ETV Bharat / state

দোকানও মেলেনি, টাকাও গেল! তৃণমূলের পুরপ্রধানকে ঘেরাও, মুচলেকা দিয়ে রেহাই

অভিযোগ, 15 দিনের নোটিশে 1 লক্ষ টাকা করে দিতে বাধ্য করা হয়েছিল ৷ কিন্তু বছর পেরিয়ে গেলেও দোকান মেলেনি ৷

Habra
হাবরা পুরসভা (নিজস্ব চিত্র)
author img

By ETV Bharat Bangla Team

Published : May 28, 2026 at 4:40 PM IST

3 Min Read
Choose ETV Bharat

হাবরা, 28 মে: বস্ত্রহাটে দোকান পাইয়ে দেওয়ার আশ্বাসে ব্যবসায়ীদের কাছ থেকে নেওয়া হয়েছিল এক লক্ষ টাকা করে 'অনুদান' । কিন্তু দোকান তো দূরের কথা, বছরের পর বছর কেটে গেলেও ফেরেনি টাকাও । অবশেষে ক্ষোভ ফেটে পড়ল হাবরায় । টাকা ফেরতের দাবিতে পুরপ্রধান নারায়ণচন্দ্র সাহার বাড়িতে গিয়ে তাঁকে ঘেরাও করে বিক্ষোভ দেখালেন বঞ্চিত ব্যবসায়ীরা । প্রায় আড়াই ঘণ্টা ঘেরাও থাকার পর লিখিত মুচলেকা দিয়ে রেহাই পান তৃণমূলের পুরপ্রধান ।

বৃহস্পতিবারের এই ঘটনাকে ঘিরে উত্তর 24 পরগনার হাবরায় ব্যাপক চাঞ্চল্য ছড়ায় । পরিস্থিতি সামাল দিতে ঘটনাস্থলে পৌঁছয় বিশাল পুলিশ বাহিনী । মোতায়েন করা হয় কেন্দ্রীয় বাহিনীও ।

দোকানও মেলেনি, টাকাও গেল! তৃণমূলের পুরপ্রধানকে ঘেরাও, মুচলেকা দিয়ে রেহাই (ইটিভি ভারত)

পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা গিয়েছে, গত কয়েক বছর ধরে হাবরার জয়গাছি সুপার মার্কেট চত্বরে হাজারেরও বেশি বস্ত্র ব্যবসায়ী রাস্তার ধারে অস্থায়ী ভাবে ব্যবসা চালাতেন । তাঁদের জন্য রাজ্য সরকারের উদ্যোগে 2024 সালে তৈরি হয় ছ'তলা 'আধুনিক বস্ত্র বাজার' ভবন । উদ্দেশ্য ছিল রাস্তার ধারের ব্যবসায়ীদের স্থায়ী পাকা দোকান দেওয়া ।

কিন্তু দোকান বণ্টন ঘিরেই শুরু হয় বিতর্ক । নথিভুক্ত প্রায় আটশো ব্যবসায়ী বিনামূল্যে দোকান পেলেও বহু ব্যবসায়ীর নাম তালিকায় ছিল না । অভিযোগ, তাঁদের বিকল্প পথে দোকান দেওয়ার আশ্বাস দেয় পুরসভা । সেই আশ্বাসেই 74 জন ব্যবসায়ীর কাছ থেকে দু'দফায় এক লক্ষ টাকা করে নেওয়া হয় 'বস্ত্রহাট উন্নয়ন' এর নামে । মাত্র 15 দিনের নোটিশে 2025 সালে ওই টাকা দিতে হয়েছিল ব্যবসায়ীদের ।

Habra
চেয়ারম্যানের সামনে বিক্ষোভ (নিজস্ব চিত্র)

অভিযোগ, তারপর কেটে গিয়েছে দীর্ঘ সময় । কিন্তু না মিলেছে দোকান, না হয়েছে কোনও উন্নয়নমূলক কাজ । সরকার বদলের পর থেকেই টাকা ফেরতের দাবিতে সরব হন বঞ্চিত ব্যবসায়ীরা । বৃহস্পতিবার সেই ক্ষোভ গিয়ে পৌঁছয় পুরপ্রধানের বাড়ির দরজায় ।

পুরপ্রধানকে বাড়ির নীচের তলার বৈঠকখানায় বসিয়েই শুরু হয় বিক্ষোভ । ব্যবসায়ীদের দাবি, অবিলম্বে ফেরত দিতে হবে জমা নেওয়া টাকা । শেষ পর্যন্ত আগামী 14 দিনের মধ্যে টাকা ফেরতের লিখিত আশ্বাস দিয়ে মুচলেকা দেন পুরপ্রধান । তার পরেই ঘেরাও তুলে নেন ব্যবসায়ীরা ।

বঞ্চিত ব্যবসায়ীদের প্রতিনিধি তথা বিজেপির বারাসত যুব মোর্চার সম্পাদক অভি দাস বলেন, "বস্ত্রহাটের উন্নয়নের নাম করে গরিব ব্যবসায়ীদের কাছ থেকে লক্ষ লক্ষ টাকা নেওয়া হয়েছে । অথচ দোকানও মেলেনি, উন্নয়নও হয়নি । টাকা ফেরত না-পাওয়া পর্যন্ত আন্দোলন চলবে ।"

যদিও অভিযোগ অস্বীকার করেছেন পুরপ্রধান নারায়ণচন্দ্র সাহা। তাঁর দাবি, "ব্যক্তিগত ভাবে আমি কোনও টাকা নিইনি । পুরসভার বোর্ড মিটিংয়ে রেজুলেশন করেই ওই টাকা নেওয়া হয়েছিল । ব্যবসায়ীরা এখন টাকা ফেরত চাইছেন । ফের বোর্ড মিটিং করে আগামী 14 দিনের মধ্যে তাঁদের টাকা ফিরিয়ে দেওয়া হবে ।"

পুরপ্রধানের বাড়িতে এই বিক্ষোভকে কেন্দ্র করে সাময়িক উত্তেজনা ছড়ালেও শেষ পর্যন্ত পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আসে পুলিশের হস্তক্ষেপে । তবে রাজনৈতিক মহলের একাংশের মতে, বস্ত্রহাট নিয়ে ক্ষোভ এখনও থামেনি । টাকা ফেরতের প্রতিশ্রুতি বাস্তবে কত দ্রুত কার্যকর হয়, এখন সেদিকেই নজর ব্যবসায়ীদের ।