কেন্দ্রের 30 কোটি বরাদ্দে বর্ষার আগেই মিটবে দমদম-চিড়িয়ামোড়ের জমা জলের সমস্যা !
জুন-জুলাই মাসে বর্ষা আসার আগেই নিকাশি কাজ শেষ করার প্রতিশ্রুতি কলকাতা পুরনিগমের ৷ উত্তর কলকাতার 4টি ওয়ার্ডে হবে এই কাজ ৷

Published : January 3, 2026 at 8:12 PM IST
কলকাতা, 3 জানুয়ারি: উত্তর কলকাতার চারটি ওয়ার্ড পাচ্ছে নতুন বছরে উপহার ৷ চিড়িয়ামোড়, কাশিপুর ও দমদমের বিস্তীর্ণ এলাকাকে নতুন বছরে জমা জলের সমস্যা থেকে মুক্ত করতে কাজ শুরু করছে কলকাতা পুরনিগম ৷ কেন্দ্রের বিপর্যয় মোকাবিলা তহবিলে পাওয়া 30 কোটি টাকা খরচ করে ঢেলে সাজানো হচ্ছে ওই অঞ্চলের নিকাশি ব্যবস্থা ৷ এর ফলে উপকৃত হবেন কেএমসি-র 4টি ওয়ার্ডের কয়েক লাখ বাসিন্দা ৷
চিড়িয়া মোড় থেকে রাস্তার একদিকে 4 নম্বর ওয়ার্ড, আরেকদিকে 2 নম্বর ওয়ার্ড ৷ আর অন্যদিকে রয়েছে কলকাতা পুরনিগমের 1 নম্বর ওয়ার্ড ৷ একাংশে আছে 3 নম্বর ওয়ার্ড-এর বিস্তীর্ণ অঞ্চল ৷ শহর কলকাতার সবচেয়ে পুরনো এলাকা হলেও, কোনও সরকারের আমলেই সে অর্থে নিকাশি ব্যবস্থার আমূল সংস্কার হয়নি বলে অভিযোগ ৷ যার ফল প্রতি বর্ষায় জমা-জলের সমস্যা ৷

আর সংস্কার না-হওয়ার ফলে কোথায় ভূগর্ভস্থ পাইপ আছে, তো কোথাও নেই ৷ কোথাও খোলা নিকাশি নালা ৷ কোথাও আবার পরিত্যক্ত নিকাশি নালা ৷ ফলে বর্ষা এলেই বৃষ্টির জল ওয়ার্ডগুলির বিভিন্ন এলাকায় জমে যায় ৷ বস্তি থেকে পাকা বাড়ির নিচতলা ঢুকে যায় নোংরা জল ৷ ফলে এত দিন বর্ষাকাল মানেই এই ভোগান্তি ছিল ওয়ার্ডগুলির বাসিন্দাদের দস্তুর ৷
তবে, সেই ছবি ভরা বর্ষাতে-ও আর দেখা যাবে না-বলে দাবি করছে কলকাতা পুরনিগম ৷ ভোগান্তি সইতে হবে না ৷ জমা-জলের যন্ত্রণা থেকে এবার মুক্তি তাই সময়ের অপেক্ষা মাত্র ৷ বছর খানেক ধরে প্রায় 30 কোটি টাকা খরচে আড়াই কিলোমিটারের বেশি দীর্ঘ রাস্তায় বসেছে নিকাশির মূল পাইপ ৷ তার সঙ্গে দু’পাশের এলাকার নিকাশি ব্যবস্থাকেও ঢেলে সাজানোর কাজ চলছে ৷
সেভেন ট্যাঙ্ক থেকে শুরু করে, গান অ্যান্ড সেল ফ্যাক্টরি লাগোয়া এলাকা, রাজাবাগান কিংবা পাঁচ ও ছয় নম্বর বস্তি এবং দমদম স্টেশন লাগোয়া এলাকায় এখন সামান্য বৃষ্টি হলেই জল দাঁড়িয়ে যায় ৷ ভারী বৃষ্টি হলেও শহরের অন্য জায়গায় জল নেমে গেলেও, অতিরিক্ত সময় ধরে এই সব এলাকায় জল জমে থাকে বলে অভিযোগ ৷ এবার সেই সমস্যা মিটবে বলে জানিয়েছে কেএমসি-র একটি সূত্র ৷ জানা গেছে, মূল নিকাশি পাইপ সোজা বেলগাছিয়ার বীরপাড়া পাম্পিং স্টেশনে যাচ্ছে ৷ সেখান থেকে নিকাশি খাল হয়ে হুগলি নদীতে ৷
কলকাতা পুরনিগম সূত্রে খবর, এই অসাধ্য সাধন করা অবশ্য কেন্দ্রের তরফে পাওয়া বিপর্যয় মোকাবিলার টাকা দিয়েই ৷ 30 কোটি টাকা খরচ হচ্ছে পুরো কাজটি করতে ৷ এমনকি সেই কাজ প্রায় শেষের মুখে ৷ খুব বেশি হলে মাস দেড় সময় লাগতে পারে নিকাশির পাইপ বসানোর কাজ শেষ করতে ৷ এর পরবর্তী সময় রাস্তার হাল ফেরানোর পালা কেএমসি-র ৷
এই নিয়ে কলকাতা পুরনিগমের এক আধিকারিক বলেন, "কাজটি পুরো শেষ হলে 3 নম্বর, 2 নম্বর ওয়ার্ডের মানুষ বেশি উপকৃত হবে ৷ এর সঙ্গেই 1 ও 4 নম্বর ওয়ার্ডের কিছু অংশের মানুষ উপকৃত হবে ৷ বর্ষার আগে সবটাই শেষ হয় যাবে ৷ ফলে বর্ষার দিনে এলাকায় জমা-জলের জমি আর দেখা যাবে না ৷ অত্যন্ত গুরুত্ব দিয়ে এই কাজটি করা হচ্ছে ৷"

