জয়গাঁ সীমান্ত দিয়ে বন্যপ্রাণীর দেহাংশ পাচার ! কালচিনিতে গ্রেফতার 2
অসম থেকে আনা বন্যপ্রাণীর দেহাংশ জয়গাঁ সীমান্ত দিয়ে ভুটানে পাচারের চেষ্টা ৷ পাচার রুখল বনদফতর ও বন্যপ্রাণ অপরাধ দমন শাখা ৷

Published : May 30, 2026 at 4:27 PM IST
শিলিগুড়ি, 30 মে: উত্তরবঙ্গে এক যৌথ অভিযানে বড়সড় সাফল্য পেল বনদফতর ও বন্যপ্রাণ অপরাধ দমন শাখা ৷ গোপন সূত্রে খবর পেয়ে কার্শিয়ং বনবিভাগের অধীন সুকনা রেঞ্জ, দার্জিলিং ওয়াইল্ডলাইফ ডিভিশন, ওয়াইল্ড লাইফ ক্রাইম কন্ট্রোল ব্যুরো (WCCB) এবং জলদাপাড়া আরআরটি (RRT) রেঞ্জের যৌথ অভিযানে কালচিনি থানার 317 নম্বর জাতীয় সড়কের দক্ষিণ সাথালি এলাকা থেকে বিপুল পরিমাণ বন্যপ্রাণীর দেহাংশ উদ্ধার করা হয়েছে ৷ ঘটনায় দু’জন পাচারকারীকে গ্রেফতার করেছে বন বিভাগ ৷
জানা গিয়েছে, গোপন সূত্রে খবর পেয়ে জাতীয় সড়কে ফাঁদ পাতে বন বিভাগ ৷ এরপর অভিযানের সময় সন্দেহভাজন একটি বাইক আটক করে তল্লাশি চালানো হয় ৷ সেখান থেকে প্রায় 900 গ্রাম ওজনের হাতির দাঁত এবং একটি সম্বর হরিণের শিং উদ্ধার করা হয়েছে ৷ ঘটনায় জড়িত থাকার অভিযোগে বাবলু রাই এবং রতন রাই নামে দুই ব্যক্তিকে গ্রেফতার করা হয়েছে ৷ ধৃতদের বাড়ি আলিপুরদুয়ারের দক্ষিণ পাটকাপাড়া এলাকায় ৷ ধৃতদের আলিপুরদুয়ার আদালতে পেশ করা হলে, বিচারক তাঁদের জেল হেফাজতের নির্দেশ দিয়েছেন ৷

ধৃতদের জিজ্ঞাসাবাদ করে পাচার চক্রের মাথাদের খোঁজ চালাচ্ছে বনদফতর ৷ প্রাথমিক তদন্তে জানা গিয়েছে, পাচারকারীরা এই সামগ্রীগুলি অসম থেকে নিয়ে আসছিল এবং তা বিক্রির উদ্দেশ্যে জয়গাঁ এলাকা দিয়ে ভুটানে পাচার করার জন্য নিয়ে যাওয়া হচ্ছিল ৷ এই বিষয়ে বন দফতরের এক আধিকারিক বলেন, "অসম থেকে ওই বন্যপ্রাণ সামগ্রী জয়গাঁ সীমান্ত দিয়ে ভুটানে পাচার করার ছক ছিল ৷ যেহেতু ভুটান ওপেন বর্ডার তাই তারা এই পরিকল্পনা করেছিল ৷ ঘটনায় আর কারা জড়িত রয়েছে, তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে ৷"
উত্তরবঙ্গের এই অঞ্চল, বিশেষত শিলিগুড়ি করিডর বা 'চিকেনস নেক' বন্যপ্রাণী পাচারের ক্ষেত্রে অত্যন্ত স্পর্শকাতর রুট হিসেবে চিহ্নিত হচ্ছে ৷ বিশেষজ্ঞরা জানাচ্ছেন, ভৌগোলিক অবস্থানের কারণেই শিলিগুড়ি করিডর নেপাল, ভুটান ও বাংলাদেশের সঙ্গে সরাসরি সংযোগ স্থাপন করে ৷ অসম ও উত্তর-পূর্ব ভারতের ঘন জঙ্গল থেকে সংগ্রহ করা বন্যপ্রাণীর দেহাংশ বা জীবন্ত প্রাণী এই করিডর ব্যবহার করেই আন্তর্জাতিক বাজারে পাচার করা হচ্ছে ৷

বন দফতরের তথ্য অনুযায়ী, উত্তরবঙ্গের ন্যাশনাল হাইওয়ে 31 ও 27-এর দীর্ঘ পথ পাচারকারীরা নিয়মিত ব্যবহার করে ৷ 31 নম্বর জাতীয় সড়ক ব্যবহার করে অসম থেকে আসা সামগ্রী শিলিগুড়ি হয়ে নেপাল বা ভুটানের রুটে চিন ও দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার দেশগুলিতে পাঠানোর ছক কষা হয় ৷ বিগত কয়েক বছরে এই রুট থেকে বাঘের ছাল, প্যাঙ্গোলিন, এমনকী ক্যাঙ্গারুর মতো বিদেশি প্রাণীও উদ্ধার হয়েছে ৷ সীমান্তে কড়া নজরদারি সত্ত্বেও, কৌশল বদলে পাচারকারীরা মাঝেমধ্যেই এমন সক্রিয় হয়ে উঠছে, যা পরিবেশ ও বন্যপ্রাণ সুরক্ষার ক্ষেত্রে বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে ৷

