ETV Bharat / state

অমর্ত্য সেন মার্কিন নাগরিক, ভোটার তালিকায় নাম এল কী করে ? প্রশ্ন সুকান্তর

নোবেলজয়ী অর্থনীতিবিদ অমর্ত্য সেনকে এসআইআর শুনানির নোটিশ পাঠানো নিয়ে বিতর্ক তৈরি হয়েছে ৷ এবার মোদি মন্ত্রিসভার সদস্য সুকান্ত দাবি করলেন অমর্ত্য আমেরিকার নাগরিক ৷

Former BJP State President Sukanta Majumdar
বিজেপির প্রাক্তন রাজ্য সভাপতি সুকান্ত মজুমদার (ইটিভি ভারত)
author img

By ETV Bharat Bangla Team

Published : January 7, 2026 at 5:31 PM IST

3 Min Read
Choose ETV Bharat

আসানসোল, 7 জানুয়ারি: দেশের নোবেলজয়ী অর্থনীতিবিদ অমর্ত্য় সেনের নাম ভোটার তালিকায় থাকা নিয়ে প্রশ্ন তুললেন বিজেপির প্রাক্তন রাজ্য সভাপতি সুকান্ত মজুমদার ৷ বুধবার নির্বাচন কমিশনের তরফে ইআরও তানিয়া রায় ও বিএলও সোমব্রত মুখোপাধ্যায় তাঁর শান্তিনিকেতনের বাড়ি প্রতীচীতে গিয়ে নোটিশ দিয়ে আসেন ৷ আগামী 16 জানুয়ারি কমিশনের কাছে আন্তর্জাতিক খ্যাতিসম্পন্ন এই ভারতীয়কে তাঁর নাগরিকত্বের সমর্থনে যথোপযুক্ত নথি পেশ করতে হবে ৷

দেশে এই প্রথম কোনও ভারতরত্নকে এসআইআর শুনানির নোটিশ পাঠানো হল ৷ কমিশনের এই পদক্ষেপের কড়া সমালোচনা করেছেন তৃণমূলের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় ৷ এর জবাবে কেন্দ্রীয় শিক্ষা প্রতিমন্ত্রী সুকান্ত মজুমদার বলেন, "অর্মত্য সেনের নাম কী করে ভোটার তালিকায় এল তা নিয়েই আমার যথেষ্ট প্রশ্ন রয়েছে ৷ আমি যতদূর জানি, অমর্ত্য সেনের কাাছে আমেরিকার নাগরিকত্ব আছে ৷ স্বাভাবিকভাবে তাঁর নাম ভোটার তালিকা থেকে বাদ যাওয়া উচিত ৷ এখনও কেন আছে সেটা আমার জানা নেই ৷" এই তথ্য দেওয়ার সময় বিজেপি নেতা বারবার বলেন, "আমার ভুলও হতে পারে ৷" এদিন তিনি আসানসোলের বারাবনীতে দলীয় সভা কর‍তে এসে এই মন্তব্য করেন ৷

বিজেপির প্রাক্তন রাজ্য সভাপতি সুকান্ত মজুমদার (ইটিভি ভারত)

অভিনেতা তথা ঘাটালের তৃণমূল সাংসদ দেবকেও এসআইআর শুনানির নোটিশ পাঠানো হয়েছে ৷ এ নিয়েও নির্বাচন কমিশনের সমালোচনা করেছে তৃণমূল ৷ পাল্টা কেন্দ্রীয় মন্ত্রী সুকান্তর দাবি, "দেবের কাছে নোটিশ যাবে না কেন? দেব 2010 সালের পর ভোটার কার্ড স্থানান্তরিত করেছেন ৷ আমি অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় ও তৃণমূলের নেতাদেরও চ্যালেঞ্জ করছি, 2010 সালের আগে পশ্চিমবঙ্গের ভোটার তালিকায় দেবের নাম কোথায় ? সেটা আমাদের দেখান ৷"

বয়স্ক, অসুস্থরা অশক্ত শরীরে কখনও পরিবারের সদস্যের হাত ধরে কোনওরকমে শুনানিতে হাজির হচ্ছেন, কখনও তাঁরা হুইলচেয়ারে আসছেন ৷ আবার কয়েকটি ক্ষেত্রে অবস্থা এমনই যে স্ট্রেচারে শুইয়ে শুনানি কেন্দ্রে নিয়ে আসতে হচ্ছে ৷ এভাবে অসুস্থ ও প্রবীণদের হেনস্তা করা হচ্ছে বলে কমিশনের বিরুদ্ধে অভিযোগ করেছে তৃণমূল ৷

সম্প্রতি কল্যাণীতে এক মহিলা শুনানির জন্য দীর্ঘ লাইনে দাঁড়িয়ে থাকতে থাকতে অসুস্থ হয়ে পড়েন ৷ হাসপাতালে নিয়ে গেলে চিকিৎসকরা তাঁকে মৃত বলে ঘোষণা করেন ৷ এই ঘটনা প্রসঙ্গে মৃত্যুর দায় তৃণমূলের উপরই চাপালেন সুকান্ত ৷ তাঁর দাবি, "অসুস্থ কাউকে এসআইআর শুনানিতে নিয়ে যাওয়ার কোনও প্রয়োজন নেই ৷ বিএলও আসবেন বাড়িতে নথি দেখতে ৷"

বিজেপি নেতা সুকান্ত মজুমদার বলেন, "বেশ কয়েকজন বিএলও তৃণমূলের হয়ে কাজ করছেন ৷ তাঁরা মানুষের কাছে সঠিক তথ্য পৌঁছে দিচ্ছেন না ৷ আমার বাবা অসুস্থ ৷ তাঁর বিএলও-র কাছে যাওয়ার কোনও প্রয়োজন নেই ৷ বিএলও নিজে আসবেন ৷ কিন্তু তৃণমূল তাদের পরিচালিত বিএলওদের দিয়ে এটা করাচ্ছে ৷ এসআইআর বিরোধী একটা মানসিকতা তৈরি করার জন্য ৷"

তাঁর দাবি, "যাঁদের বয়স বেশি বা যাঁরা অসুস্থ, তাঁরা বিএলওকে জানালে, তাঁদের বাড়ি গিয়ে বিএলও যাচাই করে আসবে ৷ আমার জেলাতেই কুশমন্ডী বিধানসভায় একজন অসুস্থ ছিলেন ৷ আমরা দেখেছি বিডিও তাঁর বাড়ি গিয়ে শুনানির কাজ সম্পন্ন করেছেন ৷ সেই ফুটেজ প্রকাশ্যেও এসেছে ৷"

সুকান্তর অভিযোগ, "যিনি অসুস্থ অবস্থায় এসআইআরের শুনানিতে এসে মারা গিয়েছেন, তার দায় বিএলও'র ৷ বুথ স্তরের আধিকারিক তাঁর কাছে সঠিক তথ্য পৌঁছে দেননি ৷ কেউ অসুস্থ হলে তাঁর শুনানিতে আসার কোনও প্রয়োজন ছিল না ৷ তাঁর কাছে সঠিক তথ্য থাকলে, এসআইআরের লাইনে দাঁড়িয়ে অন্তত প্রাণটা চলে যেত না ৷" বিএলওদের সম্পর্কে সুকান্ত বলেন "বিএলওদের একটা অংশ তৃণমূলের সমর্থক ৷ তৃণমূল করেন বলেই চাকরি পেয়েছেন ৷ যাঁদের মৃত্যু হচ্ছে, তাঁদের মৃত্যুর জন্য তৃণমূলের প্ররোচিত ও প্রলোভিত এই বিএলও'রাই দায়ী ৷"