বিধানসভা ভোটের ফলকে চ্যালেঞ্জ করে সুপ্রিম কোর্টে যাচ্ছেন, বিধায়কদের বৈঠকে জানালেন মমতা
তিনি কোনওভাবেই যে মুখ্যমন্ত্রীর পদ থেকে ইস্তফা দিচ্ছেন না, সে কথা আবারও দলীয় নেতৃত্বকে সাফ জানিয়ে দিয়েছেন মমতা।

Published : May 7, 2026 at 3:13 AM IST
কলকাতা, 7 মে: সদ্য সমাপ্ত বিধানসভা নির্বাচনে ব্যাপক কারচুপির অভিযোগ তুলে এবার দেশের শীর্ষ আদালতের দ্বারস্থ হতে চলেছে তৃণমূল কংগ্রেস। বুধবার কালীঘাটে দলের নবনির্বাচিত বিধায়কদের সঙ্গে বৈঠকে বসেন তৃণমূল সুপ্রিমো মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। সেখানে তিনি স্পষ্ট জানিয়ে দেন, বিজেপির এই 'ভোট চুরির' বিরুদ্ধে আইনি পথে হাঁটবে দল । আর সেই কারণেই বিধানসভা ভোটের ফলকে চ্যালেঞ্জ করে সুপ্রিম কোর্টে যাচ্ছেন তাঁরা। পাশাপাশি, তিনি কোনওভাবেই যে মুখ্যমন্ত্রীর পদ থেকে ইস্তফা দিচ্ছেন না, সে কথা আবারও দলীয় নেতৃত্বকে সাফ জানিয়ে দিয়েছেন মমতা।
নির্বাচন প্রক্রিয়ায় জালিয়াতি হয়েছে, এই অভিযোগ তুলে প্রথম থেকেই সরব ঘাসফুল শিবির। আইনি লড়াইয়ের জন্য এবার জোরদার প্রস্তুতি নিচ্ছে তৃণমূল। শুধু সুপ্রিম কোর্ট নয়, প্রয়োজনে আন্তর্জাতিক আদালতেও যেতে পারে দল। সবচেয়ে তাৎপর্যপূর্ণ বিষয় হল, এই আইনি লড়াইয়ের জন্য ফের একবার কালো কোট গায়ে চাপিয়ে আদালতে প্র্যাকটিস শুরু করতে চলেছেন স্বয়ং মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। তাঁর পাশাপাশি আইনি লড়াইয়ে আদালতে সওয়াল করবেন চন্দ্রিমা ভট্টাচার্য-সহ দলের অন্যান্য আইনজীবী নেতা- নেত্রীরাও।
এদিনের বৈঠকে দলনেত্রী স্পষ্ট ভাষায় জানিয়েছেন, মুখ্যমন্ত্রীর পদ থেকে তাঁর ইস্তফা না দেওয়ার এই সিদ্ধান্তটি আসলে এক বৃহত্তর 'প্রতিবাদ'। জানা যাচ্ছে, বৈঠকে তিনি বলেছেন, জোর করে দখল করে কেউ যদি ভাবে তাঁকে দিয়ে পদত্যাগ করাবে, সেটা হবে না। দলের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ও নেত্রীর এই সিদ্ধান্তকে পূর্ণ সমর্থন জানিয়ে বৈঠকে বলেন, "যে নির্বাচনে বলপূর্বক জনাদেশ চুরি করা হয়েছে, তার বিরুদ্ধে পদত্যাগ না করাটা প্রতিবাদের ভাষা।" মমতা আরও স্পষ্ট করেছেন, এই অবস্থায় তাঁর সরকারের বিরুদ্ধে রাজ্যপাল বা কেন্দ্র যদি রাষ্ট্রপতি শাসন জারি করে, তবে করুক। গণতন্ত্র হত্যার এই নজির ইতিহাসের পাতায় রেকর্ড হয়ে থেকে যাক।
সূত্রের খবর, বুধবারের এই হাই-ভোল্টেজ বৈঠকে তৃণমূলের 69 জন নবনির্বাচিত বিধায়ক উপস্থিত ছিলেন। তাৎপর্যপূর্ণভাবে এগারো জন বিজয়ী বিধায়ক এদিনের বৈঠকে অনুপস্থিত ছিলেন। বৈঠকে উপস্থিত ছিলেন তৃণমূলের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়, রাজ্য সভাপতি সুব্রত বক্সি-সহ অন্য শীর্ষ নেতারা। নির্বাচনে পরাজিত হওয়া সত্ত্বেও চন্দ্রিমা ভট্টাচার্য এবং ইন্দ্রনীল সেনের মতো নেতারাও এদিনের বৈঠকে উপস্থিত ছিলেন। এই কঠিন রাজনৈতিক লড়াইয়ে দলের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদকের পরিশ্রমের বিশেষ প্রশংসাও করেন মমতা। তিনি বলেন, "অভিষেক অনেক হার্ড ওয়ার্ক করেছে।"
বিধায়কদের উদ্দেশ্যে এদিন একগুচ্ছ কড়া নির্দেশিকা দিয়েছেন তৃণমূল সুপ্রিমো। তিনি জানিয়েছেন, সমস্ত জয়ী বিধায়কদের এখন নিজেদের এলাকাতেই থাকতে হবে। যে কোনও ধরনের রাজনৈতিক হিংসার কড়া মোকাবিলা করতে হবে। পাশাপাশি, রাজ্যে নতুন সরকারের শপথগ্রহণের দিনটিকে অভিনব কায়দায় প্রতিবাদ দিবস হিসেবে পালন করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে তৃণমূল। দলের নির্দেশ, শপথের দিন রাজ্যের প্রতিটি তৃণমূল পার্টি অফিসে একটানা রবীন্দ্রসঙ্গীত বাজানো হবে।
রাজ্যে ক্ষমতা দখলের এই টানাপোড়েনের মধ্যেও জাতীয় রাজনীতির মূল লক্ষ্য থেকে যে তৃণমূল সরছে না, তা এদিন স্পষ্ট করে দিয়েছেন মমতা। তিনি দলীয় নেতৃত্বকে কড়া বার্তা দিয়ে বলেন, "আমাদের এখানে হারানো হলেও দিল্লিই আমাদের প্রথম টার্গেট। গোটা ইন্ডিয়া (INDIA) শিবির আমরা একসঙ্গে লড়াই করব।" এর আগে গতকাল, মঙ্গলবার কালীঘাট থেকে সাংবাদিক বৈঠক করেও ক্ষোভ উগরে দিয়েছিলেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। সেদিন তিনি বলেছিলেন, "আমি রাজভবন কেন যাব? আমরা তো হারিনি। ইস্তফার প্রশ্ন আসছে কোথা থেকে?" নির্বাচন কমিশনের বিরুদ্ধে ক্ষোভ প্রকাশ করে তিনি জানিয়েছিলেন, সমস্ত তথ্যপ্রমাণ তিনি জোগাড় করে রেখেছেন। সব মিলিয়ে নির্বাচনের ফল অস্বীকার করে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের এই অনড় অবস্থান এবং সুপ্রিম কোর্টে যাওয়ার আইনি সিদ্ধান্ত আগামিদিনে রাজ্য রাজনীতিতে কোন নতুন মোড় নিয়ে আসে, সেদিকেই তাকিয়ে ওয়াকিবহাল মহল।

