সাসপেন্ডের হুঁশিয়ারি ! চাপড়ায় মহুয়ার গাড়ি ঘিরে বিক্ষোভ, কালো পতাকা নিয়ে পথ অবরোধ
তৃণমূলের টিকিটে নির্বাচিত হয়ে দল-বিরোধী কাজ করলে সাসপেন্ডের হুঁশিয়ারি দিয়েছিলেন জেলা সভাপতি মহুয়া মৈত্র ৷ পরদিন তাঁর ঘিরে বিক্ষোভে উত্তাল হয়ে উঠল চাপড়া ৷

Published : September 1, 2026 at 5:32 PM IST
চাপড়া, 1 সেপ্টেম্বর: তৃণমূল কংগ্রেসের কর্মসূচিতে যোগ দিতে এসে বিক্ষোভের মুখে পড়লেন তৃণমূলের জেলা সভাপতি ও কৃষ্ণননগর লোকসভার সাংসদ মহুয়া মৈত্র ৷ দলে থেকে দলের বিরুদ্ধাচরণ করলে সাসপেন্ড করার হুঁশিয়ারি দিয়েছিলেন গতকাল ৷ তারপরই মঙ্গলবার তাঁর গাড়ি ঘিরে বিক্ষোভ দেখানোর ঘটনা ঘটল ৷
তৃণমূল সাংসদের অভিযোগ, তাঁর গাড়ির সামনে কালো পতাকা হাতে শুয়ে পড়ে পথ অবরোধের চেষ্টা করা হয় ৷ বিক্ষোভকারীদের ‘চোর চোর’ স্লোগান দিতে থাকে ৷ এমনকী মহুয়ার গাড়ি লক্ষ্য করে কিল-ঘুষি মারা হয় এবং গাড়িতে ধাক্কাধাক্কিও করা হয় ৷ এদিন চাপড়ায় একটি দলীয় কর্মসূচিতে উপস্থিত ছিলেন চাপড়ার প্রাক্তন বিধায়ক তথা বর্তমান পলাশীপাড়ার বিধায়ক রুকবানুর রহমান ৷ এই রাজনৈতিক কর্মসূচি ঘিরে এলাকায় ব্যাপক উত্তেজনার সৃষ্টি হয় ৷
গতকালই মহুয়া একটি ভিডিয়ো বার্তায় হুঁশিয়ারি দিয়েছিলেন তৃণমূলের টিকিটে নির্বাচিত হয়ে বিজেপির সঙ্গে হাত মেলালে বা দলের বিরুদ্ধাচরণ করলে তাদের সাসপেন্ড করা হবে ৷ তিনি সোশাল মিডিয়ায় পোস্ট করেন, "কৃষ্ণনগর সাংগঠনিক জেলার ত্রিস্তরীয় পঞ্চায়েত সদস্য/ সদস্যাদের পরিষ্কার ভাবে জানিয়ে রাখি যে যারাই দলের সাথে বেইমানি করে বিজেপির সাথে হাত মিলিয়ে পঞ্চায়েত সমিতি বা গ্রাম পঞ্চায়েতে অনাস্থা প্রস্তাব আনছেন/ অংশগ্রহণ করছেন তাদের সকলকেই দল থেকে বহিষ্কার করা হবে।আগামী দিনে এই বেইমানরা যে কোনো দল করতে পারে সেটা তাদের ব্যাপার কিন্তু তৃণমূল কংগ্রেসের দরজা তাদের জন্য বন্ধ ৷"
এরপর এদিন তিনি বৈঠকের ডাক দিয়েছিলেন ৷ সভা শেষ করে সাংবাদিকদের তৃণমূল সাংসদ মহুয়া মৈত্র বলেন, "আজকে নদিয়ার চাপড়ায় যে কর্মিসভার ডাক দেওয়া হয়েছিল তা খুব ভালোভাবে সম্পন্ন হয়েছে ৷ আমরা যারা পুরনো তৃণমূল, তারা সকলে সঙ্ঘবদ্ধ হয়ে এই কর্মিসভায় এসেছি ৷ চাপড়ার প্রাক্তন বিধায়ক রুকবানুর রহমান তিনি নিজেও উপস্থিত রয়েছেন ৷"
অন্যদিকে কালো পতাকা দেখানো এবং মহুয়া মৈত্রকে গো ব্যাক স্লোগান প্রসঙ্গে তিনি বলেন, "আমি শুনেছি এগুলো সবাই জেবের শেখের লোকজন ৷ আমি বলবো উল্টে জেবের শেখকে কালো পতাকা দেখানো উচিত ৷ কারণ, চাপড়ায় তো আর বিজেপি নেই ৷ এখানে জেবের শেখ তৃণমূলের প্রতীকে জয়লাভ করেছে ৷ তারপরে তিনি বেইমানি করে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের হাত ছেড়ে দিয়ে বিজেপির বি-টিমে যোগদান করেছে ৷ তাহলে যে গদ্দারি করেছে তার বিরুদ্ধেই কালো পতাকা দেখালে আমার মনে হয় ভালো হতো ৷"
তিনি আরও বলেন, "আর যদি মনে করেন আমাকে কালো পতাকা দেখিয়ে আপনারা মিডিয়াতে একটু ফুটেজ নিতে পারবেন তাহলে সেটা কোনও বিষয় নয় ৷" এনসিপিআই প্রসঙ্গে বলেন, "আমরা কোর্টে গিয়েছিলাম ৷ এখনও তিন বছর সকলের জন প্রতিনিধি থাকার সময় রয়েছে ৷ কিন্তু তারা সাত দিন সময় চেয়েছে ৷ যার উত্তর দেওয়ার সে একদিনের মধ্যেই উত্তর দিয়ে দিতে পারে ৷ আসলে এঁরা সকলেই বেইমানি করেছে ৷ সকলকে দেখা যাচ্ছে নরেন্দ্র মোদির সঙ্গে ব্রেকফাস্ট করতে ৷"
গতকাল ভিডিয়ো বার্তায় নদিয়া জেলার সভাপতি মহুয়া মৈত্র বলেন, "অনেক জায়গায় জেলা পরিষদ থেকে যেমন তেহট্ট 1 নম্বর জেলা পরিষদে দেখতে পেলাম, তৃণমূলের টিকিটে নির্বাচিত সদস্যরা কোথাও লোভে, কোথাও ভয়ে, যে কোনও কারণেই হোক, দলের অনুমতি ছাড়া অনাস্থা প্রস্তাব আনছেন, এবং দলের পঞ্চায়েত সমিতি বা জেলা পরিষদে, পঞ্চায়েতে অনাস্থা এনে বিজেপির সঙ্গে হাত মেলাচ্ছেন এবং সভাপতি বা প্রধান আলাদা ভাবে গঠন করছেন ৷"
জেলা সভাপতি বলেন, "আমি স্পষ্ট বলে দিতে চাই, নদিয়া জেলা পরিষদে এরকম যারা করেছিল, তাদের প্রত্য়েককে সাসপেন্ড করা হয়েছে ৷ তেহট্ট এক নম্বর ব্লকের পঞ্চায়েত সমিতিতে ছ'জন দলের বাইরে গিয়ে বিজেপির সঙ্গে হাত মিলিয়ে অনাস্থা আনে, তাদের এখুনি সাসপেন্ড করা হল ৷"
সাংসদের বক্তব্য, "আপনাদের সতর্ক করতে চাই, আপনারা আগামী দিনে বিজেপি করবেন কি বালিশ করবেন কি কোল বালিশ নাকি এনসিপিআই করবেন, কোন চোরের কোন পার্টি করবেন, সেটা আপনাদের বিষয়, কিন্তু যদি আপনি তৃণমূল কংগ্রেসের টিকিটে নির্বাচিত হয়ে দলের প্রধান বা সভাপতির বিরুদ্ধে অনাস্থা আনতে বিজেপির সঙ্গে হাত মিলিয়ে কোনও প্রস্তাবে সই করেন, দলের বিরুদ্ধে ভোট দেন, তাহলে নিশ্চিত যে আপাকে সাসপেনন্ড করা হচ্ছে ৷ প্রতিটি পঞ্চায়েতে আমি সাসপেন্ড করব ৷"

