ETV Bharat / state

100 দিনের বকেয়া আদায়ে ফের ‘দিল্লি চলো’, সংসদে অধিবেশন চলাকালীন আন্দোলনের ডাক অভিষেকের

সংসদের অধিবেশন চলাকালীন তৃণমূলের দুই প্রতিনিধি দল কেন্দ্রীয় মন্ত্রকে যাবে—একটি পঞ্চায়েত ও গ্রামোন্নয়ন মন্ত্রকে, অন্যটি জল জীবন মিশন মন্ত্রকে।

WB MGNREGA Dues
অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় (ইটিভি ভারত)
author img

By ETV Bharat Bangla Team

Published : November 24, 2025 at 8:26 PM IST

3 Min Read
Choose ETV Bharat

কলকাতা, 24 নভেম্বর: একশো দিনে কাজে রাজ্যের বকেয়া টাকা আদায়ে ফের একবার দিল্লির রাজপথে নামতে চলেছে তৃণমূল। সোমবার দলের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় স্পষ্ট করে দিয়েছেন, কেন্দ্রের বিরুদ্ধে এবার আর কেবল চিঠি চালাচালি নয়, বরং সরাসরি রাজধানীতে গিয়েই দাবি ছিনিয়ে আনার লড়াই হবে ৷ সাংসদ ও নেতৃত্বের সঙ্গে এক ভার্চুয়াল বৈঠকে অভিষেক ঘোষণা করেন, সংসদের শীতকালীন অধিবেশন চলাকালীন দিল্লিতে বৃহত্তর বিক্ষোভ কর্মসূচির আয়োজন করা হবে ৷

2021 সালের বিধানসভা নির্বাচনের পর থেকেই কেন্দ্র ও রাজ্যের মধ্যে 100 দিনের কাজ (MNREGA), আবাস যোজনা এবং গ্রামোন্নয়ন প্রকল্পের বকেয়া টাকা নিয়ে সংঘাত চলছে । তৃণমূলের অভিযোগ, রাজনৈতিক প্রতিহিংসা থেকেই নরেন্দ্র মোদি সরকার বাংলার প্রাপ্য টাকা আটকে রেখেছে। অতীতেও এই ইস্যুতে দিল্লিতে গিয়ে কৃষিভবন ও যন্তরমন্তরে ধর্না দিয়েছিলেন অভিষেক। এবার সেই আন্দোলনের ঝাঁঝ আরও বাড়াতে চাইছে ঘাসফুল শিবির।

সোমবারের বৈঠকে অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় স্পষ্ট নির্দেশ দিয়েছেন, এবার আন্দোলনকে মন্ত্রকের দোরগোড়ায় নিয়ে যেতে হবে। পরিকল্পনা অনুযায়ী, তৃণমূলের দু'টি প্রতিনিধি দল কেন্দ্রীয় সরকারের দু'টি গুরুত্বপূর্ণ মন্ত্রকে যাবে। একটি দল যাবে পঞ্চায়েত ও গ্রামোন্নয়ন মন্ত্রকে এবং অন্যটি যাবে জলজীবন মিশন বা জল শক্তি মন্ত্রকে ৷

অভিষেক চ্যালেঞ্জ ছুঁড়ে দিয়ে বলেন, “আগামিদিনে আমরা দিল্লিতে এক বিশাল আন্দোলন করব। সংসদের অধিবেশন চলাকালীন তৃণমূলের পক্ষ থেকে দু'টি প্রতিনিধি দল কেন্দ্রীয় মন্ত্রকে যাবে—একটি পঞ্চায়েত ও গ্রামোন্নয়ন মন্ত্রকে যাবে ৷ অন্যটি যাবে জল জীবন মিশন মন্ত্রকে । দেখে নিতে চাই, কীভাবে বিজেপি বা দিল্লি পুলিশ সাধারণ মানুষের অধিকার আদায়ের লড়াই থামাতে পারে।”

তৃণমূলের সেকেন্ড-ইন-কমান্ডের অভিযোগ, সুপ্রিম কোর্টের নির্দেশ থাকা সত্ত্বেও কেন্দ্র ইচ্ছাকৃতভাবে গরিব মানুষের টাকা আটকে রেখেছে। তাঁর কথায়, “বিজেপি শাসিত সরকার বাংলার মানুষের সঙ্গে বৈষম্য করছে । বিশেষ করে একশো দিনের কাজের টাকা আটকে রেখে তারা গরিব মানুষের জন্য চরম সমস্যা সৃষ্টি করছে ।” যদিও কেন্দ্রীয় সরকারের তরফে বারবার দাবি করা হয়েছে, প্রকল্পে দুর্নীতির অভিযোগ এবং হিসেব না-দেওয়ার কারণেই তহবিল আটকে রাখা হয়েছে । তবে তৃণমূল এই যুক্তি মানতে নারাজ । তাদের দাবি, রাজ্যের শ্রমিকদের ভাতে মারার চক্রান্ত করছে কেন্দ্র ৷

দলীয় সূত্রে খবর, এই ‘দিল্লি চলো’ অভিযানের জন্য ইতিমধ্যেই জেলাস্তরে প্রস্তুতি শুরু হয়ে গিয়েছে । বিধায়ক ও সাংসদদের বিশেষ দায়িত্ব দেওয়া হচ্ছে, যাতে এই আন্দোলনে সাধারণ মানুষের অংশগ্রহণ ও সমর্থন নিশ্চিত করা যায়।

রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, সামনেই বিধানসভা নির্বাচন। তার আগে বকেয়া ইস্যুকে সামনে রেখে দিল্লিতে এই শক্তি প্রদর্শন আসলে তৃণমূলের এক বড় রাজনৈতিক কৌশল। একদিকে কেন্দ্রের উপর চাপ সৃষ্টি করা এবং অন্যদিকে রাজ্যের মানুষের কাছে বার্তা দেওয়া যে, তাদের অধিকারের জন্য লড়াই করছে একমাত্র তৃণমূলই—এই জোড়া লক্ষ্যেই এগোচ্ছেন অভিষেক। এখন দেখার, সংসদের অধিবেশন চলাকালীন তৃণমূলের এই কর্মসূচি দিল্লির রাজনীতিতে কতটা উত্তাপ ছড়াতে পারে।