ডিজিটাল 'অ্যারেস্ট' প্রতারণা চক্রে বড় ধাক্কা ! নদিয়ায় গ্রেফতার 2, উদ্ধার বিপুল ক্রিপ্টোকারেন্সি
নেতাজি নগর থানায় দায়ের হওয়া ডিজিটাল ‘অ্যারেস্ট’ প্রতারণা মামলার তদন্তে নদিয়ার হাঁসখালি থানা এলাকার বগুলা থেকে দু’জনকে গ্রেফতার করা হল ।

Published : January 8, 2026 at 7:23 PM IST
কলকাতা, 8 জানুয়ারি: ডিজিটাল প্রতারণার বিরুদ্ধে অভিযানে বড় সাফল্য পেল কলকাতা পুলিশ । নেতাজি নগর থানায় দায়ের হওয়া একটি ডিজিটাল ‘অ্যারেস্ট’ প্রতারণা মামলার তদন্তে নেমে নদিয়ার হাঁসখালি থানা এলাকার বগুলা থেকে গ্রেফতার করা হল দু’জনকে । পুলিশের দাবি, ধৃতরা একটি সংঘবদ্ধ প্রতারণা চক্রের সক্রিয় সদস্য ।
পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে, তদন্তের সময় প্রযুক্তিগত সূত্র ও আর্থিক লেনদেনের লিংক ধরে নদিয়ার বগুলা মধ্যপাড়ায় একটি বাড়িতে হানা দেয় তদন্তকারী দল । মঙ্গলবার রাত সাড়ে আটটা নাগাদ অভিযান চালিয়ে গ্রেফতার করা হয় দেনতানু সরকার (25) ও সৌরভ বিশ্বাস (27)-কে । ধৃত দু’জনের বিরুদ্ধেই প্রতারণা, জালিয়াতি ও তথ্যপ্রযুক্তি আইনের একাধিক ধারায় মামলা রুজু করা হয়েছে ।
অভিযানের সময় ধৃতদের কাছ থেকে দুটি মোবাইল ফোন উদ্ধার হয় । ওই মোবাইলগুলি পরীক্ষা করে একাধিক প্রতারণামূলক কথোপকথন, লেনদেন সংক্রান্ত তথ্য এবং ডিজিটাল প্রমাণ মিলেছে বলে পুলিশ সূত্রের খবর । পাশাপাশি উদ্ধার হয়েছে আটটি ব্যাঙ্ক পাসবুক ও চেকবুক, ছ’টি এটিএম কার্ড । পুলিশের মতে, বিভিন্ন ব্যক্তির নাম ও পরিচয় ব্যবহার করে এই ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্টগুলির মাধ্যমে প্রতারণার টাকা ঘোরানো হত ।
সবচেয়ে চাঞ্চল্যকর তথ্য মিলেছে ক্রিপ্টোকারেন্সি সংক্রান্ত উদ্ধার থেকে । ধৃতদের কাছ থেকে একটি হার্ডওয়্যার ক্রিপ্টো ওয়ালেট বাজেয়াপ্ত করা হয়েছে, যেখানে প্রায় 3,800 মার্কিন ডলার মূল্যের ক্রিপ্টোকারেন্সি মজুত ছিল বলে জানা গিয়েছে । এছাড়াও ক্রিপ্টো ওয়ালেট ও এক্সচেঞ্জ সংক্রান্ত একাধিক তথ্য ও নথি উদ্ধার হয়েছে । পুলিশের ধারণা, প্রতারণার মাধ্যমে আদায় করা টাকা ট্র্যাক করার বিষয়টি এড়াতে তা ক্রিপ্টোকারেন্সিতে রূপান্তর করা হত ।
এই বিষয়ে নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক কলকাতা পুলিশের এক আধিকারিক বলেন, "এই ঘটনায় আরও অনেকে যুক্ত থাকতে পারে ৷" তদন্তকারীদের প্রাথমিক অনুমান, এই চক্র ভুয়ো আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর পরিচয় দিয়ে সাধারণ মানুষকে ফোন করে ‘ডিজিটাল অ্যারেস্ট’-এর ভয় দেখাত । বলা হত, কোনও অপরাধে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তির নাম জড়িয়েছে, অবিলম্বে টাকা না-দিলে তাঁকে গ্রেফতার করা হবে । সেই ভয় দেখিয়েই বিভিন্ন অ্যাকাউন্টে টাকা জমা করানো হত । পরে সেই টাকা বিভিন্ন মাধ্যমে সরিয়ে ফেলা হত ।
পুলিশ জানিয়েছে, ধৃতদের জেরা করে এই চক্রের সঙ্গে আর কারা জড়িত, কোথা থেকে কল করা হত এবং কতজন প্রতারণার শিকার হয়েছেন, সে বিষয়ে বিস্তারিত তথ্য সংগ্রহ করা হচ্ছে । একইসঙ্গে উদ্ধার হওয়া ডিজিটাল প্রমাণ খতিয়ে দেখে গোটা নেটওয়ার্কের পর্দাফাঁসের চেষ্টা চলছে । তদন্তকারীদের আশা, এই গ্রেফতারের সূত্র ধরে ডিজিটাল প্রতারণা চক্রের বড় অংশের সন্ধান মিলতে পারে ।

