ETV Bharat / state

31 অগস্টের ডেডলাইন ঘিরে অনিশ্চয়তা, 26 হাজার চাকরি বাতিল মামলায় কী ইঙ্গিত শিক্ষামন্ত্রীর ?

সরকারের লক্ষ্য 31 অগস্টের মধ্যেই নিয়োগ সম্পূর্ণ করা ৷ সেই সময়সীমা বাকি একমাস ৷ প্রয়োজন হলে সুপ্রিম কোর্টে সময় চাওয়ার ইঙ্গিত স্কুল শিক্ষামন্ত্রীর ৷

SSC RECRUITMENT SCAM CASE
স্কুল শিক্ষামন্ত্রী দীপক বর্মন (ইটিভি ভারত)
author img

By ETV Bharat Bangla Team

Published : July 30, 2026 at 5:27 PM IST

3 Min Read
Choose ETV Bharat

কলকাতা, 30 জুলাই: 2016 সালের এসএসসি নিয়োগ দুর্নীতি মামলায় সুপ্রিম কোর্টের ঐতিহাসিক রায়ের পর চাকরিহারা হয়েছেন প্রায় 26 হাজার শিক্ষক ও অশিক্ষক কর্মীরা। তবে তৃণমূল সরকারের সময় শিক্ষকদের চাকরির মেয়াদ প্রথমে বাড়িয়ে করা হয়েছিল 31 ডিসেম্বর।

পরবর্তী সময়ে সেই সময় বৃদ্ধি হয়ে হয় 31 অগস্ট। কিন্তু সেই সময়সীমার আর মাত্র এক মাস বাকি। ফলে প্রশ্ন উঠতে শুরু করেছে, এত অল্প সময়ের মধ্যে আদৌ কি পুরো নিয়োগ প্রক্রিয়া শেষ করা সম্ভব? এই জল্পনার মধ্যেই সময়সীমা বৃদ্ধির সম্ভাবনার ইঙ্গিত শোনা গেল স্কুল শিক্ষামন্ত্রী দীপক বর্মনের গলায়।

সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে স্কুল শিক্ষামন্ত্রী দীপক বর্মন জানান, সুপ্রিম কোর্টের নির্দেশ মেনে স্কুল সার্ভিস কমিশনের মাধ্যমে নিয়োগ প্রক্রিয়ার কাজ দ্রুত এগোচ্ছে। সরকারের লক্ষ্য 31 অগস্টের মধ্যেই নিয়োগ সম্পূর্ণ করা। তবে কোথাও যদি দেখা যায় আরও কিছু সময় প্রয়োজন, তাহলে সরকার আদালতের কাছে আবেদন করে অতিরিক্ত সময় চাইবে। অর্থাৎ নির্ধারিত সময়সীমা বজায় রাখাই সরকারের প্রথম লক্ষ্য হলেও, প্রয়োজন হলে আদালতের দ্বারস্থ হওয়ার পথও খোলা রাখা হয়েছে।

মন্ত্রী বলেন, "নিয়োগ প্রক্রিয়া অনেকটাই এগিয়ে গিয়েছে। সরকার অতি দ্রুততার সঙ্গে কাজ করছে। তবে বাস্তব পরিস্থিতিতে যদি কোনও প্রশাসনিক বা অন্য কারণে কিছু সময় প্রয়োজন হয়, তাহলে আদালতের অনুমতি নিয়েই সেই কাজ সম্পূর্ণ করা হবে। এই মন্তব্যের পর কিছুটা আশার আলো দেখছেন চাকরিহারা যোগ্য শিক্ষক-শিক্ষিকারা।"

চাকরিহারা যোগ্য শিক্ষক রাকেশ আলম বলেন, "সুপ্রিম কোর্টের নির্দেশ অনুযায়ী নতুন নিয়োগের দায়িত্ব ছিল স্কুল সার্ভিস কমিশনের। কিন্তু নির্ধারিত সময়ের মধ্যেও কমিশন সেই কাজ সম্পূর্ণ করতে পারেনি। তাই এই বিলম্বের দায় কোনওভাবেই যোগ্য প্রার্থীদের নয়।"

রাকেশ আলমের দাবি, নিয়োগ সম্পূর্ণ না-হওয়া পর্যন্ত সরকারকে অবশ্যই সুপ্রিম কোর্টের কাছে সময় বৃদ্ধির আবেদন করতে হবে। কারণ, ইতিমধ্যেই দু'দফা সময় বৃদ্ধির সুযোগে তাঁরা স্কুলে কাজ করছেন এবং বেতন পাচ্ছেন। 31 অগস্টের পর সেই সুরক্ষা শেষ হয়ে গেলে হাজার হাজার যোগ্য শিক্ষক-শিক্ষিকার ভবিষ্যৎ অনিশ্চয়তার মুখে পড়বে। তাই নিয়োগ শেষ না-হওয়া পর্যন্ত তাঁদের চাকরি ও বেতন চালু রাখার জন্য আদালতের কাছে আবেদন করা প্রয়োজন বলেই মত তাঁদের।

তবে শুধু শিক্ষকরাই নন, একই দাবিতে সরব হয়েছেন চাকরিহারা গ্রুপ-সি ও গ্রুপ-ডি শিক্ষাকর্মীরাও। শিক্ষামন্ত্রী জানিয়েছেন, গ্রুপ-সি ও ডি-র পরীক্ষার ফল প্রস্তুত রয়েছে। কিন্তু আপাতত সরকারের অগ্রাধিকার শিক্ষক নিয়োগ সম্পূর্ণ করা। এরপর প্রকাশ করা হবে গ্রুপ-সি ও ডি-র ফল এবং এগোবে পরবর্তী নিয়োগ প্রক্রিয়া। এই অবস্থানেই তীব্র আপত্তি জানিয়েছেন, চাকরিহারা গ্রুপ-সি কর্মী অমিত মণ্ডল।

তাঁর অভিযোগ, গত প্রায় 16 মাস ধরে গ্রুপ-সি ও ডি কর্মীরা বেতনহীন অবস্থায় রয়েছেন। অথচ তাঁদের পরীক্ষার ফল প্রস্তুত থাকার কথা সরকার নিজেই স্বীকার করছে। তাহলে সেই ফল এখনও প্রকাশ করা হচ্ছে না কেন, সেই প্রশ্ন তুলেছেন তিনি।

চাকরিহারা গ্রুপ-সি ও ডি'র কর্মীদের দাবি, ফল প্রকাশের পরেও গ্রুপ সি-র ক্ষেত্রে টাইপিং টেস্ট, নথি যাচাই এবং সাক্ষাৎকারের মতো একাধিক ধাপ বাকি রয়েছে। গ্রুপ ডি-র ক্ষেত্রেও সাক্ষাৎকারের প্রক্রিয়া সম্পূর্ণ করতে হবে। ফলে যদি শিক্ষকদের নিয়োগ শেষ হওয়ার জন্য অপেক্ষা করা হয়, তাহলে তাঁদের নিয়োগ আরও দীর্ঘদিন পিছিয়ে যাবে। তাঁর বক্তব্য, "শিক্ষক ও শিক্ষাকর্মীদের নিয়োগ প্রক্রিয়া একসঙ্গে চালানো সম্ভব। স্কুল সার্ভিস কমিশনের প্রয়োজন হলে জনবল বাড়িয়ে দুই ক্ষেত্রেই সমান্তরালভাবে কাজ করা উচিত। কারণ শিক্ষাকর্মীদের সংখ্যা তুলনামূলকভাবে কম হওয়ায় তাঁদের নিয়োগ সম্পূর্ণ করতে সময়ও কম লাগবে।"