ETV Bharat / state

বিপর্যস্ত নেপালে যেতে চাইছেন না পর্যটকরা, ক্ষতির মুখে পর্যটন ব্যবসা

ভয়াবহ বিপর্যয়ে লন্ডভন্ড নেপাল ৷ বুকিং বাতিল শুরু ৷ পুজোর মুখে ব্যাপক উদ্বেগে রাজ্যের পর্যটন মহল ৷ শুভদীপ রায় নন্দী ও অভিজিৎ বোসের প্রতিবেদন ৷

Tourism Industry after Disasters
বিপর্যস্ত নেপালে যেতে চাইছেন না পর্যটকরা, ক্ষতির মুখে পর্যটন ব্যবসা (ইটিভি ভারত)
author img

By ETV Bharat Bangla Team

Published : August 27, 2026 at 8:43 PM IST

8 Min Read
Choose ETV Bharat

​শিলিগুড়ি/জলপাইগুড়ি, 27 অগস্ট: হিমালয়ের কোলে আকস্মিক প্রাকৃতিক দুর্যোগে লন্ডভন্ড নেপাল । মৃতের সংখ্যা কয়েক শতাধিক ৷ নিখোঁজের সংখ্যা এর চেয়ে কয়েকগুণ বেশি ৷ চলছে উদ্ধারকাজ ৷ নেপালের দিকে সাহায্য়ের হাত বাড়িয়ে দিয়েছে ভারত সরকারও ৷ এই পরিস্থিতিতে মাথায় হাত পর্যটন ব্যবসায়ীদের ৷ বুকিং ক্রমশ বাতিল করতে শুরু করেছেন পর্যটকরা ৷ ফলে পর্যটন ব্যবসা বড়সড় আর্থিক ক্ষতির মুখে ৷

যদিও পর্যটন ব্যবসায়ীদের কাছে এই পরিস্থিতি নতুন নয় ৷ এর আগেও প্রাকৃতিক বিপর্যয়ের জেরে ব্যবসায় ধাক্কা খাওয়ার অভিজ্ঞতা তাঁদের রয়েছে ৷ কখনও সিকিম, কখনও উত্তরবঙ্গের তরাই-ডুয়ার্সে প্রাকৃতিক বিপর্যয়ের ক্ষতি হয়েছে পর্যটনের পরিসরে ৷ তার পরও ঘুরে দাঁড়িয়েছে পর্যটন ব্যবসা ৷ তাই এবারও পরিস্থিতি দ্রুত স্বাভাবিক হবে বলেই তাঁদের আশা ৷

বিপর্যস্ত নেপালে যেতে চাইছেন না পর্যটকরা, ক্ষতির মুখে পর্যটন ব্যবসা (ইটিভি ভারত)

প্রাকৃতিক বিপর্যয়ে ধাক্কা পর্যটনে

নেপাল ট্যুরিজম বোর্ড থেকে পাওয়া তথ্য অনুযায়ী, প্রতি বছর 1500 মানুষ মানসরোবরে যান । প্রতি বছর জুন, জুলাই ও সেপ্টেম্বর পর্যন্ত মানসরোবর যাত্রা চলে ৷ পাশাপাশি, প্রতি বছর ভারত থেকে 5-6 লক্ষ পর্যটক নেপালে যান । নেপালের সরকারি ভাবে কাস্টমস রেকর্ড অবশ্য বলছে সংখ্যাটা 3-4 লক্ষ ৷ এই রাজ্য থেকে নেপালে যাওয়া পর্যটকরা বেশিরভাগই সড়ক পথে শিলিগুড়ি হয়ে নেপাল যান ।

নেপালের পর্যটন মরসুম বলতে অগস্ট মাসের 15 তারিখ থেকে শুরু করে 15 থেকে জানুয়ারি পর্যন্ত । এই সময় ভরা মরসুম ৷ তাছাড়া সারা বছরই পর্যটকরা প্রাকৃতিক শোভা নিতে যান ৷ প্রতি বছর অগস্টের শেষ থেকে সেপ্টম্বরে পশ্চিমবঙ্গ থেকে অন্তত 30 থেকে 35 হাজার পর্যটক এবং সারা দেশ থেকে পৌনে দুই লক্ষেরও বেশি পর্যটক নেপালে বেড়াতে যান । শিলিগুড়ি-সহ উত্তরবঙ্গের বিভিন্ন ট্যুর অপারেটররা নেপালে পর্যটক নিয়ে যান ।

Tourism Industry after Disasters
সিকিমের বন্যার ভয়াবহ পরিস্থিতি (ফাইল ছবি)

তাছাড়া বাঙালির সবথেকে বড় উৎসব দুর্গাপুজো নেপালের পর্যটনের মরশুমের সময়সীমার মধ্যেই পড়ছে । এই সময়ে বিশেষ করে উত্তরবঙ্গের শিলিগুড়ি, দার্জিলিং ও ডুয়ার্স সীমান্ত হয়ে নেপাল ভ্রমণের হিড়িক থাকে৷ কয়েক মাস আগে থেকেই বুকিং শুরু হয়ে যায় । এবারও তাই হয়েছিল ৷ এবারও বহু মানুষ নেপাল যাওয়ার জন্য বুকিং করেছিলেন ৷ কিন্তু মঙ্গলবারের ঘটনার পর নেপাল ভ্রমণ আদৌ কতটা নিরাপদ থাকবে, তা নিয়ে বড়সড় প্রশ্নচিহ্ন তৈরি হয়েছে ।

ফলে নেপালের প্রাকৃতিক বিপর্যয়ের ছায়া এখন তীব্রভাবে এসে পড়েছে পশ্চিমবঙ্গ তথা দেশের পর্যটন শিল্পে । ঘটনার পর থেকেই রাজ্য ও উত্তর-পূর্ব ভারতের ট্যুর অপারেটরদের কাছে একের পর এক ফোন আসছে বুকিং বাতিলের জন্য । যেসব পর্যটক পুজোর ছুটিতে কাঠমান্ডু, পোখরা, অন্নপূর্ণা সার্কিট বা লংতাং ট্র্যাকিংয়ের পরিকল্পনা করেছিলেন, তাঁরা নিরাপত্তার আতঙ্কে আগাম বুকিং বাতিল করতে শুরু করেছেন ।

​উত্তরবঙ্গের পর্যটন ব্যবসায়ী ও ট্যুর অপারেটররা তীব্র উদ্বেগ প্রকাশ করে জানিয়েছেন, নেপাল সীমান্ত সংলগ্ন সড়ক যোগাযোগ ভেঙে পড়া এবং ভোটেকোশী-ত্রিশূলী নদীর অববাহিকা ধ্বংস হওয়ায় আন্তর্জাতিক পর্যটনের বড় ক্ষতি হল । শিলিগুড়ির ট্যুর অপারেটরদের মতে, পুজো মরশুমে নেপাল ভ্রমণের সঙ্গে সঙ্গে উত্তরবঙ্গ ও সিকিমের পর্যটন অর্থনীতি ওতপ্রোতভাবে যুক্ত । ফলে বুকিং বাতিলে ব্যবসার ক্ষতির আশঙ্কায় রাতের ঘুম উড়েছে পর্যটন মহলের । কয়েকশো কোটি টাকা ক্ষতির আশঙ্কা করছে পর্যটন ব্যবসায়ীরা ।

Tourism Industry after Disasters
সিকিমের বন্যার ভয়াবহ পরিস্থিতি (ফাইল ছবি)

প্রাকৃতিক বিপর্যয়ে বারবার ক্ষতি

উত্তর-পূর্ব ভারতের আর্থিক মূল ভিত্তি পর্যটন । কোভিড অতিমারীর সময় থেকেই পর্যটন ব্যবসায়ীদের ক্ষতি হতে শুরু করে । তার পর গত কয়েক বছরে প্রাকৃতিক বিপর্যয়ের ফলে বারবার ক্ষতির মুখে পড়ছেন পর্যটন ব্যবসায়ীরা । গত কয়েক বছরে সিকিমে বিধ্বংসী বন্যার ফলে প্রচুর মানুষ মারা যায় ।

2023-এর অক্টোবরে সিকিম থেকে নেমে আসা তিস্তার নদীর বিধ্বংসী বন্যায় মারা গিয়েছেন প্রায় 50 জন মানুষ । তার মধ্যে সেনাবাহিনীর ক্যাম্পও ভেসে গিয়েছিল । জলপাইগুড়ি জেলায় তিস্তা নদীতে একের পর এক মৃতদেহ উদ্ধার হয় । প্রচুর পর্যটককে হেলিকপ্টারে করেও উদ্ধার করতে হয় । শুধু তাই নয়, হড়পা বানের ফলে জাতীয় উদ্যানের বন্যপ্রাণীদের নাভিশ্বাস ওঠে ।

Tourism Industry after Disasters
সিকিমের বন্যার ভয়াবহ পরিস্থিতি (ফাইল ছবি)

এছাড়াও 2025-এর অক্টোবরেও ভুটান থেকে নেমে আসা গাঠিয়া নদীর হড়পা বানে নাগরাকাটার বামনডাঙা চা-বাগানে ঘরবাড়ি তছনছ হয়ে যায় । শুধু তাই নয়, দার্জিলিং-কালিম্পং জেলাতেই ব্যাপক ক্ষতি হয় পর্যটন শিল্পে । হড়পা বানে 10 জনের প্রাণ যায় ৷ জলদাপাড়া জাতীয় উদ্যানের বিরাট ক্ষতি হয় । পর্যটকদের হাতির পিঠে করে উদ্ধার করতে হয় । 2022 সালেও মালবাজারের নদীতে দুর্গাপুজোর বিসর্জনের দিনে হড়পা বানের ফলে ন’জনের মৃত্যু হয় ।

তার পর অবশ্য ধীরে ধীরে ঘুরে দাঁড়াতে শুরু করেছিল উত্তরবঙ্গের পর্যটন ব্যবসা ৷ এবারও পুজোর মরশুমে লাভের আশা করছিলেন পর্যটন ব্যবসায়ীরা ৷ কিন্তু নেপালের ঘটনা তাঁদের সেই আশায় জল ঢেলে দিল ৷

Tourism Industry after Disasters
সিকিমের বন্যার ভয়াবহ পরিস্থিতি (ফাইল ছবি)

কী বলছেন পর্যটন ব্যবসায়ীরা ?

কনফেডারেশন অফ ইন্ডিয়ান ইন্ডাস্ট্রির পর্যটন বিভাগের চেয়ারম্যান সম্রাট সান্যাল বলেন, ‘‘নেপালের এই প্রাকৃতিক দুর্যোগ সত্যিই উদ্বেগের সৃষ্টি করেছে । তবে আমরা পরিস্থিতির উপর নজর রাখছি । বাংলার 21 জনের একটি পর্যটকের দল আটকে রয়েছে । তাঁদের উদ্ধারের জন্য যোগাযোগ করা হয়েছে । পুজোর পর্যটন মরশুমের আগে এই দুর্যোগ সত্যিই আমাদের জন্য বড় ধাক্কা ৷’’

হিমালয়ান হসপিটালিটি ট্রাভেল এন্ড ট্যুর ডেভেলপমেন্ট নেটওয়ার্কের সম্পাদক তন্ময় গোস্বামী বলেন, ‘‘এর আগে সিকিমে একইভাবে লোনাক হ্রদে বাঁধ ভেঙে বিপর্যয় হয়েছিল । এবার নেপালে একই ঘটনা ঘটেছে । তবে কাঠামাণ্ডু-সহ অন্যান্য জায়গায় চলাচল করা যাচ্ছে । মূলত, কৈলাস মানস সরোবরের যেসব জায়গায় পর্যটকরা যান, তাঁরা বিপদে পড়েছেন । আমরা ইতিমধ্যে প্রশাসন ও নেপাল সরকারের সঙ্গে যোগাযোগ করেছি। উদ্ধার কাজ শুরু হয়েছে ।’’

Tourism Industry after Disasters
সিকিমের বন্যার সময় উদ্ধার কাজ (ফাইল ছবি)

ইস্টার্ন হিমালয়ান ট্রাভেল অ্যান্ড ট্যুর অপারেটর অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি দেবাশিস মৈত্র বলেন, ‘‘আমরা সত্যিই গভীর উদ্বেগে । পুজোর আগে এই দুর্ঘটনা ঘটায় একটা আতঙ্কের সৃষ্টি হয়েছে ।’’

পর্যটন ব্যবসায়ী অলোক চক্রবর্তী বলেন, ‘‘আমাদের এবার নেপালের ট্যুরের জন্য ভালোই যোগাযোগ হচ্ছিল । কিন্তু নেপালে হড়পা বানের ফলে অনেকেই আতঙ্কিত । অনেকে যোগাযোগ করছেন৷ জানতে চাইছেন, কী হবে । আমরা আশ্বস্ত করলেও পর্যটকরা পাহাড় এড়াতে চাইছেন । সিকিমের এর আগে ভরা মরসুমে হড়পা বান হয়ে গেল । এবারও ঠিক মরসুমের আগেই বিধ্বংসী বন্যায় নেপালের বিরাট ক্ষতি হল ৷ ফলে আমরা যাঁরা পাহাড়কে কেন্দ্র করে পর্যটনের সঙ্গে জড়িত, তাঁদের বড় ধাক্কা । এমন চলতে থাকলে কী করব বুঝে উঠতে পারছি না ।’’

জলপাইগুড়ি ট্যুর অপারেটর ওয়েল ফেয়ার অ্যাসোসিয়েশনের চিফ অ্যাডভাইসার সব্যসাচী রায় বলেন, ‘‘আমাদের বারবার প্রাকৃতিক বিপর্যয়ের ফলে ক্ষতির সম্মুখীন হচ্ছি আমরা । ভূমিকম্পই হোক, হড়পা বানই হোক । সিকিম, নেপাল, ভুটান সব জায়গাতেই প্রাকৃতিক বিপর্যয়ের ফলে পর্যটন শিল্পে বিরাট আঘাত আসছে ৷ বিগত সাত বছর ধরে এই ঘটনা ঘটেই চলেছে । এমন চলতে থাকলে আমরা এই শিল্পকে বাঁচাতে পারব না ।’’

Tourism Industry after Disasters
সিকিমের বন্যার সময় উদ্ধার কাজ (ফাইল ছবি)

তিনি আরও বলেন, ‘‘আমাদেরকেও সচেতন হতে হবে আগামীতেও এমন ঘটনা ঘটতে পারে । আমাদের নেপাল, সিকিম, তরাই ডুয়ার্সের মূল ভিত্তি পর্যটন শিল্প । নেপালের প্রাকৃতিক বিপর্যয়ের ফলে পর্যটন ব্যবসায়ী সবাই ক্ষতির মুখে পড়ছে । পর্যটকরা কয়েক মাস আগে থেকে পরিকল্পনা করেন । অনেকেই আসতে ভয় পাচ্ছেন । নেপালের অনেক বুকিং ছিল । নেপাল ট্যুরের ক্ষেত্রে বুকিং যা ছিল, তার ফোন আসছে । আমরা সবাইকে ভয় কাটানোর চেষ্টা করছি । সাত বছর ধরে যেমন আমরা দুর্যোগকে কাটিয়ে উঠেছি, তেমনই এই দুর্যোগকেও কাটিয়ে উঠতে পারব ৷’’

পর্যটন ব্যবসায়ী দিলীপ পাল বলেন, ‘‘সেপ্টেম্বরে যাঁদের বুকিং আছে, তাঁরা আর আসতে চাইছেন না । তাঁরা ভাবছেন নেপাল ধ্বংসলীলার পথে । আমরা পর্যটকদের বুকিং জন্য হোটেল-গাড়ি, সব বুকিং করেছি । ফলে তাদের বুকিং বাতিল করতে চাইছে । আমাদের একটা আর্থিকভাব বিপাকে পড়েছি । অক্টোবর মাসেও বেশি আমাদের বুকিং আছে । বারবার প্রকৃতি আমাদের সমস্যায় ফেলেছে । সিকিমে, তরাই, ডুয়ার্সে প্রাকৃতিক বিপর্যয়ের ফলে আমরা বিপদে পড়ছে । ফলে অনেকেই মুখ ফেরাচ্ছে । পর্যটকদের আমরা বুঝিয়ে উঠতে পারছি না যে নেপালের সব জায়গায় সমস্যা নেই ৷’’

নেপাল ট্যুরিজম বোর্ডের অভয়বাণী

নেপাল ট্যুরিজম বোর্ডের সদস্য ভূপেল রাজ শ্রেষ্ঠা বলেন, ‘‘নেপালে হড়পা বানের ফলে তিব্বত নেপাল সীমান্ত এলাকায় বিরাট ক্ষতি হয়েছে । বিশেষ করে বর্ডার সাইটে মানস সরোবর যাওয়ার রাস্তা বড় ক্ষতি হয়েছে । ভোটেকোশী নদীর দিক দিয়ে রচাবাড়ি হয়ে মানস যাওয়ার রাস্তা 43 কিলোমিটার ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে ৷ নেপালে সীমান্তবর্তী এলাকায় মানস সরোবরে ট্রেকিংয়ে যাওয়া যাবে না ৷’’

তিনি আরও বলেন, ‘‘এই এলাকায় বিদেশ থেকে প্রচুর পর্যটক অন্নপূর্ণা বেস ক্যাম্পে যেতে চান, তাহলে সেখানে যাবার সমস্যা আছে । চিন-নেপাল সীমান্তের টিমুরে রসুয়াগড়ির অবস্থা খুব খারাপ৷ যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে আছে । মানস সরোবর এলাকায় 150 মানুষের সঙ্গে আমরা যোগাযোগ করতে পারছি না । ভারত থেকে মানস সরোবর কৈলাসে 500 জন পর্যটক গিয়েছিলেন ।’’

তবে তিনি পর্যটকদের আশ্বস্ত করে জানিয়েছেন যে নেপালে সারা বছর যেখানে দেশের সবচেয়ে বেশি পর্যটক এসে থাকেন, সেই কাঠমাণ্ডু, পোখরা, জনকপুর, চিতোনে কোনও সমস্যা নেই । আসার পথে কোনও সমস্যা নেই ।

আরও পড়ুন -

  1. ভয়াবহ হড়পা বানে নেপালে মৃত বেড়ে 332, উদ্ধার 100 ভারতীয়
  2. নেপালের হড়পা বানে নিখোঁজ শতাধিক ভারতীয়, আটকে বহু বাঙালি ! উদ্ধারে তৎপর কেন্দ্র-রাজ্য
  3. নেপালে ভয়াবহ হড়পা বানে মৃত বহু, ভেসে গেল ঘর-বাড়ি-সেতু; দেখুন ভিডিয়ো