ETV Bharat / state

বিধাননগরে স্বর্ণ ব্যবসায়ী অপহরণ-খুন: গ্রেফতার রাজগঞ্জের বিডিও-র গাড়ির চালক-সহ 2

কলকাতায় রাজগঞ্জের বিডিও প্রশান্ত বর্মনের গাড়ি চালাতেন ধৃত ব্যক্তি ৷ ঘটনায় গ্রেফতার আরেকজন পেশায় ঠিকাদার বলে পুলিশ সূত্রে খবর ৷

GOLD MERCHANT KIDNAP AND MURDER
প্রতীকী ছবি ৷ (ফাইল ছবি)
author img

By ETV Bharat Bangla Team

Published : November 8, 2025 at 1:41 PM IST

|

Updated : November 8, 2025 at 3:35 PM IST

5 Min Read
Choose ETV Bharat

কলকাতা, 8 নভেম্বর: স্বর্ণ ব্যবসায়ীকে অপহরণ ও খুনের মামলার তদন্তে বড় সাফল্য পেল বিধাননগর পুলিশ কমিশনারেট ৷ অবশেষে এই ঘটনায় অভিযুক্ত দু’জনকে গ্রেফতার করেছেন তদন্তকারীরা ৷ ধৃতদের নাম রাজু ঢালি এবং তুফান থাপা ৷ পুলিশ সূত্রে খবর, উত্তরবঙ্গের এক এলাকা থেকে দু’জনকে আটক করা হয় ৷ পরে তাঁদের গ্রেফতার করা হয় ৷ ধৃতদের 12 দিনের পুলিশি হেফাজতের নির্দেশ দিয়েছে আদালত ৷

তদন্তকারীরা জানিয়েছেন, স্বর্ণ ব্যবসায়ীকে খুনের ঘটনায় নাম জড়ানো রাজগঞ্জের বিডিও প্রশান্ত বর্মনের গাড়ির চালক ছিলেন রাজু ঢালি ৷ বিডিও কলকাতায় এলে তাঁর ব্যক্তিগত গাড়ির চালক হিসেবে কাজ করতেন রাজু ৷ অন্যদিকে, তুফান থাপা পেশায় ঠিকাদার হলেও, তিনি বিডিও প্রশান্ত বর্মনের ঘনিষ্ঠ সহযোগী ছিলেন বলে জানা গিয়েছে ৷ দু’জনের সঙ্গে রাজগঞ্জের ঘনিষ্ঠ পারিবারিক সম্পর্কও ছিল ৷

সূত্রের দাবি, খুনের দিন রাজু ও তুফান দু’জনেই ঘটনাস্থলে উপস্থিত ছিলেন ৷ প্রাথমিক তদন্তে পুলিশ মনে করছে, ব্যবসায়ীকে পরিকল্পনা করে অপহরণ করা হয়েছিল ৷ তারপরেই খুনের ঘটনাটি ঘটে ৷ তবে, খুনের উদ্দেশ্য নিয়েই অপহরণ করা হয়েছিল কি না, তা এখনও চূড়ান্তভাবে কিছু জানাননি তদন্তকারীরা ৷

বিধাননগর কমিশনারেটের এক কর্তা বলেন, "অভিযুক্তদের জিজ্ঞাসাবাদ শুরু হয়েছে ৷ প্রাথমিকভাবে মনে করা হচ্ছে, ব্যক্তিগত সম্পর্কের জটিলতাই এই হত্যার মূল কারণ ৷" পুলিশ খুনে ব্যবহৃত গাড়ি ও কিছু গুরুত্বপূর্ণ নথি উদ্ধার করেছে বলেও জানা গিয়েছে ৷ তদন্তকারীদের অনুমান, খুনের ঘটনায় আরও কেউ জড়িত থাকতে পারে ৷ ধৃতদের জিজ্ঞাসাবাদে সেই দিকেই এখন নজর দিচ্ছেন তদন্তকারীরা ৷

এই বিষয়ে নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক বিধাননগর কমিশনারেটরের এক উচ্চপদস্থ আধিকারিক বলেন, "ভালোভাবে পরীক্ষা-নিরীক্ষা করার পর অভিযুক্তদের প্রথমে আটক করে জিজ্ঞাসাবাদ করা হয় ৷ তাঁদের কাছ থেকে কোনও উত্তর না-পাওয়া, গ্রেফতার করা হয়েছে ৷ তাঁদেরকে আমরা আদালতে পেশ করে নিজেদের হেফাজতে নেব ৷ এরপর জিজ্ঞাসাবাদে এই ঘটনায় আরও নতুন-নতুন তথ্য উঠে আসতে পারে ৷"

এ দিন ধৃত রাজু ঢালি এবং তুফান থাপাকে আদালতে পেশ করে পুলিশ 14 দিনের জন্য হেফাজতে চায় ৷ তবে, আদালত তাঁদের 12 দিনের পুলিশি হেফাজতের নির্দেশ দেন ৷ বিধাননগর কমিশনারেট সূত্রে খবর, এবার ধৃতদের জেরা শুরু করবেন তদন্তকারীরা ৷ স্বর্ণ ব্যবসায়ী খুনের ঘটনায় রাজগঞ্জের বিডিও প্রশান্ত বর্মনের ভূমিকা সম্পর্কে তথ্য পেতে সাহায্য করতে পারেন রাজু এবং তুফান ৷

তাই এই দু’জনকে জেরা করে বিডিও-র কলকাতায় যাতায়াত, যোগাযোগ এবং খুনে ভূমিকা সম্পর্কে গুরুত্বপূর্ণ তথ্য মিলতে পারে বলে মনে করছেন তদন্তকারীরা ৷ উল্লেখ্য, রাজুর কাছ থেকে তদন্তকারীরা মূলত জানতে চান, বিডিও প্রশান্ত বর্মন কলকাতায় এলে কোথায়-কোথায় যেতেন, কার সঙ্গে যোগাযোগ করতেন বা ওই সময় তাঁর সঙ্গে আর কারা থাকতেন ৷ যেহেতু রাজু দীর্ঘদিন বিডিও-র চালক হিসেবে কাজ করেছেন, ফলে তাঁর কাছ থেকে প্রশান্ত বর্মনে গতিবিধি সম্পর্কে বিস্তারিত তথ্য পাওয়ার আশা করছে পুলিশ ৷

অন্যদিকে, তুফান থাপা—যিনি রাজগঞ্জ ব্লকের একাধিক কাজের ঠিকাদার, তিনি বিডিও-র ঘনিষ্ঠ বলে জানা গিয়েছে ৷ তদন্তকারীদের দাবি, তিনি বিডিও-র কাছ থেকে বিশেষ সুবিধা পেতেন ৷ ঠিক কোন ধরনের সুবিধা বা আর্থিক লেনদেন হয়েছিল, তাও খতিয়ে দেখা হচ্ছে ৷ তদন্তকারী আধিকারিকদের বক্তব্য, ধৃত দু’জনকে নিজেদের হেফাজতে পেয়ে ম্যারাথন জেরা করা হবে ৷ বিশেষত, বিডিও প্রশান্ত বর্মন এই ঘটনায় কতটা যুক্ত, তা জানতে ধৃতদের মুখোমুখি বসিয়ে জেরা করার পরিকল্পনাও রয়েছে তদন্তকারীদের ৷

উল্লেখ্য, গত 28 অক্টোবর বিধাননগর দক্ষিণ থানা এলাকা থেকে এক ব্যক্তির দেহ উদ্ধার হয় ৷ পরে পুলিশ জানতে পারে নিহতের নাম স্বপন কামিলা ৷ তিনি ওড়িশার বালাসোরের বাসিন্দা ৷ নিউটাউনে তাঁর সোনার দোকান ছিল ৷ পরবর্তী সময়ে 31 অক্টোবর নিহত স্বর্ণ ব্যবসায়ীর শ্যালক পুলিশে লিখিত অভিযোগ দায়ের করেন ৷ সেখানে প্রশান্ত বর্মন নামে একজনের বিরুদ্ধে খুনের অভিযোগ করা হয় ৷ সেখানে বলা হয়, ওই ব্যক্তি নিজেকে বিডিও হিসেবে পরিচয় দিয়েছে ৷

এরপরেই নড়েচড়ে বসে বিধাননগর পুলিশ কমিশনারেট ৷ জানা যায়, রাজগঞ্জের বিডিও-র নাম প্রশান্ত বর্মন ৷ এমনকি ওই ব্যবসায়ীর সঙ্গে যিনি দেখা করতে এসেছিলেন, সেই ব্যক্তি নীল বাতি লাগানো গাড়িতে ছিলেন ৷ ওই ব্যক্তি দাবি করেছিলেন, তাঁর বাড়ি থেকে চুরি যাওয়া সোনার গয়না নিউটাউনে স্বপন কামিলার দোকানে বিক্রি করা হয়েছে ৷ সেই খবর পেয়ে ওড়িশা থেকে স্বর্ণ ব্যবসায়ী তাঁর পরিবারকে নিয়ে নিউটাউনে আসেন ৷

পরে 27 অক্টোবর তাঁর পরিবার ফিরে গেলেও, ওই ব্যবসায়ী ফেরেননি ৷ আর পরেরদিন তাঁর দেহ উদ্ধার হয় ৷ যদিও, রাজগঞ্জের বিডিও শুরু থেকেই মিথ্যে অভিযোগ বলে দাবি করে আসছিলেন ৷ এমনকি তাঁর বিরুদ্ধে তদন্তে অসহযোগিতার অভিযোগও ওঠে ৷ এবার সেই বিডিও-র কলকাতার গাড়ির চালক এবং ঘনিষ্ঠ ঠিকাদারকে স্বর্ণ ব্যবসায়ী খুনের মামলায় গ্রেফতার করল পুলিশ ৷

Last Updated : November 8, 2025 at 3:35 PM IST