ETV Bharat / state

প্রসবের সময় ভাঙে বাঁদিকের ফিমার, আরজি করে মৃত্যু 2 দিনের শিশুকন্যার, গাফিলতির অভিযোগ

মঙ্গলবার জন্ম হয় এবং বৃহস্পতিবার সকালে মৃত্যু হয় সদ্যোজাতর৷ হাসপাতালে বিক্ষোভ দেখানো হয় পরিবারের তরফে৷

RG Kar Medical College and Hospital
আরজি কর মেডিক্যাল কলেজ ও হাসপাতাল (ফাইল ছবি)
author img

By ETV Bharat Bangla Team

Published : February 13, 2026 at 3:46 PM IST

3 Min Read
Choose ETV Bharat

কলকাতা, 13 ফেব্রুয়ারি: চিকিৎসায় গাফিলতির অভিযোগে সদ্যোজাতের মৃত্যুর অভিযোগ উঠল কলকাতার আরজি কর মেডিক্যাল কলেজ ও হাসপাতালে৷ মঙ্গলবার জন্মানো ওই শিশুকন্যার মৃত্যু হয় গতকাল বৃহস্পতিবার সকালে৷ এই নিয়ে মৃতের পরিবারের লোকেরা বিক্ষোভও দেখায় হাসপাতাল চত্বরে৷

কলকাতার একটি নামী মেডিক্যাল কলেজে চিকিৎসায় গাফিলতিতে মৃত্যুর ঘটনা ঘিরে রীতিমতো হইচই পড়েছে৷ যদিও গাফিলতির অভিযোগ মানতে নারাজ হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ৷ তারা জানিয়েছে, গর্ভে থাকাকালীনই কিছু জটিলতা ছিল৷ যে কারণে প্রসবের সময় সমস্যা তৈরি হয়৷ যা পরে ওই সদ্যোজাতের মৃত্যুর কারণ হয়ে দাঁড়ায়৷

আরজি করে সদ্যোজাতের মৃত্যু

হাসপাতাল ও পরিবার সূত্রে জানা গিয়েছে, শোভাবাজারের বাসিন্দা সিমরন কুমারীকে প্রথমে ভর্তি করা হয় একটি মেটারনিটি হোমে। এরপর সোমবার সকাল সাড়ে 11টা নাগাদ সেখান থেকে তাঁকে আরজি কর মেডিক্যাল কলেজ ও হাসপাতালে নিয়ে আসা হয়। সিমরন কুমারীর পরিবারের সদস্য জিরান সিং জানান, প্রথমে তাঁর (সিমরন) সাধারণ ডেলিভারি করার ভাবনাচিন্তা করেছিলেন চিকিৎসকেরা। কিন্তু মঙ্গলবার রাতে জানানো হয় পরিস্থিতি জটিল হয়ে গিয়েছে। তাই সিজার করা ছাড়া উপায় নেই।

তিনি আরও জানান, মঙ্গলবার রাতেই সিজার করা হয়৷ প্রসবের সময় দেখা যায় বাঁ-পা ভেঙে গিয়েছে সদ্যোজাতের। তারপর শিশুটি নিঃশ্বাস নিতে পারছিল না। সম্পূর্ণ নীল হয়ে গিয়েছিল। ওই সদ্যোজাতকে রাখা হয়েছিল এসএনসিইউ-তে৷ পরে শারীরিক অবস্থা সংকটজনক হয়ে যায়। বৃহস্পতিবার সকালে মৃত্যু হয়৷

সদ্যোজাতের মৃত্যুতে গাফিলতির অভিযোগ

পরিবারের অভিযোগ, জন্মের পর চিকিৎসকদের তরফে জানানো হয় যে সদ্যোজাতের বাঁ পা ভেঙে গিয়েছে৷ এর জন্য ভবিষ্যতে শারীরিক সমস্যার মধ্যে পড়তে পারে৷ সে না-ও দাঁড়াতে পারে৷ এর জন্য অর্থোপেডিক চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া হবে বলেও জানানো হয়েছিল চিকিৎসকদের তরফে৷

সেই কারণেই সিমরনের পরিবারের সদস্যদের অভিযোগ, চিকিৎসকের গাফিলতির কারণে শিশুটি পা ভেঙে যায়। নিঃশ্বাস নিতে সমস্যা হয়৷ পরবর্তী সময় মারা যায়। তাই চিকিৎসার গাফিলতিতেই মৃত্যু হয়েছে সদ্যোজাতর৷ এই অভিযোগ তুলে হাসপাতাল চত্বরে বিক্ষোভও দেখান পরিবারের সদস্যরা৷

কী বলছে আরজি কর কর্তৃপক্ষ?

এই বিষয়ে আরজি কর মেডিক্যাল কলেজ ও হাসপাতালের এমএসভিপি (মেডিক্যাল সুপারিন্টেডেন্ট কাম ভাইস প্রিন্সিপ্যাল) সপ্তর্ষি চট্টোপাধ্যায় জানান, বাচ্চাটির ‘ব্রিচ প্রেজেনটেশন’ ছিল। অর্থাৎ গর্ভের মধ্যে শিশুর মাথা সাধারণত নিচের দিকে থাকে৷ এর ক্ষেত্রে উলটো দিকে ছিল৷ স্বাভাবিক প্রসবের জন্য যখন চেষ্টা করা হচ্ছিল, তখন এই বিষয়টি চিকিৎসকদের নজরে আসে৷ এরপর অবস্থান ঠিক করার চেষ্টা করলে দেখা যায় শিশুটির মাথায় চাপ পড়ছে। সেই সময় তড়িঘড়ি সিজার করার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়।

ড. সপ্তর্ষি চট্টোপাধ্যায় আরও জানান, তখন দেখা যায় শিশুটির বাঁ দিকের ফিমার ভেঙেছে। যেটিকে গ্রিন স্টিক ফ্যাকচার বলা হয়। বাচ্চাটিকে বের করার পরে একবারের জন্যও কাঁদেনি। অর্থাৎ ফুসফুস ঠিক মতো খোলেনি। তখনই অ্যাম্বুব্যাগ দিয়ে শিশুটিকে এসএনসিইউতে স্থানান্তরিত করা হয়। বৃহস্পতিবার সকালে রাইলস টিউব দিয়ে তরল খাবার দেওয়া হয়। কিন্তু তারপরে আচমকা অবস্থার অবনতি হওয়ায় ভেন্টিলেশন দিতে হয়। পরে মারা যায়।

আরও পড়ুন -

  1. ‘ভাড়া’ 200 টাকা! ট্রলি না-পেয়ে করিডরেই মৃত্যু রোগীর, কাঠগড়ায় উত্তরবঙ্গ মেডিক্যাল
  2. ভুল ইনজেকশনে মৃত্যু নার্সিংহোমে ! রোগীকে অ্যাম্বুলেন্সে রেখে তুমুল বিক্ষোভ পরিবারের