লিভার দানের পর শরীরে জটিল সমস্যা, কলকাতায় আধুনিক সার্জারিতে সুস্থ ত্রিপুরাবাসী
এই আধুনিক অস্ত্রোপচার করতে একটুও রক্তক্ষরণ হয় না । অস্ত্রোপচারের কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই রোগী হাঁটতে শুরু করেন ৷

Published : January 6, 2026 at 7:44 PM IST
কলকাতা, 6 জানুয়ারি: লিভারের সমস্যা থেকে এক ত্রিপুরাবাসীকে অত্যাধুনিক চিকিৎসায় সুস্থ করে তুলল কলকাতার বেসরকারি হাসপাতাল । আগরতলার 45 বছর বয়সি স্কুল শিক্ষিকা নুপুর সরকারের দীর্ঘদিনের সমস্যার মিলল সমাধান । জটিল ও বড় ইনসিশনাল হার্নিয়ার সফল কী-হোল সার্জারির (keyhole surgery) পর তিনি আবার স্বাভাবিক জীবনে ফিরেছেন ।
হাসপাতাল সূত্রে জানা গিয়েছে, রোগী নুপুর সরকারের জীবনযুদ্ধ শুরু হয়েছিল কয়েক বছর আগেই । তিন বছর আগে তাঁর স্বামীর লিভার সিরোসিস ধরা পড়ে ৷ তখন চিকিৎসকরা লিভার ট্রান্সপ্ল্যান্ট ছাড়া আর কোনও উপায় দেখেননি । সেই সংকটের মুহূর্তে একমাত্র উপযুক্ত ডোনার হিসেবে নুপুর নিজের লিভারের একটি অংশ দান করেন স্বামীকে । চেন্নাইতে সেই অস্ত্রোপচারের মাধ্যমে তিনি স্বামীর জীবন রক্ষা করতে সক্ষম হন । বর্তমানে তাঁর স্বামী সম্পূর্ণ সুস্থ ।
কিন্তু নিজের শরীরের যত্ন নেওয়ার সুযোগ নুপুর তখন পাননি । সংসার ও স্কুলের কাজ সামলাতে গিয়ে আগের অস্ত্রোপচারের জায়গায় ধীরে ধীরে একটি বড় ইনসিশনাল হার্নিয়া তৈরি হয় । সময়ের সঙ্গে তা আরও জটিল হয়ে ওঠে । ব্যথা, অস্বস্তি এবং শারীরিক সমস্যার কারণে দৈনন্দিন কাজকর্ম ক্রমশ কঠিন হয়ে পড়ে । আবারও বড় ওপেন সার্জারির আশঙ্কা তাঁকে মানসিকভাবে বিপর্যস্ত করে তোলে ।
এই পরিস্থিতিতে তিনি কম কাটা-ছেঁড়ার আধুনিক চিকিৎসার খোঁজে কলকাতার বাইপাসের ধারের একটি বেসরকারি হাসপাতালে আসেন । বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকরা বিস্তারিত পরীক্ষা-নিরীক্ষার পর জানান, হার্নিয়াটি জটিল হলেও উন্নত ল্যাপারোস্কোপিক পদ্ধতিতে পেটের দেওয়াল পুনর্গঠন করা সম্ভব । অ্যাডভান্সড ল্যাপারোস্কোপিক, ব্যারিয়াট্রিক ও গ্যাস্ট্রোইনটেস্টিনাল সার্জারি বিভাগের চিকিৎসক সুমন্ত দে-র তত্ত্বাবধানে হয় চিকিৎসা ।
চিকিৎসক সুমন্ত দে বলেন, "ওঁর প্রধান লক্ষ্য ছিল কাটাছেঁড়া না করে এই হার্নিয়ার অস্ত্রোপচার । কিন্তু ওঁর হার্নিয়াটা এতটাই বড় হয়ে গিয়েছিল সেখানে অস্ত্রোপচার করা জরুরি ছিল । যখন সার্জারির প্রয়োজন হয় কিন্তু সার্জারি করা হয় না তখন আমরা অ্যাডভ্যান্স ল্যাপারোস্কোপি করি ৷ যেটা বলা হয় কী-হোল সার্জারি ।" চিকিৎসক আরও বলেন, "এতে বড় কোনও কাটাছেঁড়া না থাকায় শরীরের ওপর চাপ ও অস্ত্রোপচারজনিত যন্ত্রণা ছিল খুবই কম । এতে অ্যাবডোমিনাল ওয়াল রিকনস্ট্রাকশন সার্জারি করা হয় ।"
ডিসেম্বরের প্রথম দিকে প্রায় তিন ঘণ্টা ধরে সম্পূর্ণ কী-হোল পদ্ধতিতে ল্যাপারোস্কোপিক করা হয় । এই অস্ত্রোপচার করতে একটুও রক্তক্ষরণ হয় না । অস্ত্রোপচারের কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই তিনি হাঁটতে শুরু করেন । পরদিনই হাসপাতাল ছাড়ার অনুমতি পান । দুই সপ্তাহ পর ফলো-আপে দেখা যায়, তিনি সম্পূর্ণ সুস্থ এবং আবার নিজের কাজ ও স্বাভাবিক জীবনে ফিরে গিয়েছেন ।
নিজের অভিজ্ঞতা জানিয়ে নুপুর সরকার বলেন, "স্বামীর জীবন বাঁচাতে লিভার দান করার পর আবার আরেকটি বড় সার্জারির কথা ভেবেই আমি ভীষণ ভয় পেতাম । ল্যাপারোস্কোপিক সার্জারি হয়েছে জেনে আমার মনে হয়েছে যেন বুকের ওপর থেকে বড় একটা বোঝা নেমে গিয়েছে । একই দিনে হাঁটতে পেরেছি, পরদিন বাড়ি ফিরেছি । চিকিৎসক সুমন্ত দে এবং পুরো টিমের কাছে আমি চিরকৃতজ্ঞ ।"

