্পমন্ত্রী তাপস রায়।"

ইউসিসি সংক্রান্ত কমিটিতে প্রাক্তন বিচারপতির পাশাপাশি একজন অবসরপ্রাপ্ত আইএএস আধিকারিক, একজন আইনজ্ঞ, একজন শিক্ষাবিদ এবং একজন সমাজকর্মী থাকছেন ৷ রাজ্য প্রশাসনের অতিরিক্ত সচিব পদমর্যাদার একজন আধিকারিক এই কমিটির মেম্বার-সেক্রেটারি হিসেবে দায়িত্ব পালন করবেন। এছাড়া সাধারণ মানুষকে প্রশাসনিক কাজে স্বস্তি দিতে জমির খতিয়ান এবং প্লটের তথ্যের ডিজিটাল কপি পাওয়ার ক্ষেত্রে সমস্ত রকম আবেদন ও প্রমাণীকরণ ফি সম্পূর্ণ মকুব করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে রাজ্য।

নারী নিরাপত্তা এবং দ্রুত বিচার প্রক্রিয়ার উপরেও এদিন মন্ত্রিসভার বৈঠকে বিশেষ জোর দেওয়া হয়েছে ৷ এই প্রসঙ্গে মন্ত্রী অগ্নিমিত্রা পাল জানিয়েছেন, রাজ্যে মোট ন'টি নতুন ফাস্ট ট্র্যাক কোর্ট বা দ্রুত বিচার আদালত তৈরি করা হচ্ছে ৷ তিনি বলেন, "আলিপুরদুয়ার, উত্তর দিনাজপুর, মালদা, পুরুলিয়া, পূর্ব মেদিনীপুর, ঝাড়গ্রাম, উত্তর ও দক্ষিণ 24 পরগনা এবং কলকাতার সিটি সেশন কোর্টে একটি করে ফাস্ট ট্র্যাক কোর্ট তৈরির প্রস্তাবে মন্ত্রিসভা অনুমোদন দিয়েছে ৷ এর জন্য বিচারব্যবস্থায় 36টি নতুন পদ তৈরি করে দ্রুত নিয়োগ করা হবে।"

একইসঙ্গে জন্ম ও মৃত্যু নিবন্ধনের নিয়মেও বেশ কিছু বদল আনা হচ্ছে। মন্ত্রী এদিন বলেন, "মন্ত্রিসভা এদিন 'দ্য ওয়েস্ট বেঙ্গল রেজিস্ট্রেশন অফ বার্থস অ্যান্ড ডেথস (অ্যামেন্ডমেন্ট) রুলস, 2026'-এর খসড়া অনুমোদন করেছে ৷ এর ফলে ডিজিটাল পদ্ধতিতে রেকর্ড সংরক্ষণ, শংসাপত্র প্রদান এবং দেরিতে নিবন্ধনের মতো বিষয়গুলি অনেক সহজ হবে।"

স্বাস্থ্য, শিক্ষা ও পরিকাঠামো ক্ষেত্রেও একাধিক বড় ঘোষণা করা হয়েছে। ন্যাশনাল হেলথ মিশন বা এনএইচএম-এর আওতায় থাকা স্বাস্থ্যকর্মীদের দীর্ঘদিনের দাবি মেনে তাঁদের মাসিক পারিশ্রমিক একধাক্কায় 5 হাজার টাকা বাড়ানো হয়েছে ৷ আগামী 1 অগস্ট থেকেই এই বর্ধিত বেতন চালু হবে ৷

পাশাপাশি রাজ্যের সীমান্ত নিরাপত্তাকে আরও মজবুত করতে বিএসএফ এবং এসএসবি-কে জমি দেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে সরকার। আলিপুরদুয়ার, জলপাইগুড়ি, দার্জিলিং, মুর্শিদাবাদ, উত্তর দিনাজপুর এবং মালদায় বর্ডার আউটপোস্ট, কাঁটাতারের বেড়া এবং রাস্তা নির্মাণের জন্য সরকারি খাস জমি থেকে 54 একরের বেশি জায়গা চিরস্থায়ীভাবে সীমান্তরক্ষী বাহিনীর হাতে হস্তান্তর করা হবে। শিক্ষা এবং স্বাস্থ্য পরিকাঠামোর প্রসারে মালদায় জওহর নবোদয় বিদ্যালয় তৈরির জন্য 11 একর এবং পশ্চিম মেদিনীপুরে ইএসআইসি ডিসপেনসারি তৈরির জন্য জমি দিচ্ছে সরকার। কোচবিহার এবং বাঁকুড়ায় নতুন বিদ্যুৎ সাবস্টেশন তৈরির প্রস্তাবেও সম্মতি মিলেছে। এছাড়া বাঁকুড়া বিশ্ববিদ্যালয়ের কর্মীদের প্রভিডেন্ট ফান্ড নিয়ন্ত্রণের জন্য একটি সংশোধনী বিল আনা হচ্ছে এবং পূর্ত দফতরের নির্মাণকাজের খরচের ক্ষেত্রে এখন থেকে অভিন্ন রেট চালু করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে মন্ত্রিসভা।