এবার গাছ সমীক্ষা হবে সুভাষ সরোবরেও, বসবে বৃক্ষের গায়ে কিউআর কোড
সুভাষ সরোবরের প্রায় 60 একর জায়গায় জুড়ে বিপুল পরিমাণ গাছ রয়েছে ৷ কিন্তু জানা নেই কোন গাছ কত বছর পুরনো ।

Published : January 7, 2026 at 5:33 PM IST
কলকাতা, 7 জানুয়ারি: রবীন্দ্র সরোবরের পর এবার গাছ সমীক্ষা হবে কলকাতার সুভাষ সরোবরেও ৷ সেখানে থাকা গাছগুলির গায়ে বসবে কিউআর কোড ৷
মূলত শহরের দক্ষিণের ফুসফুস বললে যেমন এক বাক্যে রবীন্দ্র সরোবরের নাম মাথায় আসে, তেমনই উত্তর-পূর্বের ফুসফুস বললে নাম আসে সুভাষ সরোবরের । এই সরোবরের অর্ধেকের বেশি এলাকা জুড়ে রয়েছে গাছ-গাছালি । তবে সেই বিরাট জায়গায় বছরের পর বছর মাথা তুলে আছে কত গাছ? কী প্রজাতির গাছ? কত বছর পুরনো গাছ সেগুলি? একটি উত্তরও জানা নেই সরোবরের রক্ষণাবেক্ষণের দায়িত্বে থাকা কলকাতা মেট্রোপলিটন ডেভলপমেন্ট অথরিটির । এবার সেই উত্তর খুঁজতেই হবে সুভাষ সরোবর জুড়ে গাছের সমীক্ষা ।

শুধু তাই নয়, গাছের খুঁটিনাটি জানতে লাগানো হবে কিউআর কোড । রাজ্যের সবুজ সঙ্কেত ও বরাদ্দ মিললেই চলতি বছরে হবে এই কর্মকাণ্ড বলেই খবর কলকাতা মেট্রোপলিটন ডেভলপমেন্ট অথরিটি (কেএমডিএ) সূত্রে ।
সুভাষ সরোবর কমবেশি 100 একর জায়গার নিয়ে তৈরি । যার 40 একর জায়গা জুড়ে আছে বিশাল জলাশয় । বাকি জায়গায় আছে গাছ-গাছালি, উদ্যান-সহ নানা পরিকাঠামো । প্রায় 60 একর জায়গায় বিপুল পরিমাণ গাছ থাকলেও জানা নেই কোন গাছ কত বছর পুরনো, গাছটি কী গাছ কিংবা সেই গাছ সরোবরে কত সংখ্যায় আছে । সেই সব খুঁটিনাটি তথ্য সংগ্রহ করতেই এবার উদ্যোগী হয়েছে কর্তৃপক্ষ ।
সদ্য সমাপ্ত বছরের শেষ দিকেই এই পরিকল্পনা প্রাথমিকভাবে নিয়েছে কেএমডিএ । কেএমডিএ সূত্রে খবর, রাজ্যের এই কাজটি করার জন্য পশ্চিমবঙ্গ জীববৈচিত্র্য পর্ষদের সঙ্গে আলোচনা করেছে কেএমডিএ । কৃষ্ণচূড়া , রাধা চূড়া, শিমুল, পলাশ, কাঠ বাদাম, অর্জুন, শিশু, শাল, মহা দেবদারু, দেবদারুর মতো গাছ আছে । কেএমডিএ সূত্রে খবর, রবীন্দ্র সরোবরে সমীক্ষায় আট হাজারের বেশি গাছ পাওয়া গিয়েছে । যদিও বেশ কিছু সংখ্যায় গাছ আমফানের মতো দুর্যোগে ভেঙে যায় ও উপড়ে পড়ে । যার সামান্য কিছু পুনঃপ্রতিস্থাপন করা গিয়েছিল । সেখানে সাত হাজারের বেশি গাছ 70-80 বছর পুরনো ছিল ।
কেএমডিএ'র এক আধিকারিক বলেন, "দু’টি সরোবর খুব গুরুত্বপূর্ণ শহরের পরিবেশের ক্ষেত্রে । সেগুলি পুঙ্খানুপুঙ্খ তথ্য থাকলে সেটা রক্ষণাবেক্ষণে কাজ অনেকটা সহজ হয় । সেই তথ্য আমরা সাধারণ নাগরিকদেরও জানাতে পারি । রবীন্দ্র সরোবরের যেমন একটা তথ্য মিলেছে, তেমন এই সুভাষ সরোবরের তথ্য প্রয়োজন । এই কাজ করতে রাজ্যের থেকে অর্থ বরাদ্দ করার জন্য আবেদন জানিয়ে ইতিমধ্যেই চিঠি দেওয়া হয়েছে । আশা করা হচ্ছে, এই বছরে এই কাজ শুরু হয়ে যাবে । সেই মতো আমরা বুঝতে পারব আরও কী ধরনের গাছ সরোবরে লাগানো প্রয়োজন ।"

