ETV Bharat / state

তৃণমূল পঞ্চায়েত প্রধানের বিরুদ্ধে গাছ চুরির অভিযোগ

পঞ্চায়েত সদস্যরা জানাচ্ছেন, বিডিওকে জানালেও এখনও কোনও ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি ৷ অভিযোগ অবশ্য অস্বীকার করেছেন প্রধান ৷

TREES STEALING NADIA
পঞ্চায়েত প্রধানের বিরুদ্ধে গাছ চুরির অভিযোগ (ইটিভি ভারত)
author img

By ETV Bharat Bangla Team

Published : January 3, 2026 at 2:27 PM IST

3 Min Read
Choose ETV Bharat

কৃষ্ণগঞ্জ, 3 জানুয়ারি: তৃণমূলের পঞ্চায়েত প্রধানের বিরুদ্ধেই উঠল গাছ চুরি করে বেঁচে দেওয়ার অভিযোগ ৷ সরকারি দেওয়ালে লিপিবদ্ধ করা রয়েছে 'গাছ লাগান, প্রাণ বাঁচান'। আর তার অদূরেই চলছে নির্বিচারে বৃক্ষচ্ছেদন। তৃণমূল পরিচালিত কৃষ্ণগঞ্জ গ্রাম পঞ্চায়েতের প্রধানের বিরুদ্ধে উঠেছে এই গাছ কেটে বিক্রি করে দেওয়ার মতো গুরুতর অভিযোগ।

ঘটনা ঘটেছে নদিয়ার কৃষ্ণগঞ্জের সরকারি জৈব কৃষি খামার ব্যবস্থাপনায় খোদ কৃষি দফতরের জমিতে ৷ কৃষ্ণগঞ্জ গ্রাম পঞ্চায়েতের সদস্যদের অভিযোগ তাদের না-জানিয়ে প্রধান জৈব সার প্রজেক্ট-এর ভিতরের গাছগুলিকে অবৈধভাবে কেটে বিক্রি করে দিয়েছে ৷ এ ব্যাপারে জেনারেল মিটিংয়ে কোনওরকম আলোচনা হয়নি বা রেজলিউশন পাশ হয়নি বলেও অভিযোগ। কদমগাছ-সহ একাধিক শিশু গাছ বিক্রি করার অভিযোগ তৃণমূল পরিচালিত গ্রাম পঞ্চায়েতের প্রধানের বিরুদ্ধে উঠেছে।

পঞ্চায়েত প্রধানের বিরুদ্ধে গাছ চুরির অভিযোগ (ইটিভি ভারত)

কৃষ্ণগঞ্জ গ্রাম পঞ্চায়েতের সদস্য পরিতোষ বিশ্বাস প্রশ্ন তুলেছেন, "কীভাবে একের পর এক গাছ কোনওরকম আলোচনা ছাড়া বনদফতরের অনুমতি ছাড়া বিক্রি করা হল ?" একই সঙ্গে ঘটনার তদন্ত করার জন্য কৃষ্ণগঞ্জের বিডিওকে জানানো হয়েছে বলেও জানিয়েছেন ওই পঞ্চায়েত সদস্য। এ ব্যাপারে কৃষ্ণগঞ্জ গ্রাম পঞ্চায়েতের প্রধান মদন ঘোষের অবশ্য দাবি, রেজলিউশন করে বিডিও এবং ফরেষ্ট ডিপার্টমেন্টের অনুমতি ক্রমেই তিনি গাছ কেটেছেন। পঞ্চায়েতের সদস্যরা অভিযোগ সম্পর্কে তাঁর বক্তব্য, এটা তাঁর বিরুদ্ধে বিজেপির চক্রান্ত।

যদিও পঞ্চায়েত সদস্যরা জানাচ্ছেন, বিডিওকে জানালেও এখনও কোনও ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি ৷ পরিতোষ বিশ্বাসের কথায়, "যেখানে সরকার থেকে গাছ কাটার পর গাছ লাগানোর প্রতিশ্রুতি দেয়, সেখানে বিনা বিচারে পঞ্চায়েত প্রধান গাছগুলো কেটে আত্মসাৎ করেছে ৷ আমরা এর সঠিক তদন্ত চাই।" এ ব্যাপারে কৃষ্ণগঞ্জ গ্রাম পঞ্চায়েতের সদস্যা ছন্দা মালি জানান, জেনারেল মিটিংয়ে কোনওরকম আলোচনা হয়নি গাছ কাটার ব্যাপারে ৷ কোনও অনুমতিও নেওয়া হয়নি বলে দাবি তাঁর। তাঁর কথায়, "পঞ্চায়েতের প্রধান কীভাবে গাছ বিক্রি করল, আমরা এর সঠিক তদন্ত চাই ৷ দোষীর বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার জন্য বিডিওকে অনুরোধ করব।"

কৃষ্ণগঞ্জ পঞ্চায়েত সমিতির বিরোধী দলনেতা গৌতম ঘোষ বলেন, "ঘটনাস্থলে এসে দেখি অনেকগুলি মোটা গাছ কেটে হাপিস করা হয়েছে ৷ আমরা এর তদন্ত চাই।" যদিও এ বিষয়ে কৃষ্ণগঞ্জের তৃণমূল নেতা সন্দীপ বোস দায় এড়িয়ে গিয়েছেন ৷ তিনি বলেন, "তৃণমূল দলের সঙ্গে এই ঘটনার কোনও সম্পর্ক নেই ৷ যদি প্রধান গাছ বিক্রি করে থাকেন সে দায়িত্ব তাঁর। প্রশাসন তদন্ত করে দেখুক। তদন্তে দোষী প্রমাণিত হলে প্রধানের বিরুদ্ধে প্রশাসন আইনত ব্যবস্থা নেবে। তৃণমূল অন্যায়ের পাশে দাঁড়াবে না।"

পঞ্চায়েতের প্রধানের গাছ কাটার বিষয়ে বিজেপি নেতা অমিত প্রামাণিক বলেন, "বালি চুরি, পাথর চুরি, আবাসের ঘর চুরি, চাকরি চুরি করে এখন যে গাছ চুরি করবে এটাই তো স্বাভাবিক ব্যাপার। যে কৃষি খামারে গাছগুলো উধাও হয়েছে সেই কৃষি খামারটি বিডিও'র অধীনে পড়ে। বিডিওকে তদন্ত করে রিপোর্ট দিতে হবে। পাশাপাশি গাছ কাটার সরকারি অনুমোদন আছে কি না, বিডিও গাছ বিক্রির অনুমতি দিয়েছে কি না, গাছ বিক্রির কোনও টেন্ডার হয়েছিল কি না, সমস্তটা জানাতে হবে।"