ব্যবসায়ীকে ভয় দেখিয়ে আটক ও লুটপাট ! গ্রেফতার কলকাতা পুলিশের 2 কর্মী
ঘটনায় জড়িত শ্যামপুুকুর থানা এলাকায় পিসিআর ভ্যানের দুই পুুলিশকর্মী ৷ ব্যবসায়ীর ব্যাংকের নথি কেড়ে নেওয়ার অভিযোগ ৷

Published : June 1, 2026 at 5:18 PM IST
কলকাতা, 1 জুন: এক ব্যবসায়ীকে ভয় দেখিয়ে বেআইনিভাবে আটকে রাখা, তাঁর এটিএম কার্ড ও ব্যাংকের নথিপত্র কেড়ে নেওয়া এবং পরে সেই কার্ড ব্যবহার করে টাকা তোলার অভিযোগ ৷ এই ঘটনায় জড়িত থাকার অভিযোগ কলকাতা পুলিশের দুই কর্মীর বিরুদ্ধে ৷ ব্যবসায়ীকে বেআইনিভাবে আটক ও লুটপাটের অভিযোগে দুই পুলিশকর্মীকে গ্রেফতার করা হয়েছে ৷ ঘটনাকে কেন্দ্র করে কলকাতা পুলিশের অন্দরে ব্যাপক চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে ৷
লালবাজার সূত্রে জানা গিয়েছে, অভিযুক্ত দুই পুলিশকর্মীর পরিচয় এখনও প্রকাশ করা হয়নি ৷ তবে, কলকাতা পুলিশের এক শীর্ষ আধিকারিক নাম প্রকাশ না-করার শর্তে বলেছেন, "পুলিশের পোশাক পরে এ ধরনের অনৈতিক ও বেআইনি কাজ কোনওভাবেই মেনে নেওয়া হবে না ৷ এই ঘটনায় জড়িতদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে ৷ কলকাতা পুলিশের নীতি অনুযায়ী, এ ধরনের অপরাধের ক্ষেত্রে জিরো টলারেন্স নীতি অনুসরণ করা হয় ৷"
পুলিশ সূত্রে খবর, গত সপ্তাহে উত্তর কলকাতার শ্যামপুকুর এলাকায় ডিউটিতে থাকা একটি পিসিআর ভ্যানের দুই কর্মী বাঁকুড়ার এক ব্যবসায়ীকে আটক করেন ৷ অভিযোগ, কোনও বৈধ কারণ ছাড়াই তাঁকে ভয় দেখিয়ে দীর্ঘক্ষণ আটকে রাখা হয় ৷ শুধু তাই নয়, ব্যবসায়ীর কাছ থেকে নগদ টাকা আদায়ের পাশাপাশি তাঁর এটিএম কার্ড ও ব্যাংকের গুরুত্বপূর্ণ নথিপত্রও কেড়ে নেওয়া হয় বলে অভিযোগ ওই দুই পুলিশকর্মীর বিরুদ্ধে ৷
পরবর্তীতে ওই এটিএম কার্ড ব্যবহার করে ব্যাংক অ্যাকাউন্ট থেকে টাকা তোলা হয়েছে বলেও অভিযোগ করেছেন ব্যবসায়ী ৷ ঘটনার পর তিনি শ্যামপুকুর থানায় লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছেন ৷ অভিযোগ পাওয়ার পরই তদন্তে নেমেছে কলকাতা পুলিশ ৷
তদন্তে প্রাথমিকভাবে অভিযোগের সত্যতা মিলতে, দ্রুত পদক্ষেপ করা হয়েছে কলকাতা পুলিশের তরফে ৷ অভিযুক্ত দুই পুলিশকর্মীকে গ্রেফতার করা হয়েছে ৷ তাঁদের বিরুদ্ধে তোলাবাজি, বেআইনিভাবে আটক রাখা, প্রতারণা এবং অপরাধমূলক বিশ্বাসভঙ্গ-সহ একাধিক ধারায় মামলা রুজু করা হয়েছে বলে পুলিশ সূত্রে খবর ৷
ঘটনার তদন্ত এখনও চলছে ৷ এই ঘটনার সঙ্গে আরও কেউ জড়িত কি না, কিংবা ব্যবসায়ীর কাছ থেকে আদায় করা অর্থের পরিমাণ কত, তা খতিয়ে দেখছেন তদন্তকারীরা ৷ পুলিশের একাংশের মতে, আইন রক্ষকদের বিরুদ্ধে ওঠা এই ধরনের অভিযোগ বাহিনীর ভাবমূর্তিতে আঘাত হানতে পারে ৷ তাই ঘটনার পূর্ণাঙ্গ তদন্ত করে দোষীদের বিরুদ্ধে দৃষ্টান্তমূলক ব্যবস্থা নিতে চাইছে লালবাজার ৷

