ETV Bharat / state

রক্তাক্ত নানুর ! বীরভূমে তৃণমূলের গোষ্ঠী সংঘর্ষে মৃত 1, আহত 10

ফের রক্তাক্ত বীরভূমের নানুর ৷ খুন তৃণমূল নেতা ৷ রাতে পার্টি অফিস থেকে বাড়ি ফেরার পথে মাথায় শাবল দিয়ে আঘাত করা হয় বলে অভিযোগ ৷

nanoor in birbhum
তৃণমূলের গোষ্ঠী সংঘর্ষে মৃত 1, আহত 5 (ইটিভি ভারত)
author img

By ETV Bharat Bangla Team

Published : December 6, 2025 at 7:04 AM IST

3 Min Read
Choose ETV Bharat

নানুর, 6 ডিসেম্বর: তৃণমূলের গোষ্ঠী সংঘর্ষে নানুরে পিটিয়ে খুন তৃণমূল নেতাকে ৷ মৃতের নাম রাসবিহারী সর্দার ওরফে দোদন (50) । গুরুত্বর জখম কমপক্ষে 10 জন ৷

নিহত ব্যক্তি তৃণমূল বীরভূম জেলা পরিষদের সভাধিপতি ফায়জুল হক ওরফে কাজল শেখের অনুগামী হিসাবে পরিচিত ৷ মৃত ও আহতদের সকলকে ভিন জেলায় অর্থাৎ পূর্ব বর্ধমানের মঙ্গলকোট ব্লক হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয় ৷ মৃত তৃণমূল নেতার দেহ ময়নাতদন্তের জন্য মঙ্গলকোট মহকুমা হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়েছে ৷

বহুদিন রাজনৈতিক হানাহানি থেকে মুক্ত ছিল একদা বীরভূমের সন্ত্রাসের 'আঁতুড় ঘর' হিসেবে পরিচিত নানুর ৷ কিন্তু শুক্রবার রাতে সেই নানুর ফের রক্তাক্ত। এদিন জেলায় ছিল নবান্নের আমেজ ৷ সেই কারণে নানুরের থুপসারা অঞ্চলের পাতিছাড়া গ্রামের নাটমন্দিরে চলছিল আড্ডা ৷

মৃতের ছেলে মানস সর্দার বলেন, "গ্রামে নবান্ন উপলক্ষে অন্নপূর্ণা ঠাকুর আনা হয়েছিল । সেইজন্য একটা অনুষ্ঠান হয় ৷ সেই পুজোতে চাঁদা তোলাকে কেন্দ্র করে একটা অশান্তি তৈরি হয় । আমার বাবা তৃণমূল কংগ্রেসের কর্মী । তিনি ছিলেন তৃণমূল নেতা কাজল শেখের অনুগামী । অন্যদিকে যারা বাবাকে তুলে নিয়ে গিয়েছিল তারা তৃণমূল কংগ্রেসের ব্লক সভাপতি বুদ্ধদেব মেটের লোকজন । তিনি আবার অনুব্রত মন্ডলের ঘনিষ্ঠ । তৃণমূল কংগ্রেসে এই অশান্তির জেরে দলের লোকজন আমার বাবাকে দলবল নিয়ে তুলে নিয়ে চলে যায় । এরপর থেকে গণপিটুনি দিয়ে তাকে মেরে ফেলে । সেখানেই বাবার মৃত্যু হয় । এরা সবাই তৃণমূল কংগ্রেসের ব্লক সভাপতি বুদ্ধদেব মেটের অনুগামী বলে পরিচিত । আমরা যখন দেখতে পাই বাবা নেই ৷ আমরা সবাই মিলে বাবাকে বাঁচানোর জন্য যখন যাই, তখন দেখি বাবার রক্তাক্ত দেহ পড়ে আছে । তাকে লাঠি, বাঁশ ও শাবল ইত্যাদি দিয়ে থেঁতলে খুন করা হয় । তারা প্রায় পঞ্চাশ ষাট জন ছিল । প্রত্যেকের হাতেই কমবেশি অস্ত্র ছিল । এরপর তারা আমাদেরকেও বেধড়ক মারধর করে । আমরা 10 থেকে 12 জন আহত হয়েছি ৷"

জানা গিয়েছে, মৃত-সহ জখম ব্যক্তিরা বীরভূম জেলা পরিষদের সভাধিপতি ফায়জুল হক ওরফে কাজল শেখের অনুগামী ৷ আর যারা হামলা চালিয়েছে তারা প্রাক্তন জেলা পরিষদের পূর্ত কর্মাধ্যক্ষ আব্দুল কেরিম খানের অনুগামী হিসাবে পরিচিত । যিনি অনুব্রত মণ্ডল ঘনিষ্ট ৷ অর্থাৎ আসন্ন বিধানসভা নির্বাচনে প্রাক্কালে তৃণমূলের গোষ্ঠী সংঘর্ষে ফের উত্তপ্ত বীরভূমের নানুর ৷

ঘটনার পরে পরেই দেহটি জেলার বোলপুর মহকুমা হাসপাতালে না-নিয়ে এসে, নিয়ে যাওয়া হয়েছে পূর্ব-বর্ধমান জেলার মঙ্গলকোট মহকুমা হাসপাতালে। আর আহতদেরও চিকিৎসা চলছে মঙ্গলকোট ব্লক প্রাথমিক স্বাস্থ্যকেন্দ্রে ৷

ঘটনার পর থেকেই এলাকায় ব্যপক উত্তেজনা ছড়ায় ৷ পরিস্থিতি সামাল দিতে গ্রামে গ্রামে চলছে বিশালপুলিশি বাহিনী ও কমব্যাট ফোর্সের টহলদারি।স্থানীয়দের অভিযোগ, তৃণমূলের গোষ্ঠী দ্বন্দ্বের জেরেই এই খুন ৷ যদিও, এই ঘটনায় এখনও পর্যন্ত বীরভূম জেলা তৃণমূলের কোন শীর্ষ নেতা মুখ খুলতে চাননি ৷

কিছুদিন আগেই হাওড়ার নিশ্চিন্দা সাপুইপাড়া বসুকাটি গ্রাম পঞ্চায়েতের প্রধান দেবব্রত মণ্ডল ও তাঁর সহযোগীর উপর হামলা চালায় দুষ্কৃতীরা। 27 নভেম্বর রাতে বাড়ির কাছে আচমকাই তাঁদের উপর পর পর গুলি চালায় দুষ্কৃতীরা। পরে ঘটনাস্থলের সিসিটিভি ফুটেজ খতিয়ে এক দুষ্কৃতীর পরিচয় জানতে পারে পুলিশ ৷