মহেশতলায় পিটিয়ে খুন ! মদ্যপ 2 ভাইয়ের হাতে প্রাণ গেল 'বন্ধু'র
অভিযুক্ত দুই ভাইকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ ৷ ধৃতদের বিরুদ্ধে খুনের মামলা রুজু করা হয়েছে ৷

Published : October 22, 2025 at 5:29 PM IST
মহেশতলা, 22 অক্টোবর: কালীপুজোর পরের রাতে সামান্য তর্কাতর্কি গড়াল মারাত্মক সংঘর্ষে ৷ মদ্যপানের পর বন্ধুকে পিটিয়ে খুনের অভিযোগ উঠল দুই ভাইয়ের বিরুদ্ধে ৷ ঘটনাটি ঘটেছে দক্ষিণ 24 পরগনার মহেশতলায় ৷ মৃতের নাম বরুণ মণ্ডল(41) ৷ ঘটনায় ইতিমধ্যেই দুই অভিযুক্তকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ ।
পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা গিয়েছে, মঙ্গলবার রাতে মহেশতলার গোপালপুর মালিপাড়ায় 13 নম্বর ওয়ার্ডে কালীপুজোর মণ্ডপের সামনেই বসেছিলেন স্থানীয় বাসিন্দা দুই ভাই চিরঞ্জিত মিত্র ও শুভঙ্কর মিত্র ৷ সেসময় কাজ থেকে ফিরছিলেন তাঁদের বন্ধু বরুণ মণ্ডল । তিনজনেই নেশাগ্রস্ত অবস্থায় ছিলেন বলে জানা গিয়েছে ।
রাত প্রায় 11টা নাগাদ অজানা কোনও বিষয় নিয়ে তাঁদের মধ্যে কথা কাটাকাটি শুরু হয় । সেই বচসা মুহূর্তের মধ্যেই হাতাহাতিতে রূপ নেয় । অভিযোগ, চিরঞ্জিত ও শুভঙ্কর রাস্তায় ফেলে নির্মমভাবে মারধর করতে থাকেন বরুণকে । প্রত্যক্ষদর্শীদের দাবি, বরুণের বুকে একাধিকবার লাথি মারা হয়, পাশাপাশি ঘুষি ও লাঠির আঘাতও করা হয় তাঁকে । কিছুক্ষণের মধ্যেই রাস্তায় লুটিয়ে পড়েন বরুণ ।

স্থানীয়রা তাঁকে উদ্ধার করে তড়িঘড়ি স্থানীয় বিদ্যাসাগর হাসপাতালে নিয়ে যান । কিন্তু চিকিৎসকরা জানান, হাসপাতালে আনার আগেই মৃত্যু হয়েছে বরুণের । খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে পৌঁছয় মহেশতলা থানার পুলিশ । দুই ভাই চিরঞ্জিত ও শুভঙ্কর মিত্রকে প্রথমে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য থানায় নিয়ে যাওয়া হয়, পরে তাঁদের গ্রেফতার করা হয় ।
ঘটনার পরই এলাকায় ব্যাপক উত্তেজনা ছড়ায় । মৃতের পরিবার অভিযুক্তদের কঠোর শাস্তির দাবি জানিয়েছে । রাতেই পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে এলাকায় অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয় । গোটা ঘটনার তদন্ত শুরু হয়েছে । আশপাশের সিসিটিভি ফুটেজ সংগ্রহ করা হচ্ছে । প্রাথমিক তদন্তে পুলিশের অনুমান, মত্ত অবস্থায় তর্কাতর্কি থেকেই ধাক্কাধাক্কি এবং পরে প্রাণঘাতী সংঘর্ষ ঘটে । তবে খুন নাকি দুর্ঘটনা, তা নিয়ে এখনও ধোঁয়াশা রয়েছে । সমস্ত দিক খতিয়ে দেখা হচ্ছে বলে জানিয়েছে পুলিশ ।
ডায়মন্ডহারবার পুলিশ জেলার অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মিতুনকুমার দে বলেন, "মঙ্গলবার নেশাগ্রস্ত অবস্থায় গালিগালাজ করছিলেন বরুণ ৷ সেই সময় মিত্র দুই ভাই চিরঞ্জিত এবং শুভঙ্করের সঙ্গে বচসায় জড়িয়ে পড়েন তিনি ৷ পরবর্তীকালে তা হাতাহাতিতে রূপান্তরিত হয় ৷ পরে গুরুতর অসুস্থ অবস্থায় বরুণকে স্থানীয়রা হাসপাতালে নিয়ে গেলে চিকিৎসকের মৃত বলে ঘোষণা করেন । গোটা ঘটনা তদন্তে নেমে অভিযুক্ত শুভঙ্কর এবং চিরঞ্জিতকে আমরা গ্রেফতার করেছি । প্রাথমিকভাবে মৃতের দেহে কোনও অস্ত্রজনিত আঘাতের চিহ্ন মেলেনি ৷ দেহ ময়নাতদন্তে পাঠানো হয়েছে ৷ অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে খুনের মামলা রুজু করা হয়েছে ।"
স্থানীয়দের একাংশের কথায়, বরুণ, চিরঞ্জিত আর শুভঙ্কর ছোটবেলা থেকেই বন্ধু । এমন পরিণতি হবে তাঁরা ভাবেননি । স্থানীয় বাসিন্দা ভারতী মণ্ডল বলেন, "বরুণ কাজ থেকে ফেরার সময় গালিগালাজ দিতে দিতে ফিরছিল ৷ সেসময় মোড়ের মাথায় তাকে মারধর করে চিরঞ্জিত ৷ এমন মারল ছেলেটা মরেই গেল ৷ এটা কী উচিত ! দু'জনেই নেশা করেছিল ৷"
উৎসবের রাতে এই নির্মম মর্মান্তিক ঘটনা ঘিরে শোকস্তব্ধ মহেশতলার গোপালপুর এলাকা । মৃতের বউদি রূম্পা মণ্ডল বলেন, "আমার দেওর বরুণ ও চিরঞ্জিত দু'জনেই মত্ত অবস্থায় ছিল ৷ ওদের মধ্যে মারামারি হয় ৷ বুকের ছাতিতে লাথি মেরে আমার দেওরের ফুসফুস ফাটিয়ে দিয়েছে বলে শুনলাম ৷ আমরা এসে ওকে মৃত অবস্থায় দেখলাম ৷"

