তালিকা থেকে জীবিত ভোটারের নাম মুছল কমিশন ! SIR নিয়ে দুশ্চিন্তায় ভ্যানচালক
51 বছর বয়সির নাম না-থাকলেও তাঁর প্রয়াত বাবার নাম রয়েছে ভোটার তালিকায় ৷ নির্বাচন কমিশনে অভিযোগ জানিয়েছেন তিনি ৷

Published : October 29, 2025 at 6:42 PM IST
মালদা, 29 অক্টোবর: চব্বিশের লোকসভা নির্বাচনে ভোট দিয়েছিলেন ৷ কিন্তু এক বছর পরেই ভোটার তালিকায় তিনি মৃত ৷ তালিকা থেকে তাঁর নাম বাদ দিয়ে দেওয়া হয়েছে ৷ সেখানে লেখা রয়েছে 'ডিলিটেড' ৷ অথচ দিব্যি বেঁচেবর্তে রয়েছেন তিনি ৷ কাজকর্মও করছেন ৷
কিন্তু দেড় বছর আগে যিনি প্রয়াত হয়েছেন, সেই বাবার নাম তালিকায় এখনও বহাল তবিয়তে রয়ে গিয়েছে ৷ যখন রাজ্যে এসআইআর লাগু হয়ে গিয়েছে, তখন ভোটার তালিকা থেকে এভাবে নিজের নাম মুছে যাওয়ায় প্রবল দুশ্চিন্তায় পড়েছেন শ্যামল দাস ৷ এনিয়ে তিনি ইতিমধ্যে নির্বাচন কমিশনে অভিযোগ দায়ের করেছেন ৷ কিন্তু এখনও পর্যন্ত কমিশনের তরফে তাঁকে কিছু জানানো হয়নি ৷ এই পরিস্থিতিতে হতাশায় ভুগছেন তিনি ৷
51 বছর বয়সি শ্যামল দাসের বাড়ি মালদা জেলার চাঁচল 1 নম্বর ব্লকের থানাপাড়ায় ৷ পেশায় ভ্যানচালক তিনি ৷ 18 বছর বয়সের পর থেকে 2024 সাল পর্যন্ত প্রতিটি নির্বাচনে অংশ নিয়েছেন তিনি ৷ কোনও সমস্যা হয়নি ৷ কিন্তু ভোটার তালিকায় স্পেশাল ইনটেনসিভ রিভিশন চালুর মুখে তিনি জানতে পারেন, তাঁর নাম ভোটার তালিকা থেকে মুছে ফেলা হয়েছে ৷ এর জন্য তিনি সরকারি আধিকারিকদের দায়িত্বহীনতাকেই দায়ী করেছেন ৷
শ্যামল দাস বলেন, "3-4 দিন আগে পাড়ারই একজন আমাকে জানায়, ভোটার তালিকা থেকে আমার নাম নাকি বাদ দিয়ে দেওয়া হয়েছে ৷ আমি চব্বিশেও ভোট দিয়েছি ৷ তখন কোনও সমস্যা হয়নি ৷ অথচ এ'বছর আমার নাম তালিকায় নেই ৷ কেন এমন হল আমি বলতে পারব না ৷ আমার বাবা কিছুদিন আগে মারা গিয়েছেন ৷ হয়তো বাবার নাম কাটতে গিয়ে তালিকা থেকে আমার নাম কেটে দেওয়া হয়েছে ৷ সরকারি কর্মীদের ভুলের কারণেই এই ঘটনা ঘটেছে ৷ এনিয়ে অনলাইনে আমি নির্বাচন কমিশনে অভিযোগ জানিয়েছি ৷ আমি চাই আমার নাম তালিকায় তুলে দেওয়া হোক ৷"

এলাকার বাসিন্দা প্রসেনজিৎ শর্মার কথায়, "আমার বয়স 34 বছর ৷ জন্মলগ্ন থেকে আমি শ্যামলবাবুকে দেখছি ৷ তিনি জীবিত ৷ বছর দেড়েক আগে তাঁর বাবা মারা গিয়েছেন ৷ কোনও কারণে বাবার জায়গায় তাঁর নাম তালিকা থেকে কেটে দেওয়া হয়েছে ৷ প্রশাসন ঠিকমতো কাজ করছে না বলেই এই ঘটনা ঘটেছে ৷ বিষয়টি জানতে পারার পর থেকেই তিনি ওই তালিকায় নাম তোলার জন্য বিভিন্ন জায়গায় ছোটাছুটি করছেন ৷ কিন্তু কোনও কাজ হচ্ছে না ৷ কেন হচ্ছে না বুঝতে পারছি না ৷ আমি প্রশাসনিক কর্তাদের অনুরোধ করব, যাতে তাঁর নাম দ্রুততার সঙ্গে তালিকায় তোলা হয় ৷ কারণ, এসআইআর নিয়ে তিনি হতাশার মধ্যে রয়েছেন ৷"
এদিকে এই খবর চাউর হতেই তৃণমূল ও বিজেপির মধ্যে শুরু হয়েছে রাজনৈতিক চাপান উতোর ৷ বিষয়টি নিয়ে আদালতে যাওয়ার হুমকি দিয়ে রেখেছে তৃণমূল ৷ আর বিষয়টিকে তৃণমূলের ষড়যন্ত্র হিসাবে উল্লেখ করেছে বিজেপি ৷

স্থানীয় জনপ্রতিনিধি তথা তৃণমূল পরিচালিত মালদা জেলা পরিষদের সহকারী সভাপতি এটিএম রফিকুল হোসেন বলেন, "কেন্দ্রীয় সরকার তড়িঘড়ি করে এসআইআর করতে চলেছে ৷ এনিয়ে গতকাল আমাদের অধিনায়ক অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় যা জানিয়েছেন, সেটাই এখন বাস্তবায়িত হচ্ছে ৷ তিনি যা বলেছেন, তার প্রমাণও পাচ্ছি ৷"
তাঁর কথায়, "চাঁচল 1 নম্বর ব্লকের 230 নম্বর থানাপাড়া বুথের বাসিন্দা শ্যামল দাস ৷ তাঁর বাবার নাম নীরেন দাস ৷ শ্যামলবাবুর নাম ভোটার তালিকা থেকে বাদ দেওয়া হয়েছে ৷ শ্যামলবাবু চব্বিশের লোকসভা নির্বাচনে ভোট দিয়েছেন ৷ হয়তো তিনি বিজেপি প্রার্থীকেই নিজের ভোট দিয়েছেন ৷ এক বছরের মধ্যে কীভাবে তাঁর নাম তালিকা থেকে বাদ যায় ? সুতরাং ভোটার তালিকা নিয়ে যে ভুয়ো কাজকর্ম চলছে তা পরিষ্কার ৷ কেন্দ্রীয় সরকার এসআইআর-এর নামে নির্বাচন কমিশনকে কাজে লাগিয়ে ভোটের মুখে যে পরিকল্পনা করেছে, এটা তার প্রমাণ ৷ আমরা এর বিরুদ্ধে দলীয়ভাবে আদালতে যাব ৷"
অন্যদিকে, বিজেপির উত্তর মালদা সাংগঠনিক জেলার সাধারণ সম্পাদক অভিষেক সিংহানিয়ার বক্তব্য, "ভোটার তালিকায় কারচুপি, গরমিল করা তৃণমূলের কাজ ৷ এভাবেই ওরা জিতছে ৷ বিশেষ এক সম্প্রদায় অধ্যুষিত এলাকায় বেছে বেছে ওই সম্প্রদায়ের নাম বাদ দেওয়া হচ্ছে ৷ চাঁচল বিধানসভা কেন্দ্রের এই ভোটার চব্বিশের লোকসভা নির্বাচনে ভোট দিয়েছেন ৷ পঁচিশের ভোটার তালিকায় মৃত দেখিয়ে তাঁর নাম কেটে দেওয়া হয়েছে ৷ এটাই তৃণমূলের ষড়যন্ত্র ৷ কোথায় কোন অবৈধ ভোটারকে তালিকায় ঢোকাবে, জীবিত ভোটারের নাম তালিকা থেকে বাদ দেবে, তারাই এসব ঠিক করে ৷ এরা রাজনৈতিকভাবে লড়াই করে জিততে পারবে না ৷"

