বাবরি মসজিদ: হাতে টাকা-ইট-সিমেন্ট, বাস ভাড়া করে বেলডাঙার পথে শতাধিক গ্রামবাসী
বাবরি মসজিদের আবেগের টানেই শিলান্যাস স্থান দেখতে যাচ্ছেন শতাধিক মানুষ ৷ বাসে উঠে তাঁদের স্লোগান-'আমরা ইতিহাসের সাক্ষী হতে যাচ্ছি ।'

Published : December 10, 2025 at 5:47 PM IST
সামশেরগঞ্জ, 10 ডিসেম্বর: মুর্শিদাবাদে বাবরি মসজিদ নিয়ে চর্চা অব্যাহত । এই সংক্রান্ত আলোচনাই এখন জেলার মূল আলোচ্য বিষয় । 6 ডিসেম্বর বাবরি মসজিদের শিলান্যাসের দিন সেখানে উপচে পড়েছিল সংখ্যালঘু মানুষের ঢল । সেই আবেগ এখনও জারি রয়েছে ৷ এবার গ্রামগঞ্জ থেকে বাস ভাড়া করে মানুষ বেলডাঙার মরাদিঘিতে প্রস্তাবিত বাবরি মসজিদের জায়গা দেখতে যাচ্ছেন । সঙ্গে নিয়ে যাচ্ছেন টাকা, ইট, সিমেন্ট-সহ শুভেচ্ছা বার্তা ।
বুধবার সকাল থেকে এমন ছবিই ধরা পড়েছে সামশেরগঞ্জের কোহেতপুর এলাকায় ৷ সেখানে যেন চলছে ছোটখাটো উৎসব । শিশু থেকে কিশোর, যুবসমাজ থেকে বয়স্ক - সবাই একসঙ্গে সফরের প্রস্তুতিতে ব্যস্ত । শুরু থেকেই মানুষের মুখে ছিল উচ্ছ্বাস । সংখ্যালঘু মানুষের বক্তব্য, 'বেলডাঙায় ইতিহাস শুরু হয়েছে । এবার তা নিজের চোখে দেখে আসব ।' বাসের সামনে ভিড় বাড়তেই থাকে । কেউ যাত্রী তালিকা ঠিক করছেন, কেউ আবার যাত্রাপথের স্মৃতি ধরে রাখতে ছবি তুলছেন ।
গ্রামবাসীদের দাবি, 6 ডিসেম্বর বাবরি মসজিদের শিলান্যাস অনুষ্ঠানে যাঁরা যেতে পারেননি, তাঁদের মনে ছিল আক্ষেপ । আর যাঁরা গিয়েছিলেন তাঁরা আবারও দেখতে চান সেই পবিত্র ভূমি । যেখানে হাজারো মানুষের সামনে ভবিষ্যতের বাবরি মসজিদের প্রথম ইট বসানো হয়েছিল । ভরতপুরের বিধায়ক হুমায়ুন কবীরের নেতৃত্বে এই নির্মাণ কাজকে কেন্দ্র করে মানুষের মধ্যে যে আবেগ তৈরি হয়েছে, তা এদিন গ্রামবাসীদের দল বেঁধে যাত্রা করতে অনুপ্রাণিত করেছে । কোহেতপুর থেকে যাত্রা শুরু হওয়ার মুহূর্তটি ছিল আরও আবেগঘন । বাসে ওঠার পর সবার মুখে শোনা যায় একসুরে স্লোগান - 'আমরা ইতিহাসের সাক্ষী হতে যাচ্ছি ।'
এই সফর যেন এক সামাজিক মিলন উৎসবে পরিণত হয় । স্থানীয়দের মতে, এই সফর শুধু ভ্রমণ নয়, শ্রদ্ধা ও বিশ্বাসের প্রকাশ । বেলডাঙায় শিলান্যাস হওয়া বাবরি মসজিদকে সামনে থেকে দেখার ইচ্ছাই এদিন শতাধিক মানুষকে একসূত্রে বেঁধেছে । এদিন বাস যাত্রার অগ্রভাগে গ্রামবাসীদের হাতে ছিল দেশের জাতীয় পতাকা । তেরঙাকে সামনে রেখেই যাত্রা শুরু করেন তাঁরা ।

কোহেতপুর গ্রামের বাসিন্দা হাজিকুল ইসলাম বলেন, "বাবরি মসজিদের শিলান্যাসের জায়গা দেখতে আমরা বেলডাঙায় যাচ্ছি ৷ আমরা 80-90 জন বাসে করে যাচ্ছি ৷ আমরা সেখানে গিয়ে নিজেদের সাধ্যমতো সাহায্য করে আসব ৷ আমরা ভরতবর্ষে হিন্দু-মুসলমান একসঙ্গে থাকতে চাই ৷ যে যার ধর্ম পালন করুক ৷ যে কোনও ধর্মের লোক যেখানে ইচ্ছা মন্দির মসজিদ গুরুদ্বার বানাতে পারেন ৷"
আরেক গ্রামবাসী আলম শেখ বলেন, "আমাদের মনে বাবরি মসজিদ নিয়ে উৎসাহ রয়েছে ৷ আমরা কাছ থেকে আনন্দ উপভোগ করার জন্য বাস ভাড়া করে বেলডাঙায় যাচ্ছি ৷"

