ইউজিসি ‘ওপেন ডিসক্লোজার’ নীতি কার্যকরের দাবি, উচ্চশিক্ষা দফতরে স্মারকলিপি বিএমএস-এর
সংগঠনের দাবি, এই নির্দেশিকা কার্যকর করা জাতীয় শিক্ষানীতি 2020 বাস্তবায়নের ক্ষেত্রে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। পাশাপাশি, তথ্যের অধিকার আইন, 2005-এর যথাযথ প্রয়োগ নিশ্চিত করতেও এই উদ্যোগ জরুরি।

Published : July 6, 2026 at 6:12 PM IST
কলকাতা, 6 জুলাই: রাজ্যের সরকারি সাহায্যপ্রাপ্ত বিশ্ববিদ্যালয়গুলিতে প্রশাসনিক স্বচ্ছতা ও জবাবদিহি নিশ্চিত করতে ইউজিসি (UGC)-র 2024 সালের ‘ওপেন ডিসক্লোজার’ নির্দেশিকা কার্যকর করার দাবি জানিয়ে উচ্চশিক্ষা দফতরের কাছে স্মারকলিপি পাঠিয়েছে পশ্চিমবঙ্গ বিশ্ববিদ্যালয় কর্মচারী সংগঠন (বিএমএস)। সংগঠনের দাবি, এই নির্দেশিকা কার্যকর করা জাতীয় শিক্ষানীতি (NEP) 2020 বাস্তবায়নের ক্ষেত্রে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। পাশাপাশি তথ্যের অধিকার আইন, 2005-এর যথাযথ প্রয়োগ নিশ্চিত করতেও এই উদ্যোগ কার্যকর ভূমিকা নেবে।
সংগঠনের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, সরকারি অর্থে পরিচালিত ও সরকারি সাহায্যপ্রাপ্ত রাজ্যের বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ের ওয়েবসাইটে এখনও প্রশাসনিক কার্যকলাপ, আর্থিক ব্যবস্থাপনা, শিক্ষা, গবেষণা, উদ্ভাবন, প্রতিষ্ঠানগত উৎকর্ষ, বিভিন্ন নীতিগত সিদ্ধান্ত এবং অন্যান্য গুরুত্বপূর্ণ তথ্য সম্পূর্ণভাবে প্রকাশ করা হয় না। ফলে বিশ্ববিদ্যালয়গুলির কার্যক্রম সম্পর্কে সাধারণ মানুষ, পড়ুয়া, শিক্ষক, গবেষক এবং সংশ্লিষ্ট মহলের কাছে পর্যাপ্ত তথ্য পৌঁছায় না। এর ফলে স্বচ্ছতা ও জবাবদিহির ক্ষেত্রেও ঘাটতি থেকে যাচ্ছে বলে দাবি সংগঠনের।
স্মারকলিপিতে উল্লেখ করা হয়েছে, ইউজিসি-র 2024 সালের নির্দেশিকা অনুযায়ী বিশ্ববিদ্যালয়গুলির প্রশাসনিক, আর্থিক এবং অ্যাকাডেমিক সংক্রান্ত গুরুত্বপূর্ণ তথ্য নিয়মিতভাবে ওয়েবসাইটে প্রকাশ করা বাধ্যতামূলক। কিন্তু পশ্চিমবঙ্গের অধিকাংশ বিশ্ববিদ্যালয়ে সেই নির্দেশিকার পূর্ণাঙ্গ বাস্তবায়ন এখনও হয়নি। ফলে জাতীয় শিক্ষানীতি 2020 বাস্তবায়নের ক্ষেত্রেও বাধা তৈরি হচ্ছে বলে সংগঠনের অভিযোগ।
এই পরিস্থিতিতে বিষয়টি নিয়ে রাজ্যের উচ্চশিক্ষামন্ত্রীর হস্তক্ষেপ চেয়ে দ্রুত প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ গ্রহণের আবেদন জানানো হয়েছে। সংগঠনের দাবি, রাজ্য সরকার সমস্ত বিশ্ববিদ্যালয়কে ইউজিসি-র ‘ওপেন ডিসক্লোজার’ নির্দেশিকা মেনে চলার নির্দেশ দিক, যাতে উচ্চশিক্ষা ব্যবস্থায় স্বচ্ছতা, জবাবদিহি এবং সুশাসন আরও শক্তিশালী হয়।
সংগঠনের পক্ষ থেকে আরও জানানো হয়েছে, এই প্রস্তাব শুধু উচ্চশিক্ষা দফতরেই নয়, কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয়, যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয়-সহ রাজ্যের সমস্ত বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য ও রেজিস্ট্রারদের কাছেও ই-মেলের মাধ্যমে পাঠানো হয়েছে। পাশাপাশি রাজ্যপালের দফতর, মুখ্যমন্ত্রীর দফতর, অর্থ দফতর, বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি এবং তথ্যপ্রযুক্তি দফতরের মন্ত্রী ডঃ কল্যাণ চক্রবর্তীর দফতর-সহ রাজ্যের একাধিক গুরুত্বপূর্ণ প্রশাসনিক কর্তৃপক্ষের কাছেও একই প্রস্তাব পাঠানো হয়েছে। সংগঠনের আশা, বিষয়টির গুরুত্ব বিবেচনা করে রাজ্য সরকার দ্রুত প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ গ্রহণ করবে এবং বিশ্ববিদ্যালয়গুলিতে তথ্য প্রকাশের স্বচ্ছ ও অভিন্ন ব্যবস্থা কার্যকর করবে।
'রাজ্য শিক্ষানীতি' নামে হলেও দেশজুড়ে NEP চালু হোক, বিশ্বভারতীতে আর্জি UGC-র প্রাক্তন চেয়ারম্যানের

