'দুর্গাপুজোয় থিম হবে না, আমিষ খাওয়া নিষেধ', বিশ্ব হিন্দু পরিষদের নামে অপপ্রচারের অভিযোগ
দুর্গাপুজোয় থিম করা বা আমিষ খাওয়া নিয়ে অবস্থান নিজেদের স্পষ্ট করল বিশ্ব হিন্দু পরিষদ ৷ রিপোর্ট ইটিভি ভারতের প্রতিনিধি পাপড়ি চট্টোপাধ্যায়ের ৷

Published : August 29, 2026 at 8:35 PM IST
কলকাতা, 29 অগস্ট: দুর্গাপুজোর মণ্ডপের আশেপাশে মাছ-মাংস খাওয়া বন্ধ করার বিধান দিয়েছে বিশ্ব হিন্দু পরিষদ ৷ এই দাবি খণ্ডন করে নিজেদের অবস্থান স্পষ্ট করলেন রাষ্ট্রীয় স্বয়ং সেবক সঙ্ঘ (আরএসএস)-এর সঙ্গে যুক্ত বিশ্ব হিন্দু পরিষদের কেন্দ্রীয় উপদেষ্টা কাউন্সিলের সদস্য স্বামী নির্গুণানন্দ ব্রহ্মচারী ৷ পাশাপাশি, বিশ্ব হিন্দু পরিষদ দক্ষিণবঙ্গ প্রান্তের প্রচার প্রসার প্রমুখ রক্তিম দাসও এই বিষয়ে মুখ খুলেছেন ৷ তাঁর অভিযোগ, ভিএইচপি'র নামে অপপ্রচার চলছে ৷
কলকাতার ঐতিহ্যবাহী দুর্গাপুজোর ধর্মীয় ও সাত্ত্বিক ভাবধারা পবিত্রতা এবং সাংস্কৃতিক মর্যাদা অক্ষুণ্ণ রাখার লক্ষ্যে এবার পুজো উদ্যোক্তাদের সঙ্গে বৈঠক করে বিশ্ব হিন্দু পরিষদের দক্ষিণবঙ্গ প্রান্ত ৷ এই বৈঠকের পর তারা একটি সাংবাদিক বৈঠকও করেন ৷ সেই সাংবাদিক বৈঠকে সাংবাদিকদের কিছু প্রশ্নের উত্তরে এই ধরনের বিভ্রান্তির সৃষ্টি হয়েছে বলেই দাবি করেছেন স্বামী নির্গুণানন্দ ব্রহ্মচারী ৷
এক ভিডিয়ো বার্তায় নির্গুণানন্দ স্পষ্ট বলেছেন, "দু'দিন আগে বিশ্ব হিন্দু পরিষদের পক্ষ থেকে আমি কেন্দ্রীয় মার্গদর্শক মণ্ডলীর সদস্য হিসেবে দুর্গাপুজো নিয়ে একটি সাংবাদিক বৈঠক করি ৷ সনাতনী দুর্গাপুজো নিয়ে আমাদের ভাবনা কী, এই ছিল ওই দিনের আলোচ্য বিষয় ৷ মূলত দু-তিনটি বিষয়ের উপরে আমাদের আলোচনা হয় ৷ এক, আমাদের সনাতনী পুজো পদ্ধতিতে পুজোর বিষয় ৷"
থিমের পুজো নিয়ে তিনি বলেন, "থিমের পুজো নিয়ে আমাদের কোনও বিরোধিতা নেই ৷ থিম একটা উন্নত শিল্পকলা ৷ কিন্তু সেই শিল্পকলার মধ্যে কিছু বিকৃত শিল্পকলাও থাকে ৷ যেমন থিমের নামে ডিমের প্যান্ডেল হচ্ছে, জুতোর প্যান্ডেল হচ্ছে ৷ এছাড়াও এমন কিছু হয়, যার সঙ্গে পুজোর কোনও সম্পর্ক নেই ৷ আমরা এর বিরোধিতা করেছি ৷ যেখানে আমাদের ভাবধারা মেনে পুজোর আদলে বা দেশের বিখ্যাত মন্দিরের আদলে প্যান্ডেল তৈরি করা যেতে পারে ৷ সাবেকিয়ানা মূর্তি করতে হবে তেমন কথা আমরা বলিনি ৷ উল্লেখ্য করা হয়েছিল, মায়ের মূর্তির যেন শালীনতা বজায় থাকে ৷ মূর্তির মধ্যে যেন মাতৃত্ব বজায় থাকে ৷ মূর্তিকে যাতে বিকৃত করা না হয় ৷ কিংবা মায়ের হাত থেকে অস্ত্র সরিয়ে সেখানে অন্য কিছু লাগিয়ে দেওয়া হয়েছে, এইগুলি যেন করা না হয় ৷"
এরপর আমিষ খাওয়ার বিষয়ে স্বামী নির্গুণানন্দ ব্রহ্মচারী বলেন, "সেদিন প্রশ্ন করা হয়েছিল, আমিষ খাওয়ার বিষয়ে কোনও বিধিনিষেধ আছে কি না ? এই প্রশ্নের উত্তরকে কোন কোন সাংবাদিক বা সংবাদ মাধ্যম বিকৃতভাবে প্রচার করছেন ৷"
তিনি আরও বলেন, "সাংবাদিক বৈঠকে প্রশ্ন করা হয়েছিল মণ্ডপের ভিতরে আমিষ খাওয়া যাবে কি না ? আমি উত্তর দিয়েছি, মণ্ডপের বাইরে কোনও নির্দিষ্ট খাবার জায়গায় আপনারা খাওয়া-দাওয়া করবেন ৷ কারণ মন্দিরের স্থান কিংবা পুজো মণ্ডপে যেখানে মায়ের পুজো হচ্ছে, সেই স্থানে পবিত্রতা বজায় রাখাটা কাম্য ৷"
স্বামী নির্গুণানন্দ ব্রহ্মচারী স্পষ্ট করেন, ওইদিন তাঁকে কেউ প্রশ্ন করেননি যে সেখানে কোনও বলি হবে কি না ৷ তিনিও এই নিয়ে কিছু বলেননি ৷ মাকে কী ভোগ দেওয়া হবে এই প্রসঙ্গে তিনি বলেন, "চারটি কর্ম না-হলে দুর্গাপুজো সম্পন্ন হয় না ৷ যার মধ্যে একটি হল বলি ৷ কেউ তার পরম্পরা অনুযায়ী ছাগ বলি করতে পারেন কিংবা ফলমূল বলি দান করতে পারেন ৷ তাই আমিষ খাওয়া যাবে কি না সেখানে উত্তর বিকৃত করা হয়েছে ৷ মায়ের পুজোর ভোগ বা বলি নিয়ে কেউ প্রশ্ন করেননি ৷"
তিনি বলেন, "আমার বক্তব্য ছিল ওই দেবস্থানে মানুষ খেলে এঁটোকাঁটা পড়ে, তাতে মণ্ডপের পরিবেশ বা পুজো কিংবা মন্দিরের পবিত্রতা নষ্ট হয় ৷ ধুনো ও ধুপের মধ্য দিয়ে পুরো স্থানে একটা দিব্য পরিবেশ রচনা হয় সেই কথা হয়েছিল ৷ প্রসঙ্গটা খুবই সংক্ষিপ্ত এবং সাধারণ ছিল ৷ কিন্তু কোনও কোনও ব্যক্তি কিংবা কোনও কোনও মিডিয়া বন্ধু আমার পুরো কথা না-শুনে ব্যক্তিগত মতামত আমার মুখে চাপিয়ে দেওয়ার চেষ্টা করছেন ৷"
অন্যদিকে, বিশ্ব হিন্দু পরিষদ দক্ষিণবঙ্গ প্রান্তের প্রচার প্রসার প্রমুখ রক্তিম দাস বলেন, "এই সাংবাদিক সম্মেলনের উদ্দেশ্য ছিল, দুর্গাপুজোটা কেমন হবে, সেই নিয়ে আমাদের মত বিনিময় করা ৷ কারণ, অনেকদিন ধরেই দুর্গাপুজো নিয়ে প্রশ্ন উঠছিল, পুজোর মধ্যে আর সেই ভাব নেই আর শাস্ত্রীয় বিষয়টা থাকছে না ৷"
তিনিও থিম নিয়ে বলেন, "থিমের নাম করে অশাস্ত্রীয় থিম করা হচ্ছে ৷ দুর্গাপুজোয় শাস্ত্রমতে যেদিন বিসর্জন হওয়া উচিত, সেদিন বিসর্জন না দিয়ে মা দুর্গাকে অনেকদিন মণ্ডপে রেখে দেওয়া হচ্ছে ৷ দুর্গাপুজো নিয়ে নানা মহলে নানা প্রশ্ন ছিল ৷ ঐকমত্যে পৌঁছানোই কিন্তু বিশ্ব হিন্দু পরিষদের উদ্দেশ্য ছিল ৷ আমরা থিম পুজোর বিরুদ্ধে নই ৷ এটা খুব পরিষ্কারভাবে সেদিনও বলেছিলাম, আজও বলছি ৷"
রক্তিম দাস আরও বলেন, "থিম পুজোর বিরুদ্ধে আমরা নই ৷ আমরা যে কোনও অশাস্ত্রীয় থিম পুজোর বিরুদ্ধে ৷ সোশাল মিডিয়ায় দেখলাম বিশ্ব হিন্দু পরিষদ নাকি বলেছে, কোনও থিম পুজো হবে না ৷ আমরা একথা একবারও বলিনি ৷ আমরা কোনও খবরদারি করতে চাইনি ৷"
তিনি আরও বলেন, "সাংবাদিক বৈঠকে একজন প্রশ্ন করেছিলেন, আপনারা কি দুর্গাপুজোয় নিরামিষ খাবার খাওয়ার কথা বলছেন ? মহারাজ ব্রহ্মচারী স্পষ্ট উত্তর দিয়েছিলেন, পুজো মণ্ডপের ভিতরে আমিষ কখনও থাকে না ৷ কিন্তু মণ্ডপের বাইরে যাঁরা দোকান দেন, সেগুলি যেরকম আছে, সেরকমই থাকবে ৷ এই নিয়ে আমাদের কিছু বলার নেই ৷ যাঁরা অন্য কথা প্রচার করছেন, সেটা অপপ্রচার হচ্ছে ৷ এবার কলকাতার দুর্গাপুজো আরও ভালো হবে ৷"

