রাজ্যসভার 4 আসনে প্রার্থী ঘোষণা তৃণমূলের, টিকিট পেলেন কোয়েল-রাজীব-বাবুল-মেনকা
বিধানসভা নির্বাচনের আগে রাজ্যসভার চার আসনে প্রার্থী ঘোষণা করল তৃণমূল । বিশিষ্ট আইনজীবী থেকে শুরু করে রাজ্য পুলিশের প্রাক্তন ডিজিকে টিকিট দিয়ে চমক দিল বাংলার শাসক শিবির ।

Published : February 27, 2026 at 10:55 PM IST
কলকাতা, 27 ফেব্রুয়ারি: রাজ্যসভা নির্বাচনের প্রার্থী তালিকা ঘোষণা করল রাজ্যের শাসক দল তৃণমূল কংগ্রেস। শুক্রবার রাতে দলের তরফে সোশল মিডিয়ায় চার প্রার্থীর নাম ঘোষণা করা হয়েছে। এবারের তৃণমূলের প্রার্থী তালিকায় বড়সড় চমক দেওয়া হয়েছে। শাসক দলের টিকিট পেয়েছেন টলিউডের জনপ্রিয় অভিনেত্রী কোয়েল মল্লিক, পশ্চিমবঙ্গের পুলিশের প্রাক্তন ডিজি রাজীব কুমার, রাজ্যের বর্তমান তথ্যপ্রযুক্তি মন্ত্রী বাবুল সুপ্রিয় এবং সুপ্রিম কোর্টের প্রখ্যাত আইনজীবী মেনকা গুরুস্বামী।
এদিন রাতে তৃণমূলের তরফে ওই পোস্টের মাধ্যমে এই চার হেভিওয়েট প্রার্থীর নাম প্রকাশ্যে আনা হয়। এই নতুন প্রার্থীদের আন্তরিক অভিনন্দন ও আগাম শুভেচ্ছা জানানো হয়েছে। তার সঙ্গে লেখা হয়েছে, তৃণমূল কংগ্রেসের লড়াইয়ের ইতিহাস দীর্ঘ । দেশের প্রতিটি নাগরিকের অধিকার ও সম্মান রক্ষা করতে তৃণমূল দায়বদ্ধ । এই প্রার্থীরা আগামিদিনেও তা সফলভাবে এগিয়ে নিয়ে যাবেন বলে দল আশাবাদী।
We are pleased to announce the candidature of Babul Supriyo, Rajeev Kumar (Former DGP, West Bengal), Menaka Guruswamy and Koel Mallick for the upcoming Rajya Sabha elections.
— All India Trinamool Congress (@AITCofficial) February 27, 2026
We extend our heartfelt congratulations and best wishes to them. May they continue to uphold Trinamool’s…
রাজনৈতিক মহলের মতে, শাসক দলের এই সিদ্ধান্ত বেশ তাৎপর্যপূর্ণ। রাজ্যসভার সাংসদ হিসেবে মনোনীতদের মধ্যে অন্যতম উল্লেখযোগ্য হলেন রাজ্যের প্রাক্তন ডিজিপি রাজীব কুমার। রাজ্যের প্রশাসনিক স্তরে দীর্ঘদিন গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব সামলানোর পর এবার তাঁর এই রাজনৈতিক পদার্পণ বাংলার রাজনীতিতে যথেষ্ট প্রাসঙ্গিক। রাজ্য পুলিশের প্রধান হওয়ার আগে কলকাতা ও বিধাননগর পুলিশের কমিশনারের দায়িত্বও পালন করেছেন রাজীব । সে সময় তাঁকে নিয়ে একাধিক বিতর্ক হয়েছে । বিরোধীরা বারবার অভিযোগ করেছে, রাজীবকে ব্যবহার করে একাধিক অনৈতিক কাজ করেছে রাজ্যের শাসক দল । এবার এ হেন রাজীবই যাচ্ছেন সংসদের উচ্চকক্ষে ।
অন্যদিকে, বর্তমানে রাজ্যের তথ্যপ্রযুক্তি দফতরের মন্ত্রী বাবুল সুপ্রিয়কেও রাজ্যসভায় পাঠাতে চলেছে দল। তৃণমূল কংগ্রেসে যোগ দেওয়ার পর বিধায়ক ও রাজ্যের মন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন তিনি। তার আগে বিজেপির টিকিটে পরপর দু'বার আসানসোল আসন থেকে লোকসভা নির্বাচনে জিতে কেন্দ্রীয় সরকারে মন্ত্রী হয়েছিলেন । এবার তাঁকে পুনরায় সর্বভারতীয় রাজনীতির বড় মঞ্চে সুযোগ দিতে চলেছে ঘাসফুল শিবির।
তবে এবারের প্রার্থী তালিকায় সবথেকে বড় চমক হিসেবে উঠে এসেছে টলিউডের প্রথম সারির অভিনেত্রী কোয়েল মল্লিকের নাম। এর আগে তৃণমূল কংগ্রেসের টিকিটে একাধিক তারকাকে সংসদে প্রতিনিধিত্ব করতে দেখা গিয়েছে। কিন্তু কোয়েল মল্লিকের সক্রিয় রাজনীতিতে সরাসরি এই যোগদানকে বিশেষ গুরুত্বপূর্ণ বলে মনে করা হচ্ছে । বিনোদন জগতের এই উজ্জ্বল নক্ষত্র এবার সংসদের উচ্চকক্ষে বাংলার হয়ে প্রতিনিধিত্ব করবেন। এর আগে তাঁর বাবা রঞ্জিত মল্লিককে কলকাতার শেরিফ পদে বসিয়েছিল রাজ্য প্রশাসন । মল্লিক পরিবারের সঙ্গে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের সম্পর্ক বেশ গভীর বলেই মনে করে রাজনৈতিক মহল । সম্প্রতি ভবানীপুরের মল্লিক বাড়িতে গিয়েছিলেন তৃণমূলের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় ।
পাশাপাশি, সুপ্রিম কোর্টের বিশিষ্ট আইনজীবী মেনকা গুরুস্বামীকে রাজ্যসভার প্রার্থী করে আইনি ও সাংবিধানিক লড়াইয়ে নিজেদের অবস্থান জাতীয় স্তরে আরও মজবুত করতে চাইছে শাসক দল। দেশের শীর্ষ আদালতে একাধিক গুরুত্বপূর্ণ ও ঐতিহাসিক মামলায় তাঁর আইনি লড়াই তাঁকে বিশেষ পরিচিতি এনে দিয়েছে। সম্প্রতি আইপ্যাকের দফতরে তল্লাশি সংক্রান্ত ইডির মামলাতেও মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের হয়ে সওয়াল করেছেন মেনকা। এর আগে 2018 সালে অরুন্ধতি কাটজুকে সঙ্গে নিয়ে সমকামিতা সংক্রান্ত এক ঐতিহাসিক মামলা জিতে দেশের নজর কেড়েছিলেন মেনকা । এই দুই আইনজীবীর সওয়ালের পর সুপ্রিম কোর্ট রায় দেয় সমকামিতা অপরাধ বলে গন্য করা যাবে না ।
এদিকে, রাজ্যসভার আসন্ন নির্বাচনকে কেন্দ্র করে রাজনৈতিক মহলে ইতিমধ্যেই তৎপরতা শুরু হয়েছে। সমাজের বিভিন্ন স্তরের বিশিষ্টজনদের, বিশেষ করে প্রশাসন, বিনোদন, আইন এবং রাজনীতির অভিজ্ঞ মুখদের এক ছাতার তলায় এনে রাজ্যসভায় দলের অবস্থান সুদৃঢ় করতেই তৃণমূল নেতৃত্বের এই মাস্টারস্ট্রোক বলে মনে করছে ওয়াকিবহাল মহলের একটা বড় অংশ ।

