SSKM-এর পথে বিকল অ্যাম্বুল্যান্স, রাস্তাতেই প্রসব ! তৎপরতায় মা-সদ্যোজাতকে বাঁচালেন ট্রাফিক সার্জেন্ট
ডায়মন্ড হারবার রোডে মানবিকতা ও কর্তব্যনিষ্ঠার নজির কলকাতা পুলিশের ট্রাফিক সার্জেন্ট কৌশিক নস্করের ৷

Published : February 26, 2026 at 8:06 PM IST
কলকাতা, 26 ফেব্রুয়ারি: ব্যস্ত মহানগরীর এক গুরুত্বপূর্ণ মোড়ে দায়িত্ব পালনের মাঝেই মানবিকতার উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত স্থাপন করলেন কলকাতা পুলিশের এক ট্রাফিক সার্জেন্ট । তীব্র প্রসববেদনায় কাতর অন্তঃসত্ত্বাকে নিয়ে হাসপাতালে যাওয়ার সময় বিকল হয়ে যায় অ্যাম্বুল্যান্স ৷ উৎকণ্ঠায় দিশেহারা হয়ে যায় পরিবার ৷ ঠিক সেই সময়েই পুলিশের ওই সার্জেন্টের তৎপরতা ও উপস্থিত বুদ্ধির জোরে নিরাপদে ভূমিষ্ঠ হল সদ্যোজাত ৷
বুধবার সন্ধ্যায় ডায়মন্ড হারবার রোড ও বীরেন রায় রোড (পশ্চিম) ক্রসিংয়ে ঘটনাটি ঘটে । ওই সময়ে সেখানে ট্রাফিক ডিউটিতে ছিলেন সার্জেন্ট কৌশিক নস্কর । জানা গিয়েছে, সেই সময় দক্ষিণ 24 পরগনা থেকে এক অন্তঃসত্ত্বাকে এসএসকেএম হাসপাতালে নিয়ে আসছিল একটি অ্যাম্বুল্যান্স । হঠাৎই গুরুত্বপূর্ণ মোড়ে এসে সেটি বিকল হয়ে পড়ে ।

স্বাভাবিকভাবেই এই অবস্থায় মুহূর্তে উদ্বেগ ছড়িয়ে পড়ে মহিলার পরিবারের সদস্যদের মধ্যে । এরই মধ্যে আরও তীব্র হতে শুরু করে প্রসব যন্ত্রণা । পরিস্থিতির গুরুত্ব বুঝে ওই মহিলার সঙ্গে থাকা দু'জন মহিলা ছুটে যান ডিউটিরত সার্জেন্টের কাছে । দ্রুত অন্য একটি গাড়ির ব্যবস্থা করে দেওয়ার জন্য আর্জি জানান তাঁরা ।
ঘটনার গুরুত্ব বুঝে তৎক্ষণাৎ ব্যবস্থা নেন ওই পুলিশ আধিকারিক ৷ এতটুকুও সময় নষ্ট না-করে সার্জেন্ট কৌশিক নস্কর ওয়্যারলেসের মাধ্যমে গার্ড অফিসে খবর পাঠান । দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে যান ট্রাফিক বিভাগের শীর্ষ আধিকারিকরা । ব্যবস্থা করা হয় একটি পুলিশ ইমার্জেন্সি গাড়ির । সহকর্মী ট্রাফিক পুলিশ ও সিভিক ভলান্টিয়াররা মিলে অন্তঃসত্ত্বাকে নিরাপদে অন্য গাড়িতে নিয়ে যাওয়ার প্রস্তুতি শুরু করেন ।

কিন্তু ততক্ষণে পরিস্থিতি আরও জটিল হয়ে ওঠে । প্রবল প্রসব যন্ত্রণায় অ্যাম্বুল্যান্সের মধ্যেই সন্তানের জন্ম দেন ওই মহিলা । উদ্ভূত পরিস্থিতিতে চারপাশে নিরাপত্তা বলয় তৈরি করে শান্ত পরিবেশ নিশ্চিত করেন পুলিশকর্মীরা । প্রয়োজনীয় সহায়তায় মা ও সদ্যোজাতকে সুরক্ষিত রাখা হয় ।
প্রসূতি চন্দনা ঘোড়ুই (31) দক্ষিণ 24 পরগনার বাসিন্দা । তাঁর কঠিন পরিস্থিতিতে এভাবে পাশে দাঁড়ানোর জন্য পুলিশকে কৃতজ্ঞতা জানান তাঁর পরিবারের সদস্যরা ৷ তাঁরা বলেন, "পুলিশ আমাদের খুব সাহায্য করেছে । আমরা খুব খুশি ৷"

সন্তান জন্মের পর মা ও নবজাতককে দ্রুত পুলিশ ইমার্জেন্সি গাড়িতে করে পাঠানো হয় বিদ্যাসাগর স্টেট জেনারেল হাসপাতালে । হাসপাতাল সূত্রে পরে জানানো হয়েছে, মা ও শিশু দু’জনেই সুস্থ ও স্থিতিশীল রয়েছেন ।
এই ঘটনাকে ঘিরে এলাকায় চাঞ্চল্য ছড়িয়ে পড়ে । প্রত্যক্ষদর্শীদের কথায়, "পুলিশ না-থাকলে পরিস্থিতি ভয়াবহ হতে পারত ।" অনেকেই ট্রাফিক সার্জেন্ট ও তাঁর সহকর্মীদের মানবিক উদ্যোগের প্রশংসা করেছেন ।
এই বিষয়ে নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক কলকাতা পুলিশের ট্রাফিক বিভাগের এক আধিকারিক বলেন, "আমরা এই প্রকারের কাজ করেই থাকি । এটা নতুন কিছুই না ৷" আইনশৃঙ্খলা রক্ষার পাশাপাশি বিপদের মুহূর্তে সাধারণ মানুষের পাশে দাঁড়িয়ে জীবন রক্ষার দায়িত্বও তারা সমানভাবে পালন করে, এদিন সেই বার্তাই দিল কলকাতা পুলিশ ৷ মানবিকতা, উপস্থিত বুদ্ধি এবং কর্তব্যনিষ্ঠার এক অনন্য উদাহরণ হয়ে রইল এই দিনটি ।

