মনরেগায় বাংলার জন্য বরাদ্দ ‘শূন্য’! সংসদে কেন্দ্র ‘তথ্য’ দিতেই বঞ্চনার অভিযোগে সরব তৃণমূল
কেন্দ্রের দাবি, নিয়ম মানেনি বলেই বাংলাকে টাকা দেওয়া হয়নি৷ সুকান্ত মজুমদারের বক্তব্য, বাংলাকে টাকা না-দেওয়াই স্বাভাবিক৷

Published : December 10, 2025 at 5:38 PM IST
কলকাতা, 10 ডিসেম্বর: একশো দিনের কাজ নিয়ে পশ্চিমবঙ্গ সরকার ও কেন্দ্রীয় সরকারের টানাপোড়েন নতুন নয়৷ মঙ্গলবারই এই নিয়ে আরও একবার সরব হতে দেখা গিয়েছে মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে৷ ইতিমধ্য়ে লোকসভায় কেন্দ্রীয় সরকারের তরফে পেশ করা একটি পরিসংখ্যান মনরেগা নিয়ে রাজ্য ও কেন্দ্রের টানাপোড়েন নতুন মাত্রা পেল৷ যা নিয়ে ইতিমধ্য়েই শুরু হয়ে গিয়েছে রাজনৈতিক বাকযুদ্ধও৷
মঙ্গলবার লোকসভায় মহাত্মা গান্ধি ন্যাশনাল রুরাল এমপ্লয়মেন্ট গ্যারান্টি স্কিম বা মনরেগা নিয়ে একটি পরিসংখ্যান পেশ করেছে কেন্দ্রীয় গ্রামোন্নয়ন মন্ত্রক৷ সেখানে 2024-25 অর্থবর্ষে কোন রাজ্যকে এই প্রকল্প বাবদ কত অর্থ বরাদ্দ করা হয়েছে, তার তথ্য রয়েছে৷ সেই তথ্য অনুযায়ী, পশ্চিমবঙ্গকে এই প্রকল্পে কোনও অর্থ বরাদ্দ করা হয়নি৷ কেন্দ্রের দাবি, পশ্চিমবঙ্গ সরকার নিয়ম মানেনি বলেই বরাদ্দ করা হয়নি অর্থ৷
তাৎপর্যপূর্ণভাবে কেন্দ্রের তরফে যে পরিসংখ্যান লোকসভায় পেশ করা হয়েছে, তা আসলে কেন্দ্রের কাছে জানতে চাওয়া হয়েছিল৷ জানতে চেয়েছিলেন ডায়মন্ড হারবারের সাংসদ তথা লোকসভায় তৃণমূল কংগ্রেসের দলনেতা অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়৷ তাঁর প্রশ্নের উত্তরেই এই পরিসংখ্যান পেশ করেছে কেন্দ্রীয় গ্রামোন্নয়নমন্ত্রক৷ ফলে এই নিয়ে হইচই শুরু করেছে তৃণমূল কংগ্রেস৷
তৃণমূলের এক প্রবীণ সাংসদ তথা বর্ষীয়ান নেতা ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, “সংসদে দাঁড়িয়ে কেন্দ্র যা কবুল করল, তা নজিরবিহীন। এটা আসলে বাংলার বিরুদ্ধে অঘোষিত অর্থনৈতিক অবরোধ। ওরা মুখে দুর্নীতির কথা বলে, কিন্তু আসল উদ্দেশ্য হল বাংলার মানুষকে ভাতে মারা। সুপ্রিম কোর্ট নির্দেশ দেওয়ার পরেও ওরা গায়ের জোরে টাকা আটকে রেখেছে। কেন্দ্রের এই লিখিত স্বীকারোক্তি আমরা মানুষের আদালতে পেশ করব। মানুষই এর বিচার করবে।”
সংসদে এখন শীতকালীন অধিবেশন চলছে৷ সেই অধিবেশনের মাঝে লোকসভায় তৃণমূল কংগ্রেসের সাংসদ বাপি হালদার বলেন, ‘‘বাংলার মানুষের হকের দাবি, হকের অধিকার কেন্দ্রীয় সরকার দিচ্ছে না৷ অবিলম্বে অন্যান্য রাজ্যের মতো বাংলাতেও একশো দিনের প্রকল্প ও আবাস যোজনার টাকা দিতে হবে৷ জলজীবন মিশনের আড়াই হাজার কোটি টাকা বকেয়া পড়ে রয়েছে৷ নলকূপ তৈরি করা হলেও বাড়ি বাড়ি জল পৌঁছানো যায়নি৷ অবিলম্বে জল জীবন মিশনের টাকা রাজ্যকে দেওয়া হোক এবং বাড়ি বাড়ি জল পৌঁছানোর ব্যবস্থা করুক কেন্দ্রীয় সরকার৷ কেন্দ্রের কাছে বকেয়া থাকা 2 লক্ষ টাকা অবিলম্বে দিতে হবে৷’’
উল্লেখ্য, 2021 সালের বিধানসভা ভোটের পর একশো দিনের কাজে দুর্নীতির অভিযোগ তোলে বিজেপি৷ তৃণমূল কংগ্রেসই এই দুর্নীতির সঙ্গে জড়িত বলে অভিযোগ করে বিজেপি৷ এই নিয়ে সবচেয়ে বেশি সরব হতে দেখা গিয়েছে পশ্চিমবঙ্গ বিধানসভার বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারীকে৷ বিজেপির তরফে এই নিয়ে কেন্দ্রের কাছে অভিযোগ জানানো হয়৷ কেন্দ্রের তরফে দুর্নীতির অভিযোগ খতিয়ে দেখতে টিমও পাঠানো হয়৷
যদিও তৃণমূলের তরফে দাবি করা হয়েছে, রাজ্যের মানুষের সঙ্গে বঞ্চনা করছে কেন্দ্র৷ একুশের ভোটে জিততে না-পেরেই প্রতিশোধ নিচ্ছে বিজেপি৷ এই নিয়ে একাধিকবার সরব হয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়৷ সরব হয়েছেন অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়৷ এই নিয়ে অভিষেক কেন্দ্রের কাছে এই নিয়ে বিতর্কে বসার আহ্বান জানিয়েছিলেন৷ পশ্চিমবঙ্গকে 2021 সালের পর থেকে একশো দিনের কাজের প্রকল্পে কত টাকা দেওয়া হয়েছে, তা জানানোর জন্য শ্বেতপত্র প্রকাশেরও দাবি করেছিলেন অভিষেক৷
যদিও সুপ্রিম কোর্ট রাজ্যে একশো দিনের কাজ শুরু করতে নির্দেশ দিয়েছে কেন্দ্রকে৷ এর পর সম্প্রতি একশো দিনের কাজ সংক্রান্ত একটি নোটিশ এসেছে রাজ্যে৷ যে নোটিশের উল্লেখ মঙ্গলবার কোচবিহারের জনসভা থেকে করেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়৷ তিনি দাবি করেন, অযৌক্তিক শর্ত আরোপ করে একশো দিনের কাজ করাতে চাইছে কেন্দ্র৷ তিনি কেন্দ্রের এই নির্দেশ মানবেন না বলে মঞ্চেই নোটিশটি ছিঁড়ে ফেলে প্রতিবাদ জানান৷
তার পরই লোকসভায় পেশ করা কেন্দ্রের পরিসংখ্যান সামনে এল৷ যা নিয়ে বালুরঘাটের সাংসদ তথা কেন্দ্রীয় মন্ত্রী সুকান্ত মজুমদারের দাবি, “বাংলার বরাদ্দ শূন্য হওয়াটাই স্বাভাবিক। কারণ, রাজ্য সরকার এই প্রকল্পের টাকা চুরি করেছে। হিসেব না-দিলে কেন্দ্র কেন জনগণের করের টাকা পাঠাবে? আগে চুরির হিসেব দিক, তারপর টাকার কথা বলবে।”
যদিও কেন্দ্রের এই উত্তরকে হাতিয়ার করে বিধানসভা ভোটের আগে পথে নামার পরিকল্পনা করেছে তৃণমূল৷ তাই আসন্ন বিধানসভা নির্বাচনে তৃণমূল এবং বিজেপি, দুই দলের নেতা-নেত্রীদের মুখে যে এই নিয়ে প্রচার শোনা যাবে, তা বলাই বাহুল্য৷

