'বারবার বলেও দেয় না, আর ভিক্ষা চাই না', মুড়িগঙ্গা সেতুর শিল্যান্যাস করে কেন্দ্রকে তোপ মমতার
গঙ্গাসাগরকে জাতীয় মেলা ঘোষণা না-করা নিয়েও কেন্দ্রের বিরুদ্ধে সুর চড়িয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী ৷ এদিন মুড়িগঙ্গার উপর 1,700 কোটির সেতুর শিলান্যাসও করেন তিনি ৷

Published : January 5, 2026 at 5:57 PM IST
কলকাতা, 5 জানুয়ারি: সামনেই মকর সংক্রান্তি, তার আগেই গঙ্গাসাগর মেলার প্রস্তুতি খতিয়ে দেখতে গিয়ে ফের একবার কেন্দ্রের বিরুদ্ধে বঞ্চনার অভিযোগ তুললেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। সোমবার সাগরদ্বীপে দাঁড়িয়ে তিনি স্পষ্ট জানিয়ে দেন, মুড়িগঙ্গা নদীর উপর সেতু তৈরির জন্য কেন্দ্রের কাছে আর হাত পাতবে না রাজ্য । দীর্ঘ টালবাহানার পর রাজ্য সরকার নিজস্ব তহবিলের টাকাতেই এই সেতু নির্মাণ করবে বলেও ঘোষণা করেন মুখ্যমন্ত্রী। কেন্দ্রের অসহযোগিতার প্রসঙ্গ তুলে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের কড়া বার্তা, "বারবার বলেও যারা দেয় না, তাদের কাছে আমি ভিক্ষা চাই না।"
মুড়িগঙ্গা নদীর উপর কোনও সেতু না-থাকায় প্রতি বছরই মেলার সময় এবং অন্যান্য দিনেও মানুষকে চরম দুর্ভোগ পোহাতে হয়। মুখ্যমন্ত্রী জানান, এই সেতু তৈরির জন্য বারবার দিল্লিতে দরবার করেছে রাজ্য সরকার ৷ নীতি আয়োগের বৈঠকেও তিনি এই প্রসঙ্গ উত্থাপন করেছেন বলেও জানান মুখ্যমন্ত্রী ৷ তাঁর অভিযোগ, এরপরও কোনও সুরাহা হয়নি। তাই রাজ্য সরকার নিজেই এই দায়িত্ব নিয়েছে বলে দাবি করেন মমতা। লারসেন অ্যান্ড টুব্রো (L&T)-কে সেতু তৈরির বরাত দেওয়া হয়েছে । প্রায় 1,700 কোটি টাকা খরচ করে এই সেতু তৈরি হবে, যা ভবিষ্যতে যাতায়াতের সমস্যা চিরতরে মিটে যাবে বলে আশ্বাস দেন তিনি ।
গঙ্গাসাগরকে 'জাতীয় মেলা' ঘোষণা না-করা নিয়েও এদিন ক্ষোভপ্রকাশ করেন মমতা। তিনি ফের একবার কুম্ভ মেলার তুলনা টেনে বলেন, "কুম্ভের জন্য কেন্দ্রীয় সরকার হাজার হাজার কোটি টাকা খরচ করে, রেল ও বিমান যোগাযোগ উন্নত করে, কিন্তু গঙ্গাসাগরে জনসমুদ্র হলেও কেন্দ্র এক পয়সাও দেয় না ।" তবে তিনি এও জানান, সরকারি স্বীকৃতির জন্য এই মেলা আটকে নেই, থাকবেও না। মানুষের মনে এই মেলা আন্তর্জাতিক স্বীকৃতি পেয়ে গিয়েছে বলে দাবি মুখ্যমন্ত্রীর ৷ তাঁর কথায়, "জনতাই জনার্দন। জনমনে এটা বিশ্বমেলা। এর থেকে বড় আদালতের রায় আর কিছু হতে পারে না।"
এদিন ভারত সেবাশ্রমের নিমাই মহারাজ মুখ্যমন্ত্রীর পাশে দাঁড়িয়ে গঙ্গাসাগরকে জাতীয় মেলা হিসেবে স্বীকৃতি দেওয়ার দাবি তোলেন। মেলার সুরক্ষা ও পুণ্যার্থীদের সুবিধার কথাও এদিন তুলে ধরেন মুখ্যমন্ত্রী। এদিন তিনি এও মনে করিয়ে দেন, "বাম আমলে মেলায় আসতে কর দিতে হত, যা তৃণমূল সরকার ক্ষমতায় আসার পর তুলে দিয়েছে । পাশাপাশি, মেলা চলাকালীন (9 থেকে 17 জানুয়ারি) কেউ দুর্ঘটনার কবলে পড়লে 5 লক্ষ টাকা পর্যন্ত বিমার ব্যবস্থা রেখেছে রাজ্য। সাংবাদিক, পুলিশ, সাফাইকর্মী, আধিকারিক থেকে শুরু করে সাধারণ পুণ্যার্থী—সবাই এই বিমার আওতায় থাকবেন।"
ভারত সেবাশ্রম সঙ্ঘের সঙ্গে তাঁর দীর্ঘদিনের সম্পর্কের কথা উল্লেখ করে মুখ্যমন্ত্রী জানান, মানুষের সেবায় সাধু-সন্তরা সবসময় এগিয়ে আসেন। রাজনৈতিক বা প্রশাসনিক প্রেক্ষাপটে কখনও সখনও পরিস্থিতির বদল হলেও, দিলীপ মহারাজের সঙ্গে তাঁর ব্যক্তিগত সম্পর্ক এবং শ্রদ্ধার জায়গা অটুট থাকবে বলেই বার্তা দেন তিনি। কেন্দ্রের সাহায্য ছাড়াই বাংলা যে নিজের পায়ে দাঁড়িয়ে উন্নয়ন করতে পারে, এদিন সাগরদ্বীপের মাটি থেকে সেই বার্তাই কার্যত দিলেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়।

