FIR না নিলে থানার অবস্থা লাল করে দেব, বিজেপি কর্মীকে মারধরে পুলিশকে হুঁশিয়ারি সুকান্তর
বাঁকুড়া জেলাস্তরের তৃণমূল নেতৃত্বের বিরুদ্ধে বিভিন্ন অভিযোগেও এদিন সরব হতে দেখা গিয়েছে বিজেপি নেতাকে । মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় ও অভিষেককেও নিশানা করেছেন তিনি।

Published : January 7, 2026 at 8:16 AM IST
তালডাংরা, (বাঁকুড়া), 7 জানুয়ারি: কয়েকমাস পরেই রাজ্যে বিধানসভা নির্বাচন ৷ আর তার আগেই চড়ছে শাসক-বিরোধী দুই শিবিরেই বাগযুদ্ধের পারদ ৷ বিজেপি কর্মীকে মারধরের অভিযোগে এবার পুলিশের উপর আক্রমণ শানালেন কেন্দ্রীয় শিক্ষা প্রতিমন্ত্রী সুকান্ত মজুমদার ৷ দলীয় কর্মীকে মারধর প্রসঙ্গ তুলে প্রকাশ্য সভা থেকে তালডাংরা থানার আইসি-কে হুঁশিয়ারিও দেন বিজেপি নেতা ।
অভিযোগ, এক বিজেপি কর্মীকে তৃণমূলের লোকেরা মারধর করেছে ৷ সেই প্রসঙ্গ তুলে সভা মঞ্চ থেকেই তালডাংরা থানার আইসি-কে উদ্দেশ্য করে সুকান্ত মজুমদার বলেন, "বাঁকুড়ার জেলা সভাপতি থানায় যাবে এফআইআর করতে ৷ যদি পুলিশ এফআইআর না নেয় তবে, যেভাবে বিজেপি কর্মীর হাত মেরে লাল করে করে দেওয়া হয়েছে ঠিক একইভাবে থানার অবস্থাও করে দেব ৷"
মঙ্গলবার বাঁকুড়ার তালডাংরায় 'পরিবর্তন সংকল্প যাত্রা'য় যোগদান করেন কেন্দ্রীয় শিক্ষা প্রতিমন্ত্রী সুকান্ত মজুমদার । সংকল্প যাত্রা শেষে তালডাংরা বাজারে একটি কর্মী সভার আয়োজন করা হয় দলের পক্ষ থেকে । সেখানে খোলা মঞ্চে বক্তব্য রাখতে গিয়ে মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় ও তৃণমূলের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়কে এক হাত নিয়েছেন সুকান্ত ।
এর পাশাপাশি বাঁকুড়া জেলাস্তরের তৃণমূল নেতৃত্বের বিরুদ্ধে বিভিন্ন অভিযোগেও সরব হতে দেখা গিয়েছে বিজেপি নেতাকে । প্রসঙ্গত সুকান্ত মজুমদারের সভার ঠিক আগে ফাল্গুনী পাল নামে এক বিজেপি কর্মীকে মারধরের অভিযোগ ওঠে এলাকারই কিছু তৃণমূল কর্মীদের বিরুদ্ধে । সেই জল এসে গড়ায় সুকান্ত মজুমদারের জনসভাতেও ৷ মঞ্চে তিনি কার্যত হুঁশিয়ারি দিয়ে জানান, এর বিরুদ্ধে আইনত ব্যবস্থা না নিলে পুলিশকে দেখে নেওয়া হবে ।
আহত বিজেপি কর্মী ফাল্গুনী পাল বলেন, "মঙ্গলবারের সভার জন্য সোমবার রাতে ফ্ল্যাগ বাঁধা হচ্ছিল ৷ সব শেষ করে একা বাড়ি ফেরার সময় এক বন্ধুর সঙ্গে রাস্তায় কথা বলছিলাম ৷ তখন একটা গাড়িতে করে চারজন এসে আমার জামার কলার ধরে টানতে টানতে নিয়ে এসে আমাকে জোরপূর্বক গাড়িতে তোলার চেষ্টা করে ৷ ওরা ছিল তৃণমূলের অঞ্চল সভাপতি ও যুব সভাপতি ৷ তার সঙ্গে আরও দু'জন ছিল নিতাই পাল ও পার্থ হালদার ৷ বিজেপি ক্ষমতায় আসছে আর আমি সেই দলের তালডাংরা সক্রিয় কর্মী তাই এই ঘটনা ৷ আমার সঙ্গে পাড়ার ছেলেরা আছে সেই ভয়ভীতি থেকে এই কাজ করেছে ৷ এটা এদের নীতি ৷ কেন্দ্রীয় মন্ত্রী বলার পর জেলা নেতৃত্বকে নিয়ে থানায় যাওয়া হবে এবার ৷ যারা ছিল চারজন গাড়ি থেকে নেমেছে তাদের সবার নামে অভিযোগ করা হবে ৷"
যদিও এই প্রসঙ্গে খোলসাভাবে মুখ খুলতে নারাজ তৃণমূল শিবির । তৃণমূলের বাঁকুড়া সাংগঠনিক জেলার সভাপতি তারাশঙ্কর রায় জানান, মারধরের ঘটনা কী হয়েছে তা তাঁর জানা নেই ৷ তিনি বলেন, "একজন শিক্ষিত মানুষ হিসেবে সুকান্তবাবুর মুখে এসব কথা মানায় না । থানার দরজা যে কোনও অভিযোগ গ্রহণের জন্য সব সময় খোলা রয়েছে । জনসভায় লোক না হওয়ায় মেজাজ হারিয়ে তিনি একথা বলেছেন ।"
তবে বিষয় যাই হোক না কেন, বিধানসভা ভোটের কয়েকমাস আগে কেন্দ্রীয় মন্ত্রীর তালডাংরায় আগমন এবং দলীয় কর্মী সমর্থকদের উদ্দেশ্যে বার্তা যে অনেকটাই বাড়তি অক্সিজেন জোগাচ্ছে বিজেপি কর্মী সমর্থকদের তা বলাই যায় ।

